বছরে কয়েকবার যে-ই ইস্যুটি সামনে আসে, সেটি হলো শাতিম ইস্যু । নবীজি ﷺ কে গালি দেওয়া, তার ব্যাপারে বিরূপ মন্তব্য করা, উম্মাহাতুল মুমিনিনদের নিয়ে কটূক্তি করা, আল্লাহকে গালি দেওয়াসহ অনেকগুলো বিষয় এই অপরাধের অন্তর্ভুক্ত।
তবে এর সূচনাটা হয় ইসলাম নিয়ে কটূক্তি করেই। দেশে ইসলাম নিয়ে বাজে মন্তব্য করার ব্যক্তিদের অভাব নেই।
এর বড়ো একটি অংশ বাঙ্গালি মধ্যবিত্ত শ্রেণি। এই অংশটি সবচেয়ে বেশি হিন্দুদের আদর্শের কাছাকাছি।
উপমহাদেশের হিন্দুদের আধিপত্য সাহিত্য এবং সামাজিক উৎসবে। চিন্তাধারার দিক থেকে উপমহাদেশে সেক্যুলারিজমের জয়জয়কার।
তাই শুরু থেকেই শাতিমদের দুইটা আদর্শ সামনে রেখে অগ্রসর হতে হয়। এক, হিন্দুত্ববাদ। দুই, সেক্যুলারিজম।
তাদের সমস্ত কার্যক্রম, চিন্তাধারা, কথাবার্তা, আচার-ব্যবহার এই দুটো আদর্শকে সামনে রেখেই আবর্তিত হয়।
তাদের পদক্ষেপগুলো বোঝা খুবই সহজ। চিন্তার পদস্খলন ঘটে প্রাথমিকভাবে সাহিত্যের বই আওড়িয়ে কিংবা বঙ্গীয় নাস্তিকদের ইসলাম নিয়ে মন্তব্য শুনে।
যে-ই ব্যক্তির একটি নির্দিষ্ট খাতে জ্ঞান না থাকে তাকে যখন উক্ত খাতের ব্যাপারে কিছু কঠিন প্রশ্ন করা হয় তখন স্বাভাবিকভাবেই সে হতভম্ব হয়ে যায়। বুঝে উঠতে পারে না, তার কি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত!
বাংলাদেশি শহুরে নামকাওয়াস্তে মুসলিমরা ইসলামী আকিদাহ এর ক্ষেত্রে বড়োই অসহায়।
তারা শৈশবে মা-বাবা কিংবা মুরুব্বিদের থেকে ‘আল্লাহ, রাসুল, ইসলাম, নামাজ, রোজা, হজ’ শব্দগুলো শুনেছে।
ইসলামের সাধারণ কিছু উৎসবকেও দেখেছে। কিন্তু আল্লাহর আসল পরিচয়, নবীজি ﷺ এর জীবনী, নামাজ-রোজা-হজ-যাকাতের গুরুত্ব ও সামাজিক প্রয়োজনীয়তা, ইসলাম কি ও কেন, কুরআন-হাদীসের ফরজ ইলম না থাকার কারণে আজীবন অন্ধকারেই থাকে।
এই অন্ধকারাচ্ছন্ন জীবনে আরও অন্ধকার এনে দেয় স্কুল-কলেজ-ভার্সিটিতে পড়াকালীন নাস্তিক শিক্ষক, প্রফেসর ও বন্ধুবান্ধবরা।
মানবিক একটি দোষ মানুষকে অপরাধপ্রবণ করে তোলে। তা হলো সর্বদা প্রাসঙ্গিক থাকা, প্রশংসা পাওয়া ইত্যাদি।
অনলাইনে এই দোষটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। মানুষ ভাইরাল হওয়ার জন্য ময়লার টাংকির মধ্যে মাথা প্রবেশ করাতেও দ্বিধাবোধ করে না।
সে নিজের মর্যাদা বুঝতে পারে না, তাইতো নিজেকে সে বিক্রি করার চেষ্টা করে।
2
নাস্তিক বামপন্থিদের সবচেয়ে বড়ো দুর্বলতা হলো তারা মরতে ভয় পায়। বিপরীতে একজন মুসলিমের সবচেয়ে বড়ো কাঙ্ক্ষিত বিষয় হলো মৃত্যু।
এর মাধ্যমে মুসলমান আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ লাভ করতে পারে। দুনিয়ার তুচ্ছ জীবনকে লাথি মেরে দূরে সরিয়ে দেওয়া যায়।
শাতিমে রাসূল বা রাসূলকে গালি দেওয়া ব্যক্তির ব্যাপারে যখন বলা হয়, “যে নবীকে গালি দেবে তার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড” তখন তার গলদঘর্ম শুরু হয়ে যায়।
আজকে যদি কোনো শাতিমকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয় তাহলে উক্ত শাতিমের পক্ষে দুই শ্রেণীর মানুষ দাঁড়াবে।
এক, শাতিম বা নাস্তিক ব্যক্তি। দুই, মুসলিম দাবিদার অথচ ইসলামী আকিদা শিখতে না পারা সেক্যুলার।
এই উভয়শ্রেণীকেই আদৌ মুসলিম বলা যায় না। নাস্তিকের তো কোনো ধর্মই নেই। সেক্যুলারদেরও আসলে কোনো ধর্ম নেই। তাই সেক্যুলার ব্যক্তি যতই নিজেকে মুসলিম দাবি করুক তার দাবি গ্রহণযোগ্য নয়।
সর্বশেষ একটি প্রশ্ন আসতে পারে, রাসূলকে গালি দেওয়ার মতো এই দুঃসাহসের শেষ কোথায়? সর্বদাই কি এটি ঘটতে থাকবে?
যার ইচ্ছা সে অনলাইনে বা অফলাইনে নবীজির ব্যাপারে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করবে? এই প্রশ্নেরও উত্তর আছে।
সকল জিনিসেরই শেষ থাকতে হয়। সমস্যা হলো, সমাধানকে কি আমরা গ্রহণ করতে প্রস্তুত কিনা! শাতিমে রাসূলের ব্যাপারে স্পষ্ট বিধান হলো, হত্যা।
শক্তি সঞ্চয় করে সামাজিকভাবে শক্তিশালী হওয়া এবং শাতিমদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া। যাতে দ্বিতীয়বার নতুন কোনো শাতিম মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে না পারে।
বর্তমান সময়ে শাতিমদেরকে সামাজিকভাবে যখন চাপে ফেলা হয় তখন এক শ্রেণীর লেবাসধারী মুসলিমরাই শাতিমদের সেফ এক্সিট দেয়। এটি মারাত্মক গর্হিত কাজ।
দুনিয়াতে কোনো স্বার্থের কারণে না হয় শাতিমকে সাহায্য করা হলো। কিন্তু আখিরাতে? আল্লাহ যখন জিজ্ঞাসা করবেন, কেন শাতিমদের সাহায্য করা হলো? তখন জবাব কি হবে?
বঙ্গদেশে হিন্দুত্ববাদ এবং সেক্যুলারিজম মারাত্মক দুটি সমস্যা। একটি অন্যটির সাথে উৎপ্রতভাবে জড়িত। এই দুটো জিনিসকে যতদিন পর্যন্ত নির্মূল করা না হবে ততদিন পর্যন্ত শাতিম ইস্যু থাকবেই। এটি পুরোপুরি বিলুপ্ত হবে না।