রোড এক্সিডেন্ট

পত্রিকার পাতা খুললেই প্রথমে চোখে পড়ে, অমুক জায়গায় রোড এক্সিডেন্ট ঘটেছে। ঝরে গেছে দুই তিনটি প্রাণ। মায়ের বুক খালি হয়ে গেছে। স্ত্রী বিধবা হয়ে গেছে।

সন্তানরা এতিম হয়ে গেছে। পাড়ায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। কেউ বা বুক ফেঁটে চিৎকার করে কাঁদছে। কেউ বা নিরবে অশ্রু ফেলছে।

“আজকাল উঠতি বয়সের ছেলেদের প্রথম আবদার, বাবা বাইক কিনে দাও।”

না কিনে দিলে রাগারাগি এবং অসন্তুষ্টিমূলক আচরণের কারণে বাবা-মা কিনে দিতে বাধ্য হন।

বাইক এক্সিডেন্ট

নিজের কষ্টের টাকাগুলো বিসর্জন দিয়ে সন্তানের সুখের দিকে তারা মনোযোগী হন। সন্তানকে সুখে রাখতে সর্বাত্বক চেষ্টা করেন।

কিন্তু বাস্তবে একটি বাইক এসব যুবকদের কোন পথে নিয়ে যায়, আপনি কি জানেন?

আজকাল আমরা মিডিয়া, পত্র-পত্রিকার কল্যানে সারা দেশের খবর নিমিষেই জানতে পারি।

অনলাইনের মাধ্যমে ভিডিও আকারে বা স্ট্যাটাস আকারে আমরা প্রাচ্যের খবর প্রাচাত্যে বসেও পেতে পরি।

রোডে রোডে বাইক এক্সিডেন্টের ঘটনা আজ নতুন নয়। বহু আগ থেকেই অস্বাভাবিক স্টাইলিং এর কারণে প্রাণ হারিয়েছে অনেক যুবকরা।

যারা তাদের মা-বাবার নিকট আশার প্রদীপ ছিল। তাদের নিয়ে মা-বাবা অনেক স্বপ্ন দেখতো। এই দোষ শুধু যুবকদের নয়,

আমাদের অসচেতনের কারণেও কখনো কখনো এসব এক্সিডেন্ট ঘটে।

গত দুইদিন আগে আমি বাসে করে আসছিলাম। সীট সংখ্যা থেকে অতিরিক্ত লোক বাসে উঠায় স্বভাবগতই আমাদের দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।

আমিও বাসের দরজার পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলাম। বাসটি মৌচাক-মগবাজার ব্রিজ অতিক্রম করছিল।

রোড এক্সিডেন্ট

আমাদের বাসটির পাশ দিয়েই সিএনজিগুলো যাচ্ছিলো এক এক করে। হঠাৎ পেছন থেকে একটা বাইক এসে ছোট্ট ফাঁকা জায়গাতে বাইক ডুকিয়ে দিল।

আর একটুর জন্য সে এক্সিডেন্ট করতো। কিন্তু ভাগ্যক্রমে সে বেঁচে গেছে।

কিন্তু যখন বাসের লোকেরা তাকে এমন কাজ থেকে সাবধান থাকতে বললো তখন সে উল্টো বাসের লোকদের উপরই ক্ষেপে গেল।

আমি বাস্তবতার প্রেক্ষিতে একটা ঘটনা বলি।

গত ৩ই সেপ্টেম্বর ২০২০ নোয়াখালীর রায়পুর উপজেলায় বাইক এক্সিডেন্টে প্রাণ হারায় আমার ফুফাতো ভাই মোঃ ইউনুস।

(আল্লাহ তাকে জান্নাত নসীব করুন)। ইউনুস ভাই এক্সিডেন্ট করেন মাথায় আঘাত লেগে। আর ভাইয়া এমন সময় মৃত্যুবরণ করেছেন, যখন তার একটি বিশেষ দিন সামনে ছিল।

ভাইয়া একটি ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন। গত ৭ই সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে তার এক সন্তান দুনিয়াতে আসে।

যেই সন্তানের জন্মের ৪ দিন আগে তার বাবা ইন্তিকাল করেছেন।

যখন তার বুঝও হয় নি। মৃত্যু কি জিনিষ, সে জানেও না। সেই সন্তান চিরতরে বাবার আদর স্নেহ থেকে বঞ্চিত হলো।

আপনি সেই মায়ের ব্যাপারে ভাবুন, যার স্বামী মারা গিয়েছে সন্তান জন্মের ৪দিন পূর্বে।

এমন পরিস্থিতিতে উক্ত মায়ের জন্য পৃথিবী কতটা সংকীর্ণ, তা তিনিই একমাত্র ভালো বুঝবেন।

এটা হলো উদাহরণস্বরুপ একটি সত্য ঘটনা। এখন কথা হলো আমরা যে বাইক ব্যবহার করি, তা কতুটুকু প্রয়োজন?

উবায়দুল্লাহ মাহদী কে ছিলেন? জানতে পড়ুন।

বাইকের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা যায় না।

কিন্তু বাইক চালানোর সময় যদি আমরা কিছু বিষয় সম্পর্কে সতর্কতা অবলম্বন করি তাহলে আমরা কিছুটা হলেও লাভবান হবো।

সর্বপ্রথম যেই বিষয়টা জরুরি তা হলো, হেলমেট ব্যবহার করা।

কেউ যদি হেলমেট ব্যবহার না করে বাইক চালায়, তাহলে ছোটখাটো এক্সিডেন্টেও তার নির্ঘাত মৃত্যু হতে পারে। দ্বিতীয়ত বাইকের স্প্রিট নিয়ন্ত্রণে রাখা।

অগোছালোভাবে বাইক না চালানো। তৃতীয়ত সেফটির জন্য সর্বদা হাতে-পায়ে গ্লাফস ব্যবহার করা।

তা ছাড়া আরো কিছু বিষয়ের উপর খেয়াল রাখতে পারেন। যেমন:

গতির উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে। ব্রিজ কিংবা সেতুর মাঝে সাবধানে বাইক চালাতে হবে। হঠাৎ স্প্রীড বাড়িয়ে দিয়ে নিজের জীবনকে বিপন্ন করবেন না।

বাস ট্রাক ওভারটেক করতে যাবেন না। আপানর তাড়াতাড়ি অগ্রসর হওয়া থেকে আপনার জীবন দামী। স্পিড ব্রেকারের দিকে লক্ষ্য রাখবেন।

রাস্তায় বৃষ্টি শুরু হয়ে গেলে কি করবেনঃ

বর্ষাকালে যেকোন সময় বৃষ্টি শুরু হতে পারে। অনেকেই হয়তো বৃষ্টির মাঝে বাইক চালিয়ে অভ্যস্ত।

কিন্তু আপনি যদি অনভিজ্ঞ হউন, তবে কোথাও দাড়িয়ে বৃষ্টি কমার পর রাইড করাটাই মনে হয় ভালো হবে।

বৃষ্টি তে আপনার বাইকের টায়ার কিংবা গ্রিপিং অথবা রাস্তার সাথে চাকার সামঞ্জস্যতা ধরে রাখাটাই অনেক কঠিন ব্যাপার।

আপনি প্রফেশনাল কোন রেস দেখলে দেখবেন যে, যখন ভেজা ভেজা আবহাওয়ায় কোন রেস হয় তখন রেসাররা কিছুক্ষন পর পর তদের বাইকের চাকা পাল্টাচ্ছে।

এ ধরণের টায়ার কে ওয়েট টায়ার বলে।

ওয়েট টায়ার থাকলে আপনার বাইকের স্পীড কমে যাবে আবার বেড়ে যাবে এমন সমস্যা হবে আবার গ্রিপিং সঠিক ভাবে নাও হতে পারে পিচ্ছিল ভাবের জন্য।

তাই এসব ব্যাপারে খুব সাবধান হউন ।

রাস্তার বাঁক লক্ষ্য করে চলাঃ

রাস্তার মাঝে থাকা টারনিং পয়েন্ট মানে বাঁক গুলো দেখে চালান এবং বুঝে নিন কিভাবে সেই জায়গাটুকু আপনি রাইড করে পার হবেন।

আপনার বাইকের সুবিধা এবং কার্যক্ষমতা বুঝে এসব টার্নিং পয়েন্টগুলোর মাঝে টারনিং কিংবা কর্নারিং করে জায়গাটুকু পার হয়ে যান।

আপনার চাকার আকৃতির উপরেও নির্ভর করে আপনি কিভাবে এই ধরণের জায়গা পার হবেন।

যেমন ধরুন এফ জেড বাইকের চাকা একটু গোল আকৃতি হবার কারনে এটি দিয়ে আপনি ভালোভাবে টার্নিং কিংবা কর্নারিং করে পার হতে পারবেন।

আবার অন্যান্য  বাইক যেমন পালসার কিংবা হাংক হলে ঝামেলায় পরতে পারেন সেক্ষেত্রে সাবধানে চালান।

এ ব্যাপারে কিছু  বিষয় আলাদা ভাবে দেখুনঃ

রাস্তাটি অমসৃণ কিংবা ভাঙ্গাচোরা আছে কিনা। কর্নারিং করার জন্য রাস্তার বাঁক এর প্রশস্ত কতটুকু। পিচ্ছিল কিংবা কর্দমাক্ত কিনা।

উপরোক্ত ব্যাপার গুলো থাকলে কর্নারিং করা আপনার জন্য বিপদজনক  হতে পারে। উপরোক্ত নির্দেশনাগুলো মানতে পারলেই আমরা রোড এক্সিডেন্ট থেকে নিরাপদ থাকতে পারবো ইনশাল্লাহ।

(এই লেখাটি লিখেছিলাম ০৪/০৯/২০২০ তারিখে)

আরো পড়ুন

বিখ্যাত তুর্কি আলেম মাহমূদ আফেন্দী কে ছিলেন

সমুদ্রের পানি কোন পদ্ধতিতে পান করার উপযুক্ত হয়

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাব্সক্রাইব করতে ভুলবেন না।

আমি একজন ইসলামিক আলোচক, লেখক। ছোটবেলায় পড়ালেখা করেছি কওমী মাদ্রাসায়। পরবর্তীতে সাইন্স বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে কৃতিত্বের সাথে পাশ করি। বর্তমানে আমি ডিপ্লোমা ইন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ অধ্যায়নরত। অবসরে আমি বই পড়তে পছন্দ করি। নতুন কিছু শিখতে, নতুন কিছু জানতে ভালোবাসি। আমার ইচ্ছা, ভালো মানুষ হয়ে সমাজকে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে বিরত রাখার চেষ্টা করা।

https://www.arhasan.com