যেই দশটি আমল করলে ফেরেশতারা দোয়া করে

যেই দশটি আমল করলে ফেরেশতারা দোয়া করে – প্রতিনিয়্যত আমরা বিভিন্ন আমল করি। আমাদের আমলের মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন।

ইবাদাতের ক্ষেত্রে আল্লাহ তা’আলা আমাদের বেশ কিছু গিফট দিয়েছেন। এসব গিফটগুলোর মধ্যে একটি হলো অন্যের মাধ্যমে দোয়া করানো।

এর মানে অপর কোনো ব্যক্তিকে দিয়ে দোয়া করানো নয়। স্বয়ং ফেরেশতাদের দিয়ে দোয়া করানো। ফেরেশতারা হলো নিষ্পাপ।

ইবনে বাত্তাল রহ. বলেন, ফেরেশতাদের দোয়া কবুল হয়। সুতরাং আমরা যদি এমন কিছু কাজ করি,

যার মধ্যমে ফেরেশতারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন, তাহলে তা আমাদের জন্য অতি উত্তম।

এমন দশটি আমল আছে, যেগুলো করলে ফেরেশতারা আমাদের জন্য দোয়া করতে থাকেন। এগুলোকে ইবাদাতের ক্ষেত্রে অটোমোশনও বলা যায়। আমলগুলো হলো,

১. সালাত শেষে মসজিদে বসে থাকা।

২. প্রথম কাতারে সালাত আদায় করা।

৩. সালাতের কাতার মিলিয়ে নেওয়া।

৪. সদকা করা।

৫. রুগী দেখতে যাওয়া

৬. অপর মুসলিম ভাইয়ের জন্য দোয়া করা।

৭. উত্তম কিছু শিক্ষা দেওয়া

৮. সেহরি করা।

৯. পবিত্রতার সাথে ঘুমানো।

১০, রাসূল সা. এর প্রতি দরূদ পাঠ করা

উপরোক্ত আমলগুলোর রেফারেন্স হিসেবে নিচে কিছু হাদীস উল্লেখ করা হলো।

বুখারী ৬২৬

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ “‏ الْمَلاَئِكَةُ تُصَلِّي عَلَى أَحَدِكُمْ مَا دَامَ فِي مُصَلاَّهُ مَا لَمْ يُحْدِثْ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ، اللَّهُمَّ ارْحَمْهُ‏

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যতক্ষণ তার সালাতের স্থানে থাকে

তার উযূ (ওজু/অজু/অযু) ভঙ্গ না হওয়া পর্যন্ত তার জন্য ফিরিশতাগণ এ বলে দোয়া করতে থাকে যে, ইয়া আল্লাহ! আপনি তাঁকে মাফ করে দিন, ইয়া আল্লাহ! আপনি তার উপর রহম করুন।

বুখারী ১৪৪২

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَا مِنْ يَوْمٍ ُصْبِحُ الْعِبَادُ فِيهِ إِلاَّ مَلَكَانِ يَنْزِلاَنِ فَيَقُولُ أَحَدُهُمَا اللَّهُمَّ أَعْطِ مُنْفِقًا خَلَفًا وَيَقُولُ الآخَرُ اللَّهُمَّ أَعْطِ مُمْسِكًا تَلَفًا

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রতিদিন সকালে দু’জন ফেরেশতা অবতরণ করেন। তাঁদের একজন বলেন,

হে আল্লাহ! দানকারীকে তার দানের উত্তম প্রতিদান দিন আর অপরজন বলেন, হে আল্লাহ! কৃপণকে ধ্বংস করে দিন।

তিরমিযি ২০০৮

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ مَنْ عَادَ مَرِيضًا أَوْ زَارَ أَخًا لَهُ فِي اللَّهِ نَادَاهُ مُنَادٍ أَنْ طِبْتَ وَطَابَ مَمْشَاكَ وَتَبَوَّأْتَ مِنَ الْجَنَّةِ مَنْزِلاً ‏”‏ ‏

আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ

যে লোক আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টি হাসিলের আশায় কোন অসুস্থ লোককে দেখতে যায় অথবা নিজের ভাইয়ের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করতে যায়,

একজন ঘোষক (ফিরিশতা) তাকে ডেকে বলতে থাকেনঃ কল্যাণময় তোমার জীবন, কল্যাণময় তোমার এই পথ চলাও। তুমি তো জান্নাতের মধ্যে একটি বাসস্থান নির্দিষ্ট করে নিলে।

তিরমিযি ২৬৮৫

‏ إِنَّ اللَّهَ وَمَلاَئِكَتَهُ وَأَهْلَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ حَتَّى النَّمْلَةَ فِي جُحْرِهَا وَحَتَّى الْحُوتَ لَيُصَلُّونَ عَلَى مُعَلِّمِ النَّاسِ الْخَيْرَ ‏

আবূ উমামা আল-বাহিলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহ্ তা’আলা নিজে এবং তাঁর ফিরিশতাগণ, আসমান ও যমীনের সব অধিবাসী এমনকি গর্তের পিপীলিকা ও (পানির) মাছ পর্যন্ত মানুষকে কল্যাণপ্রসূ শিক্ষকের (আলিমের) জন্য অবশ্যই দু’আ করে থাকেন।

গাজ্জার জন্য অনুদান

৭ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে তুফানুল আকসা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জায় অসংখ্য মানুষ আহত ও শহীদ হয়েছে। বহু মানুষ নিজেদের ঘর-বাড়ী হারিয়েছে। এছাড়াও বর্তমানে গাজ্জার ৯৮% মানুষ অনাহারে জীবন-যাপন করছে। গাজ্জার মানুষের এই দুঃসময়ে আমরা যদি তাদের পাশে না দাঁড়াই তাহলে কে দাঁড়াবে?

আর-রিহলাহ ফাউন্ডেশন তুফানুল আকসা যুদ্ধের শুরু থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জার জন্য ডোনেশন সংগ্রহ করে আসছে। এই মহান কাজে আপনিও আমাদের সাথে যুক্ত হতে পারেন।

অনুদান দিন

Scroll to Top