গাজ্জার জন্য অনুদান

৭ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে তুফানুল আকসা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জায় অসংখ্য মানুষ আহত ও শহীদ হয়েছে। বহু মানুষ নিজেদের ঘর-বাড়ী হারিয়েছে। এছাড়াও বর্তমানে গাজ্জার ৯৮% মানুষ অনাহারে জীবন-যাপন করছে। গাজ্জার মানুষের এই দুঃসময়ে আমরা যদি তাদের পাশে না দাঁড়াই তাহলে কে দাঁড়াবে?

আর-রিহলাহ ফাউন্ডেশন তুফানুল আকসা যুদ্ধের শুরু থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জার জন্য ডোনেশন সংগ্রহ করে আসছে। এই মহান কাজে আপনিও আমাদের সাথে যুক্ত হতে পারেন।

অনুদান দিন

হায়দ্রাবাদের নিজাম শাসন – ডেকান মালভূমিতে অবস্থিত ৮২,৬৯৮ বর্গমাইল এলাকা বিস্তৃত হায়দ্রাবাদের নিজাম কর্তৃক শাসিত স্বাধীন দেশীয় রাজ্য হলো হায়দ্রাবাদ।

এর চারপাশেই হলো ভারতের বিভিন্ন রাজ্য। উত্তরে মধ্যপ্রদেশ, দক্ষিণে কৃষ্ণা তুঙ্গভদ্রা নদী, পশ্চিমে আহমদ নগরসহ বম্বের জেলাসমূহ, পূর্বে মাদ্রাজের কৃষ্ণা জেলা।

অতীতকালে হায়দ্রাবাদ এমন জীর্ণ-শীর্ণ ও পরনির্ভর ছিল না। দাক্ষিণাত্যের এই দেশীয় রাজ্যের ইতিহাস অনেক সু-প্রাচীন। প্রাচীনকালে এখানে দ্রাবিড় সভ্যতার এলাকা ছিল।

বর্তমানে তেলেগু ভাষা-ভাষীরা এই দ্রাবিড়দেরই পরবর্তী প্রজন্ম। পরবর্তীতে বহিরাগত আর্যরা ডেকান মালভূমি দখল করে দ্রাবিড়দের তাড়িয়ে দেয়।

১২৯৪ সালে আলাউদ্দিন খিলজী দৌলতাবাদ বিজয়ের মধ্য দিয়ে দাক্ষিণাত্যে প্রথম মুসলিম অধিকার প্রতিষ্ঠিত করেন।

পরবর্তীতে ১৩২৫ সালে মুহাম্মাদ বিন তুঘলক দিল্লির সিংহাসনে বসেন। তখন তিনি দাক্ষিণাত্যের রাজা-মহারাজাদের পরাজিত করে সমগ্র দাক্ষিণাত্যে মুসলিম শাসন কায়েম করেন।

মুহাম্মাদ বিন তুঘলক দেবগিরি অঞ্চলের নাম পরিবর্তন করে দৌলতাবাদ রাখেন।

পরবর্তীতে দিল্লি থেকে রাজধানী এখানে স্থানান্তরিত করেন। যদি তা ছিল অল্প সময়ের জন্য।

এর কয়েক বছর পর আলাউদ্দিন হাসানশাহ্ নিজে গাঙ্গু বাহমনী নাম ধারণ করে দাক্ষিণাত্যে বাহমনী সাম্রাজ্যের পত্তন করেন।

এটি কিছু বছর স্থায়ী ছিল। এরপর ১৩৪৭ সাল থেকে ১৫১২ সাল পর্যন্ত কাতুবুল মুলক সুলতান কুলী এর বংশ কুতুবশাহী এখানে রাজত্ব করে আসছিল।

তারই স্ত্রী হায়দরী কোমের নামানুসারে হায়দ্রাবাদ নামের উৎপত্তি। ১৬৫৫ সালে মোগল সম্রাট আরঙ্গজেবের শাসনামলে সমগ্র দাক্ষিণাত্য দিল্লির অধীনে চলে আসে।

কে কবে হায়দ্রাবাদ রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন

হায়দ্রাবাদে নিজাম শাহী রাজ্যের গোড়াপত্তন করেছিলেন মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের কৃতি সেনাপতি মীর কমরউদ্দিন খান আসফজাহ

তিনি ছিলেন সাহসী এবং কুশলী রাজনীতিবিদ। তাই সম্রাট আওরঙ্গজেব ১৭১৩ সালে তাকে নিজামুল মুলক উপাধী দিয়ে দাক্ষিণাত্যের সুবাদার নিযুক্ত করেন।

সেই থেকে বংশ পরষ্পরায় তারা নিজাম নামে পরিচিত হয়ে আসছেন। সম্রাট আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর মোগল সাম্রাজ্য অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়ে।

এ সময়ে ইরানের নাদির শাহ দিল্লি আক্রমন করেন। বলা হয়ে থাকে,

নাদির শাহ দিল্লিতে গণহত্যার হুকুম দিলে মোগল দরবারের সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তি আসফজাহ নাদির শাহের সামনে নতজানু হয়ে দিল্লিবাসীর প্রাণভিক্ষা চেয়েছেন।

নাদির শাহও তাকে খাঁটি মুসলমান ভেবে গণহত্যা বন্ধের নির্দেশ দেন। অতঃপর নানার উত্থান ও পতনের পর ১৭২৪ খৃস্টাব্দে হায়দ্রাবাদ একটা স্বাধীন রাজ্যের মর্যাদা লাভ করে।

আসফজাহ তখন পার্শ্ববর্তী বেরার প্রদেশটিও হায়দ্রাবাদের অন্তর্ভুক্ত করে দেন। আর হায়দ্রাবাদকেই তার আবাসস্থল হিসেবে গড়ে তোলেন।

এভাবেই হায়দ্রাবাদে স্বাধীন আসফজাহ রাজবংশের শাসনের সূচনা হয়।

ইংরেজদের দখলে হায়দ্রাবাদ

বিশাল মোগল সাম্রাজ্য বাদশাহ আলমগীরের পর দুর্বল হতে লাগলো। একটা সময় ব্রিটিশরা প্রথমে ব্যবসা এবং পরে রাজনীতিতে প্রবেশ করে হিন্দুস্থানে বিভক্তি সৃষ্টি শুরু করলো।

একটা সময় ফরাসী ও ইংরেজরা হায়দ্রাবাদের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করতে থাকে। এভাবেই একদিন হায়দ্রাবাদের ক্ষমতা বিদেশীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

কর্নাটকের যুদ্ধে ক্লাইভ বিজয়ী হলে ইংরেজরা পুরোপুরি হায়দ্রাবাদের ক্ষমতা পেয়ে যায়।

জনগণ যাতে বিদ্রোহ না করে বসে, সেজন্য ইংরেজরা আসফজাহের পুত্রদেরকেই পুতুল হিসেবে ক্ষমতায় রাখে।

প্রথমে আসফজাহের তৃতীয় পুত্র সালাবত জঙ্গ (১৭৫১-১৭৬২ খৃস্টাব্দ পর্যন্ত) কে ক্ষমতায় বসায়।

এরপর তাকে সিংহাসনচ্যুত করে আসফজাহের চতুর্থ পুত্র মীর নিজাম আলী খান (১৭৬২-১৮০৩ খৃস্টাব্দ) কে ক্ষমতায় বসায়।

এই মীর নিজাম আলী খান পরবর্তীতে ইংরেজদের পক্ষালম্বন করে মহিশূরের সিংহ বাহাদুর টিপু সুলতান রহ. কে পরাজিত করে।

টিপু সুলতানকে হত্যার ফলে ভারতের স্বাধীনকামী মানুষ মীর নিজামের উপর এতটাই ক্ষুদ্ধ ছিল যে,

১৯৪৮ সালে হায়দ্রাবাদের শেষ নিজামের পতনের সময়ও তাদের প্রতি সহানুভূতি দেখায় নি।

তথ্যসুত্র

হায়দ্রাবাদ ট্রাজেডী ও আজকের বাংলাদেশ, আরিফুল হক, পৃষ্ঠা ১৭-২৩

হায়দ্রাবাদ রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন কে

মীর কমরউদ্দীন খান আসফজাহ

ইংরেজরা হায়দ্রাবাদের রাজনীতিতে কবে প্রবেশ করে

কর্ণাটকের দ্বিতীয় যুদ্ধের পর ইংরেজরা বিজয়ী হলে তারা হায়দ্রাবাদের রাজনীতির কলকাঠি নাড়াতে শুরু করে

গাজ্জার জন্য অনুদান

৭ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে তুফানুল আকসা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জায় অসংখ্য মানুষ আহত ও শহীদ হয়েছে। বহু মানুষ নিজেদের ঘর-বাড়ী হারিয়েছে। এছাড়াও বর্তমানে গাজ্জার ৯৮% মানুষ অনাহারে জীবন-যাপন করছে। গাজ্জার মানুষের এই দুঃসময়ে আমরা যদি তাদের পাশে না দাঁড়াই তাহলে কে দাঁড়াবে?

আর-রিহলাহ ফাউন্ডেশন তুফানুল আকসা যুদ্ধের শুরু থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জার জন্য ডোনেশন সংগ্রহ করে আসছে। এই মহান কাজে আপনিও আমাদের সাথে যুক্ত হতে পারেন।

অনুদান দিন

Scroll to Top