আজনাদাইনের যুদ্ধ ও রোমানদের অস্থিরতা

আজনাদাইনের যুদ্ধ ও রোমানদের পরাজয় – হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. ইরাকের দায়িত্ব হযরত মুসান্না বিন হারিসা রা. এর নিকট দিয়ে ইরাক ত্যাগ করে শামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন।

শামের সে সময় আরো বেশ কিছু মুসলিম সিপাহসালার নিজেদের বাহিনী নিয়ে চূড়ান্ত যুদ্ধের জন্য অপেক্ষা করছিরেন।

আজনাদাইনের যুদ্ধ

সর্বপ্রথম খালিদ রা. শামে পৌছে বসরা জয় করেন। এরপর তিনি অন্যান্য মুসলিম আমিরদের সাথে ময়দানে মিলিত হন।

যারা হলেন, হযরত আবু উবায়দা ইবনে জাররাহ রা.। হযরত শুরাহবিল বিন হাসানা রা.। হযরত ইয়াজিদ ইবনে আবু সুফিয়ান রা.।

রোমান সম্রাট হিরাক্লিয়াসের ভাই ৯০ হাজার সৈন্য নিয়ে ফিলিস্তিনের রামাল্লা ও বাইতে জিবরিনের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থান করছিল।

এই সৈন্য শামে নিযুক্ত অন্য একজন মুসলিম সিপাহসালার হযরত আমর ইবনে আস রা. এর মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত হয়ে ছিল।

রোমানদের গুপ্তচর

আজনাদাইনের যুদ্ধ – চূড়ান্ত যুদ্ধের পূর্বে হিরাক্লিয়াসের ভাই এক আরবকে গুপ্তচর হিসেবে মুসলিম শিবিরে পাঠায়। সেই ব্যক্তি ফিরে গিয়ে বললো,

তারা রাত কাটায় ইবাদতে আর দিন কাটায় অশ্বপিঠে যুদ্ধ করে।

পাশাপাশি সে এটাও বলে, তারা নিয়ম-কানুন মেনে চলার প্রতি এতটাই যত্নবান যে, যদি শাসনের ছেলে চুরি করে তাহলে তার হাত কেটে ফেলা হয়।

সে যদি কোনো নারীর সাথে অপকর্ম করে, তাহলে তাকে পাথর মেরে হত্যা করা হবে।

এই কথা শুনে রোমান সেনাপতি বললেন, তাহলে তো আমার তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা উচিৎ নয়। হায়! যদি আমাকে তাদের সাথে লড়াই না করতে হতো!

যুদ্ধক্ষেত্র

মুসলিম বাহিনীগুলো আজনাদাইন নামক এলাকায় এসে উপস্থিত হলো। হযরত আমর ইবনে আস রা. ও নিজের বাহিনী নিয়ে এখানে উপস্থিত হলেন।

এ সময় মুসলমানদের সম্মিলিত বাহিনীর মুজাহিদদের সংখ্যা ছিল ৩০ হাজারের মতো। মুসলিম আমিরগণ একমত হয়ে খালিদ রা. কে যুদ্ধের আমির নির্বাচন করা হয়।

হযরত  আবু উবায়দা ইবনে জাররাহ, শুরাহবিল বিন হাসানা, আমর ইবনে আস ও ইয়াজিদ ইবনে আবু সুফিয়ান রা. তার অধীনে যুদ্ধ করছিলেন।

শেষ পর্যন্ত রোমানরা পরাজয় বরণ করে। হিরাক্লিয়াসের ভাই তাজারিক নিহত হয়। যুদ্ধের ময়দানে মুসলমানরা বিজয়লাভ করে।

এরপর খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. এগিয়ে যান ইয়ারমুকের প্রাঙ্গনের দিকে।

তথ্যসুত্র

মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস। খন্ড ৩। পৃষ্ঠা ৯১-৯২

আবু বকর সিদ্দিক। পৃষ্ঠা ৫১৪-৫১৬

আরো পড়ুন

মালেক বিন নুয়াইরার সাথে যুদ্ধ

মুসলমানদের জন্য আবু বকর রা. এর সম্পদ ব্যয়

মক্কী ক্যালেন্ডার কাকে বলে

কেয়ামত সম্পর্কে কুরআনে কি বলা হয়েছে

বিশেষ দ্রষ্টব্য: আমাদের লেখাগুলো সূচিপত্র অনুযায়ী দেখুন www.subject.arhasan.com এই ওয়েবসাইটে। আমরা কোন প্রকাশনীর বই রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করি তা জানতে ভিজিট করুন www.arhasan.com/book এই ওয়েবসাইটে। আমাদেরকে গুগল নিউজে ফলো করতে পারেন এই লিংক থেকে

ইরাকের দায়িত্ব হযরত খালিদ রা. কাকে দিয়েছিলেন?

হযরত মুসান্না বিন হারিসা রা. কে

আজনাদাইনের যুদ্ধে দুই পক্ষের সৈন্য সংখ্যা কত ছিল?

রোমানদের সৈন্যসংখ্যা হলো ৯০ হাজার। আর মুসলিমদের সৈন্যসংখ্যা হলো ৩০ হাজার।

আমি একজন ইসলামিক আলোচক, লেখক। ছোটবেলায় পড়ালেখা করেছি কওমী মাদ্রাসায়। পরবর্তীতে সাইন্স বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে কৃতিত্বের সাথে পাশ করি। বর্তমানে আমি ডিপ্লোমা ইন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ অধ্যায়নরত। অবসরে আমি বই পড়তে পছন্দ করি। নতুন কিছু শিখতে, নতুন কিছু জানতে ভালোবাসি। আমার ইচ্ছা, ভালো মানুষ হয়ে সমাজকে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে বিরত রাখার চেষ্টা করা।

https://www.arhasan.com