সপ্তম শ্রেণীর ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বই পর্যালোচনা

সপ্তম শ্রেণীর ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বই পর্যালোচনা – ২০২৪ সালের নতুন বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে জানুয়ারীর প্রথম দিকেই। বর্তমানে বইটির ক্লাসও ছাত্র-ছাত্রীরা নিয়মিত করছে।

বিগত বছরের কিছু সমস্যার কারণে এবার ভেবেছিলাম, হয়তো এই বছর বইটি কলঙ্কমুক্ত থাকবে। নৈতিকতা বিবর্জিত পাঠ্য বইটিতে থাকবে না।

আমরা এই বইটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ি। এরপর দেখলাম, অনেক রকম ভুল তথ্য ও বিকৃত তথ্য এই বইটি জুড়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

তাই এই বইটি বিশেষ পর্যালোচনার দাবী রাখে। যারা বিজ্ঞ, অভিজ্ঞ, প্রাজ্ঞ আছেন তারা অবশ্যই এই বইটি পড়ে দেখবেন, আমাদের সন্তানকে সুকৌশলে কি শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে!

এটি পড়ার সময় যেই সমস্যাগুলো আমাদের চোখে পড়েছে, তা আমরা এখানে বিস্তারিত উল্লেখ করছি।

এই লেখায় যা যা থাকছে :

সমস্যা ১ – কারো সম্মানে দাঁড়ানো

সপ্তম শ্রেণীর ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বইয়ের ১৫ নং পৃষ্ঠায় “মিলির স্বপ্ন” শিরোনামে একটি প্রবন্ধ বা গল্প লেখা হয়।

এখানে এক জায়গায় একটি বাক্য লেখা আছে,

সপ্তম শ্রেণীর ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান

এখানে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে, শিক্ষক ক্লাসে আসলে উঠে দাঁড়াতে হবে। অথচ একটি সম্পূর্ণ ভুল এবং অনৈসলামিক প্রথা।

কোনো ব্যক্তির সম্মানে উঠে দাঁড়াতে নিষেধ করা আছে। বাংলাদেশে অধিকাংশ মানুষ মুসলিম। এখানে একজন মুসলিম তার ধর্ম পালন করবে না, এটি খুবই অবমাননাকর।

তাকে তার ধর্মকে প্রতিপক্ষ হিসেবে শিক্ষা দেওয়া হবে, এটা আমরা মেনে নিতে পারি না।

যদিও একশ্রেণীর তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা ধর্মনিরপেক্ষতার মতো জঘন্য চিন্তা লালন করে।

কোনো বড় ব্যক্তি আসলে তখনই দাঁড়ানো জায়েজ, যখন তাকে সাহায্য করা হবে।

যেমন চেয়ার এগিয়ে দেওয়া, বসার জায়গা করে দেওয়া, বৃদ্ধ হলে যাতে পড়ে না যায় তাই তার হাত ধরা ইত্যাদি।

কিন্তু শুধুমাত্র সম্মানের খাতিরে দাঁড়ানো এটা একদম উচিৎ নয়। এটির ব্যাপারে হাদীসে নিষেধ আছে। কারণ, এটি কাফেরদে কালচার।

সুনানে তিরমিজী শরীফের ২৭৫৫ নং হাদীসে আছে,

عَنْ أَبِي مِجْلَزٍ، قَالَ خَرَجَ مُعَاوِيَةُ فَقَامَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الزُّبَيْرِ وَابْنُ صَفْوَانَ حِينَ رَأَوْهُ ‏.‏ فَقَالَ اجْلِسَا سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ “‏ مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَتَمَثَّلَ لَهُ الرِّجَالُ قِيَامًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ

আবূ মিজলায (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, মুআবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু ঘর থেকে বের হয়ে আসলেন। তাঁকে দেখে আবদুল্লাহ্ ইবন যুবায়ের রা. ও ইবন সাফওয়ান উঠে দাঁড়ালেন। তিনি বললেনঃ তোমরা বসে পড়। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ লোকেরা তার জন্য মূর্তির মত দাঁড়িয়ে থাকুক, এতে যে খুশী হয় সে যেন জাহান্নামে তার আবাস বানায়।

সুনানে তিরমিজী শরীফের ২৭৫৪ নং হাদীসে আছে,

عَنْ أَنَسٍ، قَالَ لَمْ يَكُنْ شَخْصٌ أَحَبَّ إِلَيْهِمْ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ وَكَانُوا إِذَا رَأَوْهُ لَمْ يَقُومُوا لِمَا يَعْلَمُونَ مِنْ كَرَاهِيَتِهِ لِذَلِكَ

আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ সাহাবীদের কাছে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চেয়েও প্রিয় কোন ব্যক্তি ছিল না। কিন্তু তাঁকে দেখেও তারা দাঁড়াতেন না। কেননা, তাঁরা জানতেন যে, তিনি দাঁড়ান পছন্দ করেন না।

আর কোনো মুসলমানের জন্য কাফেরদের কোনো কালচার অনুসরণ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। মুসলিম মানেই হলো আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ।

তাই আল্লাহ ব্যতিত অন্য কোনো মাখলুকের সামনে সম্মানের জন্য দাঁড়ানো, মাথা ঝুঁকানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং গর্হিত কাজ।

সমস্যা ২ – মিথ্যা বলতে উদ্বুদ্ধকরণ

সপ্তম শ্রেণীর ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বইয়ের ১৫ পৃষ্ঠার শেষাংশে বলা হচ্ছে,

সপ্তম শ্রেণীর ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বই

এখানে খুবই কৌশলে কোমলমতি শিশুদের মিথ্যা কথা বলতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। মিথ্যা বলা যে একটি অপরাধ, তাকে হেয় করে বলা হচ্ছে,

‘তোমাদের কে বলেছে কবে বলেছে মিথ্যা বলা খারাপ?’ আশ্চর্যজনক! অথচ মিথ্যা বলাকে মুনাফিকের আলামতের অন্যতম হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়।

সহীহ বুখারীর ৩৩ নং হাদীসে বলা হচ্ছে,

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ “‏ آيَةُ الْمُنَافِقِ ثَلاَثٌ إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ، وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ، وَإِذَا اؤْتُمِنَ خَانَ

আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুনাফিকের চিহ্ন তিনটিঃ

১. যখন কথা বলে মিথ্যা বলে

২. যখন অঙ্গীকার করে ভঙ্গ করে

৩. আমানত রাখা হলে খিয়ানাত করে।

সমস্যা ৩ – ভাগ্য গণনা শিক্ষা দেওয়া

সপ্তম শ্রেণীর ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বইয়ের ৩৫ নং পৃষ্ঠায় বেদে সম্প্রদায়ের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। এখানে তারা উল্লেখ করেছে, বেদে সম্প্রদায়ের অধিকাংশ মুসলমান। ভালো কথা।

কিন্তু তাদের কার্যক্রমে দেখিয়েছে,

অথচ আমরা জানি, ইসলামে ভাগ্য গণনা করা সম্পূর্ণ হারাম। এটি বিধর্মীদের কালচার।

কুরআনে স্পষ্ট বর্ণিত আছে, গায়েব বিষয়ের খবর জানেন একমাত্র আল্লাহ।

আবু দাউদ শরীফের ৩৮৬৪ নং হাদীসে আছে,

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏”‏ مَنْ أَتَى كَاهِنًا ‏”‏ ‏.‏ قَالَ مُوسَى فِي حَدِيثِهِ ‏”‏ فَصَدَّقَهُ بِمَا يَقُولُ ‏”‏ ‏.‏ ثُمَّ اتَّفَقَا أَوْ أَتَى امْرَأَةً ‏”‏ ‏.‏ قَالَ مُسَدَّدٌ ‏”‏ امْرَأَتَهُ حَائِضًا أَوْ أَتَى امْرَأَةً ‏”‏ ‏.‏ قَالَ مُسَدَّدٌ ‏”‏ امْرَأَتَهُ فِي دُبُرِهَا فَقَدْ بَرِئَ مِمَّا أَنْزَلَ اللَّهُ عَلَى مُحَمَّدٍ ‏

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি কোন গণকের নিকট যায় অথবা সে তার স্ত্রীর পশ্চাদদ্বারে সংগম করে সে যেন আল্লাহ তা’আলা কর্তৃক মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর নাযিলকৃত দীন হতে মুক্ত (অর্থাৎ গুমরাহ) হলো।

সুনানে আবু দাউদ শরীফের ৩৮৬৭ নং হাদীসে বলা হয়েছে,

سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ “‏ الْعِيَافَةُ وَالطِّيَرَةُ وَالطَّرْقُ مِنَ الْجِبْتِ ‏”‏ ‏.‏ الطَّرْقُ الزَّجْرُ وَالْعِيَافَةُ الْخَطُّ ‏.‏

কাবীসা (রহঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এরূপ বলতে শুনেছি যে, জ্যোতিষীদের মাটিতে দাগ কেটে যাত্রা শুভ-অশুভ নির্ধারণের কথায় বিশ্বাস করা, ভাল-মন্দ নির্ণয়ের জন্য লটারীর ব্যবস্থা করা, কুফরী রসমরিওয়াজের অন্তর্ভুক্ত।

আবু দাউদ শরীফের ৩৯৬৯ নং হাদীসে বলা হয়েছে,

عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏”‏ الطِّيَرَةُ شِرْكٌ الطِّيَرَةُ شِرْكٌ ‏”‏ ‏.‏ ثَلاَثًا ‏”‏ وَمَا مِنَّا إِلاَّ وَلَكِنَّ اللَّهَ يُذْهِبُهُ بِالتَّوَكُّلِ ‏”‏ ‏.‏

আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনবার বলেনঃ পাখী দেখে ও পাখির উড়ে যাওয়া দেখে ভাগ্য নির্ণয় করা শিরক। এ ব্যাপারে যদি কারো মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয় তাহলে আল্লাহ তাঁর প্রতি ভরসা ছাড়া তার দূর হবে না।

সুতরাং নিজের সন্তানকে কি শেখাচ্ছেন? সাবধান! সাধারণ জাগতিক পড়াশোনা করাতে গিয়ে ঈমানহারা হয়ে যাচ্ছে না তো আপনার সন্তান?

সমস্যা ৪ – মুসলমানদের দেবতায় বিশ্বাসী করানো

সপ্তম শ্রেণীর ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বইয়ের ৩৫-৩৬ নং পৃষ্ঠায় বেদে সম্প্রদায়ের একটি ঘটনা প্রসঙ্গে লেখা হয়,

সপ্তম শ্রেণীর বইতে হিন্দু দেবতা

এই মা মনসা কে? মনসা হলো একজন পৌরাণিক হিন্দু সর্পদেবী। দেবী দেবী-ভাগবত পুরাণ সহ আরও অনেক পুরাণে এই দেবী মনসার উল্লেখ পাওয়া যায়। প্রধানত পূর্ব্বভারতীয় অঞ্চল অবিভাজিত বঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, বিহার, আসামে যেকোনো বিষধর প্রাণীর হাত থেকে রক্ষা ও বিষের প্রতিকার পেতে, প্রজনন ও ঐশ্বর্যলাভের উদ্দেশ্যে তার পূজা করা হয়।

এই কি মুসলিম সংস্কৃতির কোনো বিষয়? অথচ বইতে এটির কয়েক লাইন আগে লেখা আছে, বেদে সম্প্রদায়ের অধিকাংশ মুসলমান।

মুসলমানরা কবে থেকে মূর্তিপূজা শুরু করলো? কবে থেকে মুসলমানরা দেবীর রাগকে বিশ্বাস করা শুরু করলো? এভাবেই খুবই সুকৌশলে আপনার সন্তানকে হিন্দুত্ববাদ ও ভুল মতবাদ শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে।

সমস্যা ৫ – ট্রান্সজেন্ডার বা সমকামিতা শিক্ষা দেওয়া

সপ্তম শ্রেণীর ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বইয়ের ৩৯ পৃষ্ঠায় ‘শরিফা’ নামে একটি লেখা আনা হয়েছে।

যেখানে অনেকগুলো ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সেখানে বলা হচ্ছে,

সপ্তম শ্রেণীর ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান

এখানে সে মূলত একটি ছেলে। তার কোনো লিঙ্গ পরিবর্তন হয় নি। তার কোনো শারিরিক রোগও হয় নি। কিন্তু সে ছেলে থেকে মেয়ে হয়ে গেছে।

এই বইয়ে শরিফার গল্প ছিল বড় একটি সমস্যা। ট্রান্সজেন্ডার বা সমকামিতার মতো বিকৃত যৌনাচার প্রতিষ্ঠা করতে খুবই কৌশলে প্রতারক চক্ররা এটি পাঠ্যবইতে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

সপ্তম শ্রেণীর এই বইয়ের ৪১ নং পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে,

সপ্তম শ্রেণীর বইতে ট্রান্সজেন্ডার

সে যদিও ছেলে, কিন্তু মনে মনে মেয়ে। এটা কি আদৌ সম্ভব? কোনো শিয়াল যদি বলে আমি মনে মনে মুরগি, আপনি কি মুরগির সাথে তাকে থাকতে দিবেন?

কোনো বাঘ যদি বলে আমি মনে মনে হরিণ, তাহলে কি তাকে হরিণের সাথে থাকতে দিবেন? এই মনে মনে অন্য লিঙ্গ ভাবা হলো নিজেদের বিকৃত যৌনাচার বাস্তবায়নের মিশন।

তারা এই দেশে সমকামিতা বাস্তবায়ন করতে চায়। কিন্তু সুকৌশলে পাঠ্যবইতে তাদের জেন্ডার পরিচয়কে সন্দেহবাতিক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

কিন্তু শেষের দিকে আবার কথাটি ঘুরিয়ে এটিকে থার্ড জেন্ডার বা হিজড়াদের সাথে মিলিয়ে ফেলা হয়েছে। ২০২৩ সালের বইতে এই অংশটি ছিল না।

তখন প্রবল প্রতিবাদের মুখে আগের লেখাগুলো বাদ দিয়ে এখানে হিজড়া বা ইন্টারসেক্স ব্যক্তিদের নাম দেওয়া হয়েছে।

এখন প্রশ্ন হলো, একজন হিজড়া কি মনে মনে মেয়ে? অথচ আমরা জানি, হিজড়া সম্প্রদায় মূলত স্বাস্থ্যগত একটি সমস্যার কারণে হয়।

বইয়ের ৪২ নং পৃষ্ঠায় বলা হচ্ছে,

জেন্ডার আইডেন্টিটি সমস্যা

শিশু অবস্থায় যদি সে ছেলে অথবা মেয়ে না হয়, তাহলে কবে হবে? এখানে খুব সহজেই বাচ্চাদের ব্রেনওয়াশ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ট্রান্সজেন্ডার বা সমকামিতা নিয়ে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হওয়ায় এটি নিয়ে বেশি কিছু বলা প্রয়োজন মনে করছি না।

তারপরও কেউ বিস্তারিত এই সম্পর্কে জানতে চাইলে নিচের লেখাগুলো দেখতে পারেন।

ড. সরোয়ার হোসাইন লিখিত, হিজড়া ও ট্রান্সজেন্ডার শব্দের অস্পষ্টতায় দেশে ভয়াবহ ঝুঁকি

সমকামিতা মতাদর্শ এত বড় ইস্যু হয়ে উঠল কিভাবে?

সকল ধর্মের ট্রান্সজেন্ডার বা সমকামিতা সম্পর্কে মন্তব্য কি?

বাংলাদেশে সমকামিতা মতাদর্শ বাস্তবায়নের চেষ্টা

সমস্যা ৬ – লিঙ্গ সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়া

সপ্তম শ্রেণীর ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বইয়ের ৪৪ নং পৃষ্ঠায় বলা হচ্ছে,

সপ্তম শ্রেণীর ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বইতে ট্রান্সজেন্ডার

একজন মানুষ ছেলে হয় কিভাবে? একজন মানুষ মেয়ে হয় কিভাবে? উভয়টার উত্তর হলো, শারিরিক গঠন দেখে। একজন পুরুষের পেনিস বা পুরুষাঙ্গ আছে। পুরুষের অণ্ডকোষ আছে।

একজন নারীর তা নেই। আবার একজন নারীর স্তন, ডিম্বাশয়, গর্ভাশয়, জরায়ু থাকে। তার মাসিক বা হায়েজ হয়। সে বাচ্চা জন্ম দিতে সক্ষম।

তাই শরীরের অবয়ব দেখেই তো বুঝা যায়, সে ছেলে নাকি মেয়ে? অথচ আমাদের বাচ্চাদের শেখানো হচ্ছে, শারীরিক গঠন দেখে ছেলে বা মেয়ে বলা নাকি সত্যি নয়।

এছাড়াও পৃথিবীতে একজন পুরুষ যেই কাজ করতে পারে, একজন নারী তা পারে না। আবার একজন নারী যা পারে, একজন পুরুষ কখনোই তা পারে না।

একজন পুরুষের বীর্য থেকে সন্তানের জন্ম হয়। একজন নারীর বীর্য থেকে তা হয় না। একজন নারী সন্তানকে গর্ভে ধারণ করতে পারে। একজন পুরুষ তা পারে না।

অথচ আমাদের সন্তান ও বাচ্চাদের দেওয়া এই বইতে খুবই সুক্ষ্মভাবে ট্রান্সজেন্ডার মতবাদ, বিকৃত নারীবাদ শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে।

ট্রান্সজেন্ডাররা সবাই সমকামী। সমকামীরাই মূলত ট্রান্সজেন্ডার।

তাই আগামী প্রজন্মকে যদি আপনি সমকামী বানাতে চান অথবা আপনার বংশ প্রদীপ নিভিয়ে দিতে চান, তাহলে এসব অখাদ্য আপনার সন্তানকে পড়াতে পারেন।

সমস্যা ৭ – বাংলার বৃটিশবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাস বিকৃতি

বর্তমানে মানুষ অনেকটা শিক্ষিত। আর বেশিরভাগ মানুষেরই ইতিহাস, অতীতকাল নিয়ে জানার আগ্রহ থাকে।

আর এখানেই এক শ্রেণীর চক্রান্তকারীরা ষড়যন্ত্র করে ইতিহাসকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টায় তৎপর থাকে।

ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বইয়ের ৭১ নং পাতায় বলা হচ্ছে,

সপ্তম শ্রেণীর ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বইতে ইতিহাস বিকৃতি

বাংলাদেশে যদি বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের একক নেতৃত্ব দেওয়া লোক না থাকতো তাহলে এই বাংলাদেশের বা পশ্চিম পাকিস্তানের কোনো অস্তিত্বই থাকতো না।

বাংলা অঞ্চল ছিল ইংরেজদের জন্য বিভীষিকাময় স্থান। এক তথ্যমতে, ইংরেজদের অবৈধ শাসনামলে এই বাংলা অঞ্চলেই সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহ হয়েছে।

তবে এই বাংলা অঞ্চলে ইংরেজদের চর, গোয়েন্দা ছিলও অনেক। তাই যতবার স্বাধীনতা আন্দোলন হয়েছে, ততবারই মাইর খেতে হয়েছে।

বৃহৎ পরিসরে কাজ করা সম্ভব না হওয়ার আরো অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটি ছিল, এই দেশের হিন্দুদের জমিদারী দেওয়া।

এর মাধ্যমে ইংরেজরা সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের সহজেই হাতের মুঠোয় রাখতে পারতো। বিস্তারিত বাংলা অঞ্চলের প্রাচীন ইতিহাস কোনো নির্ভরযোগ্য স্থান থেকে পড়লেই জানতে পারবেন।

সমস্যা ৮ – বাংলায় মুসলিম শাসনের ভুল তথ্য উপস্থাপন

বাংলার মুসলিম শাসনকে হিন্দুত্ববাদীরা কখনোই মেনে নিতে পারে নি। সোমোনাথ মন্দির ভাঙ্গার দুঃখ এখনো তাদের আছে।

তাদেরই পৃষ্ঠপোষকতায় যখন একটি সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম রাষ্ট্রের পাঠ্যপুস্তক লেখা হয় তখন তাতে মুসলিম ইতিহাস নিয়ে জঘন্য মিথ্যাচার থাকা একেবারেই স্বাভাবিক।

আর তারা এই কাজটি এতটাই সুক্ষ্মভাবে করেছে যে, যাতে শিশুরা সহজেই তা হজম করতে পারে। ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বইয়ের ৬৯ নং পৃষ্ঠায় বলা হচ্ছে,

সপ্তম শ্রেণীর ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বইতে মুসলিম শাসনামল বিকৃতি

প্রথমেই এখানে একটি মিথ্যাচার করা হয়েছে যে, খিলজি বংশীয় সুলতানদের সাথে বাংলার আদি অদিবাসীদের কোনো মিল ছিল না।

অথচ বাংলার আদি অধিবাসী আর্যরা এসেছিল ইরান থেকে। এরপর তারা এখানে বসতি স্থাপন করে। আর বাংলাদেশে ইসলামের আগমণ ঘটে নবীজি সা. এর ইন্তিকালের পর সাহাবীদের সময়ে।

সে সময় আরব বণিকদের মাধ্যমে এই দেশে ইসলামের আগমণ ঘটে। বিখ্যাত ৫ জন সাহাবী এই দেশে তখন আগমণ করেন। তারা হলেন,

1. আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ উতবান রা.

2. আসিম ইবনে আমর তামিমী রা.

3. সুহার বিন আদি রা.

4. সুহাইল বিন আলী রা.

5. হাকাম বিন আবুল আস সাকাফি রা.

তখন তাদের প্রভাবে বাংলার অনেক মানুষ ইসলাম গ্রহণ করে। মূর্তিপূজা এই বাংলার অনেক জায়গা থেকে আস্তে আস্তে বিলুপ্ত হয়ে যায়।

আর এরপর প্রায় ৬০০ বছর পর ইখতিয়ার বিন বখতিয়ার এই দেশে এসে রাজ্য জয় করে মানুষকে বিপদ থেকে উদ্ধার করে।

বাংলার অনেক মানুষ তখন এমনিতেই ছিল মুসলিম। ভারতে অনেকটা মুসলিম শাসন থাকলেও এই বাংলায় তখনও হিন্দুদের হাতে শাসনকার্য ছিল।

আর সেই সময় স্বৈরাচার সেন রাজা লক্ষ্মণ সেন বাংলা শাসন করতেন। এই সেন বংশরাও তো বাঙ্গালী নয়। তারা ছিল ভারতের দাক্ষিণাত্যের কর্ণাটকের অধিবাসী।

এছাড়াও তারা ছিল কট্টর হিন্দুত্ববাদী। তারা বুদ্ধদের উপর নির্যাতন করতো। ভিন্ন ধর্মের লোকদের উপর নির্যাতন করতো।

এ বিষয়ে প্রাচীন চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং (603–664 খ্রি.) তার দিনলিপিতে লিখেছেন, শিবভক্ত শশাঙ্ক বুদ্ধগয়া, পাটলীপুত্র ও কুশীনগরের বৌদ্ধযাজকদের উপর নির্যাতনের স্ট্রীম রোলার চালাতেন। তিনি বৌদ্ধদের শিলালিপি বা কোনো কীর্তিকে সহ্য করতে পারতেন না। সেগুলো ধ্বংস করে দিতেন। এমনকি তিনি বুদ্ধদেবের মূর্তিও সরিয়ে ফেলার আদেশ দেন। এদিকে সেন রাজারা ছিলেন গোঁড়া ব্রাহ্মণ্যবাদে বিশ্বাসী এবং এর কঠোর বাস্তবায়নে ছিলেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তারা তখন বৌদ্ধদের উপর এমন নির্যাতন করায় বৌদ্ধরা দেশত্যাগ করা শুরু করলো। কিন্তু এতে কোনো লাভ হলো না। কারণ, সনাতনীদের নিম্নস্থরের ব্যক্তিরা নিজেদের জাতভাইদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করতো।

এছাড়াও এই বইতে খুবই জঘন্যভাবে বাংলা অঞ্চলের বিভিন্ন শাসকদের ভিনদেশী বলে তাদের মর্যাদাক্ষুন্ন করার চেষ্টা করেছে।

এমনকি তাদের ব্যাপারে এমন অপবাদও দেওয়া হয়েছে যে, তারা বাংলাভাষী নন। অথচ তারা সকলেই বাংলাভাষী ছিলেন। এদেশে তাদের জন্ম হয়েছিল।

সমস্যা ৯ – বৃটিশবিরোধী আন্দোলনে মুসলমানদের অবদান উল্লেখ না করা

সপ্তম শ্রেণীর ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বইতে ইংরেজ শাসনামলের নির্যাতনের কথা বলা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বাঙ্গালীদের আন্দোলনের কথা বলা হয়েছে।

অথচ খুবই সুক্ষ্মভাবে এখানে সংখ্যালগিষ্ঠ হিন্দুদের কথা উল্লেখ করে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের কথা সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে।

অনেক হিন্দুরাও ও বুদ্ধরাও ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। তাদের আমরা শ্রদ্ধার সাথে স্বরণ করি। কিন্তু এত এত মুসলমানরা যে জীবন দিল ইংরেজদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে, তাদের নাম এই বইতে কোথায়?

সপ্তম শ্রেণীর বই

এই বইয়ের ৭০ নং পৃষ্ঠায় একজন হিন্দু নারীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এটি কোনো সমস্যা নয়। কিন্তু মুসলমানদের কথা কোথায়?

হাজী শরিয়তুল্লাহ, নেসার আহমাদ তিতুমীর রহ. দের কথা কোথায়? এইভাবে সুকৌশলে হিন্দুত্ববাদী আগ্রসন মুসলমানদের সন্তানদের উপর চাপিয়ে দেওয়ার মানে কি?

সমস্যা ১০ – বাঙ্গালী মুসলমানদের দুশমনদের হিরো বানানো

বাংলাদেশের যুদ্ধের আলোচনা করতে গিয়ে ইতিহাস ও সামাজিক শিক্ষা বইতে এমন কিছু ব্যক্তিদের কথা আনা হয়েছে, যারা ছিল বাঙ্গালীদের দুশমন। মুসলমানদের দুশমন।

এই বইয়ের ৯০ নং ‍পৃষ্ঠায় বলা হচ্ছে,

মাদার তেরেসা

এই মাদার তেরেসা আসলে কে? এনজিও এর আড়ালে বাংলাদেশে খৃস্টান মিশনারীর কাজ বাস্তবায়ন করা, মানুষের টাকা আত্মসাৎ করা ব্যক্তি হলো এই তেরেসা।

অথচ তার মতো কুখ্যাত ব্যক্তির আলোচনা সগৌরবে এই পাঠ্যপুস্তকে স্থান পেয়েছে। মাদার তেরেসার কার্যক্রমগুলো নিয়ে বর্তমানে অনেক ডকুমেন্টরি আছে। আগ্রহীরা দেখে নিতে পারেন।

সমস্যা ১১ – নারীবাদী শিক্ষা দেওয়া

সপ্তম শ্রেণীর ইতিহাস ও সামাজিক শিক্ষা বইয়ের ৯৪ নং পৃষ্ঠায় আছে,

সপ্তম শ্রেণীর ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান

সাধারণত সব জায়গাতেই মেয়েরা ছেলের বাড়ীতে যায়। এটা নিয়ম। কারণ, পুরুষকে ঘরের প্রধান বলা হয়। তার ঘরে কোনো সমস্যা হলে এর জন্য প্রথমে ‍পুরুষকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

আল্লাহ তা’আলা একজন নারীকে পুরুষের অধীনস্ত রেখেন। মেয়ে বিয়ের আগ পর্যন্ত বাবার অধীনে থাকে। বাবা না থাকলে ভাই বা চাচার অধীনে থাকে।

বিয়ের পর নারী তার স্বামীর অধীনে থাকে। কিন্তু এই বইতে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে, পুরুষ নারীর অধীনে থাকবে। এটা খুবই হাস্যকর এবং সামাজিক বহির্ভূত অবস্থা।

এখন কেউ হয়তো বলতে পারে, এটি অন্য সম্প্রদায়ের আচার-রীতি। তাহলে তো বলা যায়, বেদে সম্প্রদায়কে পূর্বে মুসলিম হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তাহলে এটি কি মুসলমানদের সমাজে অনুমদিত?

এছাড়া অন্য সম্প্রদায়ের হলে শেষে কেন এই কথা লেখা হলো না যে, আমাদের এমন রীতি নেই। আমাদের সমাজে নারী পুরুষের পরিবারে আসে। নাকি ষড়যন্ত্রের চাদরের কিনারা আরো বহুদুর?

সমস্যা ১২ – মুসলমানদের ভাষ্কর্য স্থাপন শিক্ষা দেওয়া

সপ্তম শ্রেণীর ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বইয়ের ৯২ নং ‍পৃষ্ঠায় আছে,

সপ্তম শ্রেণীর ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান

এই দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মুসলমান। সেখানে স্মৃতিস্তম্ভের নামে মূর্তি তৈরি, ভাষ্কর্য তৈরি করার শিক্ষা দেওয়া কেমন শিক্ষানীতি?

একজন মানুষকে কি আল্লাহর আনুগত্য ছেড়ে মাখলুকের আনুগত্য করতে হবে? আল্লাহর থেকে কি মাখলুক বড়?

ইসলামে মূর্তি স্থাপন করা জঘন্য অপরাধ। চাই এই মূর্তি যত বড় সম্মানিত ব্যক্তিরই হোক না কেন! কুরআনের সূরা হজ্জ এর ৩০ নং আয়াতে বলা হয়েছে,

فَاجْتَنِبُوا الرِّجْسَ مِنَ الْاَوْثَانِ وَ اجْتَنِبُوْا قَوْلَ الزُّوْرِ

তোমরা অপবিত্র বস্তু অর্থাৎ মূর্তিসমূহ পরিহার কর এবং মিথ্যা বলা পরিহার কর।

এই আয়াতে সকল ধরণের মূর্তি পরিত্যাগ করার আদেশ করা হয়েছে। চাই তা পূজার জন্য হোক কিংবা তা সম্মানের জন্য হোক। নিষেধ কখনো পালনীয় নয়।

সহীহ বুখারীর ৫৯৫০ নং হাদীসে বলা হচ্ছে,

إِنَّ مِنْ أَشَدِّ النَّاسِ عَذَابًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ الْمُصَوِّرُوْنَ

প্রতিকৃতি তৈরিকারী (ভাস্কর্য, চিত্র অঙ্কন) হল ওইসব লোকদের অন্তর্ভুক্ত যাদেরকে কিয়ামত-দিবসে সবচেয়ে কঠিন শাস্তি প্রদান করা হবে।

সহীহ বুখারীর ৭৫৫৭ নং হাদীসে আছে,

عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِنَّ أَصْحَابَ هَذِهِ الصُّوَرِ يُعَذَّبُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَيُقَالُ لَهُمْ أَحْيُوا مَا خَلَقْتُمْ

হযরত আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এসব প্রতিকৃতি নির্মাতাদের (ভাস্কর্য নির্মাতা, চিত্রকরদের) কিয়ামতের দিন শাস্তি দেয়া হবে। তখন তাদেরকে নির্দেশ দেয়া হবে তোমরা যা বানিয়েছ, তা জীবিত কর।

সর্বশেষ বলতে চাই, আমাদের দেশে কোনো আলেমের নামে রাস্তা থাকে না। ইসলামে অবদান করা কোনো ব্যক্তির নামে কোনো প্রকল্প হয় না,

সেখানে বিদেশীদের নামে রাস্তা বানানোর শিক্ষা দেওয়া যেন এদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সাথে হাসি-ঠাট্টার শামিল।

সমস্যা ১৩ – অনৈসলামিক প্রথাকে সামাজিকরণ

এই বইয়ের ৯৬ নং পৃষ্ঠায় বলা হচ্ছে,

সপ্তম শ্রেণীর ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বইতে ভুল শিক্ষা

দুইটা মারাত্মক ভুল জিনিষ বইতে উল্লেখ করা হয়েছে। ১. বড়দের পায়ে হাত দিয়ে সালাম করা ২. জন্মদিনে কেক কাঁটা।

দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে, বর্তমান সমাজে এই কাজ দুটি এতটাই প্রচলিত যে, অনেক ধর্মপ্রাণ মুসলিম ব্যক্তিও এই কাজ নির্দ্বিধায় করে যাচ্ছেন।

এই দুইটি কাজই মারাত্মক অপরাধমূলক কাজ। পায়ে হাত দিয়ে বড়দের সম্মান করা হলো হিন্দুয়ানী কালচার। এটার সাথে মুসলমানদের বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই।

আর জন্মদিনে কেক কাঁটা এসেছে প্যাগানদের থেকে। এটি এখন মুসলমানের সন্তানরাও উৎসব করে পালন করে। মুসলমানরা কেন আজ নির্যাতিত, এসব কারণ জানলেই বুঝা যায়।

সমস্যা ১৪ – ভালো মানুষের গুণে ধর্ম অনুপস্থিত

ইতিহাস ও সামাজিক শিক্ষা বইয়ের ১০১ নং পৃষ্ঠায় বলা হচ্ছে,

সপ্তম শ্রেণীর ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান

ভালো মানুষের অনেক অনেক বৈশিষ্ট্য থাকবে এটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশে যত শিক্ষার্থী স্কুলে পড়াশোনা করে তার অধিকাংশই মুসলিম।

এখন তাদেরকে কি এটির মাধ্যমে দ্বীন-ধর্মের বার্তা দেওয়া হচ্ছে নাকি ধর্মনিরপেক্ষ নাস্তিক হওয়ার মন্ত্র শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে?

এখানে যেসব গুণগুলো আছে, তা থাকুক। এতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু একজন ভালো মুসলিমের তো আরো কিছু গুণ থাকে।

তা হলো, আল্লাহর উপর পরিপূর্ণ বিশ্বাস ও আস্থা। আল্লাহর উপর প্রতি কাজে ভরসা করা। দৈনন্দিন জীবনে ইসলামের ফরজ বিধান পালন করা ইত্যাদি।

এখন যদি আপনি বলেন, এসব তো ইসলাম শিক্ষা বইতে থাকবে। এসব বইতে কি দরকার?

তাহলে তো বলা যায়, ম্যাথ বা গণিত তো শুধু গণিত বইতে থাকা উচিৎ। পদার্থবিজ্ঞান, ধাতুবিজ্ঞান, প্রকৌশলী বইতে কেন ম্যাথ বা গণিতের উপস্থিতি থাকে?

আমাদের জীবনে এমন কিছু বিষয় থাকে, যার সাথে আরো কিছু বিষয় পরিপূর্ণ সম্পৃক্ত। এগুলোকে আলাদা করা যায় না।

ইসলাম মুসলমানদের জীবনের এমনই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটিকে শুধু ধর্ম বইতে রেখে বাকী বই থেকে বাতিল করা কখনোই যাবে না।

প্রতিটা শিক্ষাতে ইসলামের উপস্থিতি থাকবে। ইসলামী কালচারের উপস্থিতি থাকবে। ইসলামী শরিয়াহ এর বিধান থাকবে। আমরা সব বুঝি, এখানে কেন মূর্খ সাজি?

সমস্যা ১৫ – প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষেত্রে আল্লাহর প্রতি অনাস্থা

এই বইয়ের ১৫৫ নং পৃষ্ঠায় বলা হচ্ছে,

আল্লাহর প্রতি অনাস্থা

আমাদের সমাজে বসবাস করা মুসলমানদের থেকে কিছু জিনিষ যড়যন্ত্র করে বাদ দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে একটি হলো, আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল বা ভরসা।

পৃথিবীর সম্পদ নির্দিষ্ট। যে কোনো সময় এটি শেষ হতে পারে। এটি স্বাভাবিক। কিন্তু আল্লাহ যদি এই সম্পদ বাড়াতে চান, তাহলে কার সাধ্য আছে তা নিঃশেষ করার?

‘পৃথিবীতে মানুষ বাড়ছে’ এই বাক্যটি বলে আমাদের সমাজে খুবই বাজে একটি বার্তা দেওয়া হয়। তা হলো, মানুষ বেশি হলে সম্পদ শেষ হয়ে যাবে। মানুষের ক্ষতি হবে। রোগ বেড়ে যাবে ইত্যাদি।

অথচ আল্লাহ কুরআনে সূরা আনআমের ১৫১ নং আয়াতে স্পষ্টভাবে বলেছেন,

قُلۡ تَعَالَوۡا اَتۡلُ مَا حَرَّمَ رَبُّکُمۡ عَلَیۡکُمۡ اَلَّا تُشۡرِکُوۡا بِهٖ شَیۡئًا وَّ بِالۡوَالِدَیۡنِ اِحۡسَانًا ۚ وَ لَا تَقۡتُلُوۡۤا اَوۡلَادَکُمۡ مِّنۡ اِمۡلَاقٍ ؕ نَحۡنُ نَرۡزُقُکُمۡ وَ اِیَّاهُمۡ ۚ وَ لَا تَقۡرَبُوا الۡفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنۡهَا وَ مَا بَطَنَ ۚ وَ لَا تَقۡتُلُوا النَّفۡسَ الَّتِیۡ حَرَّمَ اللّٰهُ اِلَّا بِالۡحَقِّ ؕ ذٰلِکُمۡ وَصّٰکُمۡ بِهٖ لَعَلَّکُمۡ تَعۡقِلُوۡنَ

বল, ‘এসো, তোমাদের উপর তোমাদের রব যা হারাম করেছেন, তা তিলাওয়াত করছি যে, তোমরা তার সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে না এবং মা-বাবার প্রতি ইহসান করবে। আর দারিদ্রের কারণে তোমাদের সন্তানদেরকে হত্যা করবে না। আমিই তোমাদেরকে রিযিক দেই এবং তাদেরকেও দেই। আর অশ্লীল কাজের নিকটবর্তী হবে না- তা থেকে যা প্রকাশ পায় এবং যা গোপন থাকে। আর বৈধ কারণ ছাড়া তোমরা সেই প্রাণকে হত্যা করো না, আল্লাহ যা হারাম করেছেন। এগুলো আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তোমরা বুঝতে পার।

উক্ত আয়াতে স্পষ্ট কোনো প্রাণকে হত্যা করতে নিষেধ করেছেন এই আশঙ্কায় যে, হয়তো তারা অনাহারে মারা যাবে।

এই জন্যই জন্মনিয়ন্ত্রণকে অনেকটা হারাম বলা হয়। বিজ্ঞ আলেমদের থেকে মুফতি সাহেবদের থেকে এই বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নিতে পারেন।

সমস্যা ১৬ – সুদ ও ব্যবসাকে একত্রিত করা

এই বইয়ের ১৬৬ নং পৃষ্ঠায় আছে,

সুদ

সপ্তম শ্রেণীর এই বইতে অর্থনৈতিক জিনিষ শেখানোর নামে সুস্পষ্ট হারাম একটি বিষয় ‘সুদ’ শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি এটিকে উপার্জন হিসেবেও সাব্যস্ত করা হচ্ছে।

অথচ আল্লাহ তা’আলা সুদকে চিরতরে হারাম ঘোষণা করেছেন। যদিও মানুষ মনে করে, এটি ব্যবসার মতোই। কিন্তু এটি ব্যবসা নয়।

সুদভিত্তিক অর্থনীতি যেসব দেশে আছে, সেসব দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা কি, তা আমরা ভালোভাবেই জানি। যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশ ২ বছরের মধ্যে ঘুরে দাঁড়িয়েছে সুদকে দেশ থেকে বিতাড়িত করার মাধ্যমে।

সূরা বাকারার ২৭৫ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন,

اَلَّذِیۡنَ یَاۡکُلُوۡنَ الرِّبٰوا لَا یَقُوۡمُوۡنَ اِلَّا کَمَا یَقُوۡمُ الَّذِیۡ یَتَخَبَّطُہُ الشَّیۡطٰنُ مِنَ الۡمَسِّ ؕ ذٰلِکَ بِاَنَّہُمۡ قَالُوۡۤا اِنَّمَا الۡبَیۡعُ مِثۡلُ الرِّبٰوا ۘ وَاَحَلَّ اللّٰہُ الۡبَیۡعَ وَحَرَّمَ الرِّبٰوا ؕ فَمَنۡ جَآءَہٗ مَوۡعِظَۃٌ مِّنۡ رَّبِّہٖ فَانۡتَہٰی فَلَہٗ مَا سَلَفَ ؕ وَاَمۡرُہٗۤ اِلَی اللّٰہِ ؕ وَمَنۡ عَادَ فَاُولٰٓئِکَ اَصۡحٰبُ النَّارِ ۚ ہُمۡ فِیۡہَا خٰلِدُوۡنَ

যারা সুদ খায়, (কিয়ামতের দিন) তারা সেই ব্যক্তির মত উঠবে, শয়তান যাকে স্পর্শ দ্বারা পাগল বানিয়ে দিয়েছে। এটা এজন্য হবে যে, তারা বলেছিল, ‘ব্যবসাও তো সুদেরই মত। অথচ আল্লাহ বিক্রিকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তির নিকট তার প্রতিপালকের পক্ষ হতে উপদেশ-বাণী এসে গেছে, সে যদি (সুদী কারবার হতে) নিবৃত্ত হয়, তবে অতীতে যা-কিছু হয়েছে তা তারই। আর তার (অভ্যন্তরীণ অবস্থার) ব্যাপার আল্লাহর এখতিয়ারে। আর যে ব্যক্তি পুনরায় (সে কাজই) করল, তো এরূপ লোক জাহান্নামী হবে। তারা তাতেই সর্বদা থাকবে।

সুদের ব্যাপারে আরো বিস্তারিত আলোচনা কোনো আলেমকে জিজ্ঞাসা করলে জানতে পারবেন ইসশাআল্লাহ।

শেষ কথা

এখন সিদ্ধান্ত আপনার। আপনার আদরের সন্তান, ভাই-বোন, ভাতিজা-ভাতিজিকে কি ধার্মিক ও আদর্শবান রাখতে চান নাকি বখাটে ও বাটপার, ইসলাম বিদ্বেষী বানাতে চান?

Scroll to Top