হীনমন্যতা থেকে মুক্তি

হীনমন্যতা থেকে মুক্তি – সকালবেলা বইটা নিয়ে আবার বসলাম। প্রতিদিনই কয়েক পৃষ্ঠা করে পড়ার চেষ্টা করি। প্রতিদিন পড়ি। থমকে যাই।

আবার শুরু করি। আবার থমকে যাই। বারবার নিজেকে প্রশ্ন করি, এত যে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা শেষ করছো, আদৌ কি আমল করেছ একটাও?

তারপরও পড়ি। অনেকটা পড়ার জন্য পড়া আরকি। যদি কোনোদিন কাজে লাগে, তাহলো তো সোনায় সোহাগা। ইবনে জাওযী রহ. এর এই বইটা একবার টেলিগ্রামে একটি গ্রুপের মাধ্যমে পিডিএফ পেয়েছিলাম।

নাম দেখেই চমকে উঠলাম। এমনও কি নাম হয়! তারপরও ওপেন করলাম নিতান্তই কৌতুহলবশত। প্রথম প্রথম এটিকে শুধুমাত্র একটি “সূফিমূলক” বই মনে করি। কয়েক পৃষ্ঠা পড়ার পর যেন এটিতে ডুবে যাই।

প্রতিদিন একটু একটু করে অগ্রসর হচ্ছি। টপিকগুলো এতটাই ভালো লাগলো যে, মনে হলো একটি হার্ড কপি সংগ্রহে থাকা দরকার।

পিডিএফ দিয়েই প্রায় ৭০% বই পড়েছি। বইটাও ছোট। ১০০ পৃষ্ঠার। এরপর ওয়াফিলাইফ থেকে হার্ড কপি সংগ্রহ করে এনে প্রথম থেকে আবার মুতাআলা শুরু করি।

প্রতিটা টপিক শেষ হওয়ার পর নিজেকে প্রশ্ন করতাম, তুমি কি এগুলো মান্য করো? না মানলে কেন মান না?

2 – হীনমন্যতা থেকে মুক্তি

যাই হোক, আজকের বিষয়টাতে আসি। আজকের টপিকের শিরোনাম ছিল, ‘আমাকে দিয়ে কিছু হবে না।’ প্রায়ই সময় কথাটা আমরা ব্যবহার করি।

এই কথাটা মাদ্রাসায় থাকাবস্থায় তালিবুল ইলমদের থেকে কম শুনেছি। বেশি শুনেছি আমার ইন্সটিটিউটের ক্লাসমেটদের নিকট হতে।

প্রত্যেককেই তার কারণ জিজ্ঞাসা করতাম। ঘুরে ফিরে একই কথা, চাকুরি কবে পাব? ইনকাম কবে করবো? সবচেয়ে আজব লাগতো তাদের স্রষ্টার প্রতি রিযিক নিয়ে ভরসা না করতে দেখে। (هداهم الله) আজকের পড়া টপিকের কিছু বিষয় নিয়ে বলি।

ইবনে জাওযী রহ. এখানে কয়েকটা কথা পয়েন্ট আকারে লিখে দিয়েছেন। এসব মানলেই যথেষ্ঠ। এছাড়া আর নতুন ডোজ প্রয়োজন নেই।

১. হীনমন্য লোকদের এড়িয়ে চলা

২. উদ্যমী লোকদের সাথে চলা

৩. হীনমন্যতার পরিণাম নিয়ে ভাবা

৪. কর্মঠ, উদ্যমের সফলতা নিয়ে ভাবা

ব্যস, এই পয়েন্টগুলো মানলেই যথেষ্ঠ। একটা গল্প মনে পড়লো। এক লোককে জিজ্ঞাসা করা হলো আপনি ধৈর্য্য ধরা শিখেছেন কিভাবে?

তিনি উত্তরে বলেছিলেন, অধৈর্য্যওয়ালা লোকদেরকে দেখে। সিম্পল একটি কথায় তিনি পুরো জীবনকে তুলে ধরলেন।

যারা উদ্যমী তারা কখনো অধৈর্য্য হয় না। আমাদের জীবন একটি ফুরিয়ে যাবে। শেষ হয়ে যাবে হায়াত।

তাই বলে আমরা যদি লোকে কি বলবে, এই ভয়ে ঘরকুনো হয়ে থাকি, ভালো কাজ না করি তাহলে এটি হীনমন্যতা। আল্লাহ হেফাজত করুন।

গাজ্জার জন্য অনুদান

৭ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে তুফানুল আকসা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জায় অসংখ্য মানুষ আহত ও শহীদ হয়েছে। বহু মানুষ নিজেদের ঘর-বাড়ী হারিয়েছে। এছাড়াও বর্তমানে গাজ্জার ৯৮% মানুষ অনাহারে জীবন-যাপন করছে। গাজ্জার মানুষের এই দুঃসময়ে আমরা যদি তাদের পাশে না দাঁড়াই তাহলে কে দাঁড়াবে?

আর-রিহলাহ ফাউন্ডেশন তুফানুল আকসা যুদ্ধের শুরু থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জার জন্য ডোনেশন সংগ্রহ করে আসছে। এই মহান কাজে আপনিও আমাদের সাথে যুক্ত হতে পারেন।

অনুদান দিন

Scroll to Top