ধর্মের ইতিহাস – বিশ্বে এখন সেক্যুলারিজমের জয়জয়কার। এই সেক্যুলারিজমের হাত ধরেই বিশ্বে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, লিবারিলিজম, হিউম্যানিজম সহ আরও বিভিন্ন তন্ত্র-মন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
কাফিররা এসব তন্ত্র-মন্ত্রকে নিজেদের করে নিয়েছে এবং চিরাচরিত স্বভাব অনুযায়ী তারা অন্য জাতির উপরও এসব জিনিস চাপিয়ে দিয়েছে।
সেক্যুলারিজমের মূল ভিত্তি হলো ধর্মনিরপেক্ষতা, ধর্ম ও রাষ্ট্র আলাদা হওয়া এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা।
এককথায় বললে ধর্ম যার যার ব্যক্তিগত আর রাষ্ট্রের কোনো ধর্ম নেই। রাষ্ট্র সবার।
শুনতে খুবই চটকদার মনে হলেও এর পেছনে আছে ফাঁদ, ঘোরতর অন্ধকার, অনিঃশেষ পথ।
আমরা এই লেখাতে এই ফাঁদ গুলোই খুঁজে বের করবো। অন্ধকারে মশাল জ্বেলে আলোর খোঁজ করব ইনশাআল্লাহ।
ধর্মের সূচনা – ধর্মের ইতিহাস
সর্বপ্রথম হজরত আদম আ. ও তার স্ত্রী হাওয়া আ. এই পৃথিবীতে আসেন। প্রথম মানব তারা। পৃথিবীতে তারা ছিলেন তাওহিদ ও একত্ববাদের প্রচারক।
তাদের সন্তানদের নিকট আল্লাহর একত্ববাদের দাওয়াত পৌঁছে দিয়েছেন। স্রষ্টাকে চিনিয়েছেন পরবর্তী প্রজন্মকে। তারা ছিলেন আল্লাহর একত্ববাদের অনুসারী।
এই সময়টাতে শয়তানও পৃথিবীতে এসেছিল। সে মানুষকে প্ররোচনা দিয়ে প্রথম খুন করালো। বিখ্যাত হাবিল-কাবিলের ঘটনা।
একটা সময় শয়তান মানুষকে ধোঁকা দিয়ে আল্লাহর একত্ববাদ থেকে দূরে সরিয়ে দিল। সে মানুষকে মাটি ও পাথর দ্বারা মূর্তি বানানো শেখালো।
সেটাকেই আবার দেবতা হিসেবে পূজা করা শেখালো। আল্লাহ আবার নবী প্রেরণ করলেন পৃথিবীতে।
নুহ আ. সাড়ে নয়শত বছর মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করেন। একত্ববাদের দাওয়াত দেন। অল্প কিছু মানুষ ব্যতীত সকলেই তাকে অস্বীকার করে।
আল্লাহ পৃথিবীতে মহাপ্লাবনের মাধ্যমে জনবসতি ধ্বংস করে দেন। বেঁচে থাকা আল্লাহর বান্দাদের দিয়ে নতুন করে পৃথিবী আবার আবাদ হয়।
একটা সময় আবার মানুষ শয়তানের ধোঁকায় পড়ে যায় ও পথভ্রষ্ট হয়।
হজরত হুদ, লুত, সালেহ, ইবরাহিম, ইসমাইল, ইসহাক, ইউসুফ, মুসা আ. সহ বহু নবীদেরকে এই সময়ে পৃথিবীতে পাঠালেন।
মুসা আ. এর মাধ্যমে বনি ইসরাইল (ইসহাক আ. এর সন্তানদের বংশধর) একটি পূর্ণাঙ্গ শরীয়াহ পেল। তাওরাত কিতাব আল্লাহর পক্ষ হতে নাজিল হলো।
কিন্তু তারা এটি পরিপূর্ণভাবে মেনে নিতে পারে নি। তারা মুসা আ. এর জীবিত থাকাবস্থায়ই কিতাবকে বিকৃত করা শুরু করল।
পরবর্তী সময়ে তারা পুরোপুরি তাদের ধর্মকে বিকৃত করে। একটা সময় আল্লাহ ইহুদিদের উপর অত্যাচারী রাজা চাপিয়ে দেন। এই সময় তাদের নিকট বহু নবী পাঠানো হয়েছিল।
যেমন, হজরত শামুয়েল, দাউদ, সুলায়মান, জাকারিয়া, ইয়াহইয়া আ. প্রমুখ।
পরবর্তী সময়ে হজরত ঈসা আ. কে আল্লাহ প্রেরণ করেন। তাকে ইনজিল কিতাব দেওয়া হয় শরীয়াহ হিসেবে।
কিন্তু ঈসা আ. এর পরবর্তী সময়ে তার ধর্মকে বিকৃত করা হয়। তাই আল্লাহ মুহাম্মাদ সা. কে পাঠান। উনার উপর নাজিল করা করা হয় কুরআন।
পূর্বেকার সময়ে শাসনব্যবস্থা
পৃথিবীর সূচনালগ্ন থেকেই নবীরা মানুষকে আল্লাহর একত্ববাদের দাওয়াত দিয়েছেন। এই পুরো সময়টার অধিকাংশ কালেই কাফিররা শাসক হিসেবে ছিল।
কাফিররা ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ। অনেক নবী কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন। তাদেরকে পরাজিত করেছেন।
দেশে শরীয়াহ শাসন চালু করেছেন। কোথাও নবীর পরবর্তী প্রজন্ম শরীয়াহ শাসন চালু করেছে।
আবার কোনো কোনো নবী শাসক হিসেবেই প্রেরিত হয়েছিলেন। যেমন, হজরত দাউদ ও সুলায়মান আ.। তারা ভূখণ্ডে শরীয়াহ শাসন চালু করেছেন।
সর্বশেষ মুহাম্মাদ সা. শরীয়াহ শাসন চালু করেছেন এবং তার পরবর্তী ব্যক্তিরা পৃথিবীতে শরীয়াহ শাসন জারি রেখেছেন শতাব্দীকাল ব্যাপী।
বিশ্বে সুদীর্ঘকাল পর্যন্ত ইসলাম ও খ্রিষ্টধর্ম শাসকের ভূমিকায় ছিল। তাই এই দুটোকে প্রথমে ভালোভাবে জানা দরকার।