মুশারাকা বা অংশীদারী কারবার

মুশারাকা শব্দটি আরবি। যেটির বাংলা অর্থ হলো শরিকানা। তাই বুঝা যাচ্ছে, এই নীতির ব্যবসাতে শরীক থাকে।

মূলত মুশাকারা চুক্তি হয় দুইটি গ্রুপ বা দুইজন ব্যক্তির মধ্যে।

উদাহরণ দিলে এটা আরো ভালোভাবে বুঝা যাবে। যেমন ধরে নিন, আবু বকর ও উমর নামে দুইজন ব্যক্তি একত্রে ব্যবসা করতে চাচ্ছে।

তখন তারা প্রথমত মোট মূলধনের অর্ধেক অর্ধেক এনে একত্রে পেশ করতে পারে। চাইলে কমবেশিও করা যায়।

এখানে চুক্তি হওয়ার সময়েই সব লিখিত থাকতে হবে।

ইসলামের অন্যতম একটা বিধান হলো, চুক্তি সর্বদা লিখে রাখতে হয়।

এখন মুশারাকা চুক্তির ভিত্তিতে এই ব্যবসায় উভয়জন সমান। অর্থাৎ একজন কোনো বিষয়ে একক সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না।

উভয়জনের সম্মতিতে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হবে।

বীমা কাকে বলে? পড়ুন

মুশারাকা চুক্তিতে যে কোনো একজন বা (প্রতিষ্ঠান হলে) এক গ্রুপ নোটিশ দিয়ে চুক্তি থেকে সরে যেতে পারে।

এর ফলে মুশারাকা চুক্তি বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

আর চুক্তি শেষ হওয়ার পর যদি সে সময় ইনভেস্টের সম্পূর্ণ সম্পদ অর্থ হিসেবে অর্থাৎ টাকা আকারে থাকে,

(অর্থনীতির ক্ষেত্রে এটাকে তরল সম্পদ বলা হয়) তাহলে তা তাদের অংশ বা পার্সেন্ট অনুপাতে বন্টন হবে।

আর যদি উক্ত সম্পদ অর্থ হিসেবে না থাকে তাহলে এ ক্ষেত্রে দুটো পদ্ধতি রয়েছে।

মুশারাকা

যেমন

১. দ্রব্যগত সম্পদকে বিক্রি করে তার মূল্য ভাগ করে নেবে

২. দ্রব্যসমূহ পরষ্পর অংশ অনুপাতে ভাগ করে নেবে

এখন ধরে নিন, একটা ভেজাল লাগলো। একজন চাচ্ছে, সম্পদ বন্টন করতে।

অপরজন চাচ্ছে, তা বিক্রি করে টাকা ভাগ করে নিতে, তাহলে এখানে সর্বশেষে যেই মতটি আসবে, তা চূড়ান্ত হিসেবে গন্য হবে।

এটা এভাবে বুঝ, আবু বকর বললো, আমি টাকা চাই। ওমর বললো, আমি দ্রব্যগত সম্পদ চাই।

তখন ওমরের মত চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হবে। কারণ, এটাই সর্বশেষ মত ছিল।

এর কারণ হলো, মুশারাকা চুক্তিতে ইনভেস্ট করার পর তা দিয়ে কেনা পণ্যের উপর পরষ্পরের যৌথ মালিকানা থাকে। তাই একে অপরকে কোনোরূপ চাপ প্রয়োগ করতে পারবে না।

কিন্তু যদি এমন হয়, পণ্য আলাদা করা যায় না, তাহলে তা বিক্রি করে মূল্য ভাগ করবে। যেমন হতে, পারে, লেদ মেশিন কিনলো ১৬ লাখ টাকা দিয়ে আবু বকর ও উমর।

এখন এটার ক্ষেত্রে বিতর্ক লাগলে দ্রব্য দেয়া যাবে না। কারণ, মেশিনের পার্ট খুলে খুলে ব্যবহার করা যায় না। এতে এর গুণ নষ্ট হয়ে যায়। তাই এই মেশিন বিক্রি করে টাকা ভাগ করে নিবে।

এতুটুকুই ছিল মুশারাকা সম্পর্কে আলোচনা।

তথ্যসুত্র

ইসলামী ব্যাংকিং ও অর্থায়ন পদ্ধতিমাওলানা তকী উসমানী। পৃষ্ঠা ২৯-৪৬

বন্ধুত্ব কাকে বলে? পড়ুন

গাজ্জার জন্য অনুদান

৭ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে তুফানুল আকসা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জায় অসংখ্য মানুষ আহত ও শহীদ হয়েছে। বহু মানুষ নিজেদের ঘর-বাড়ী হারিয়েছে। এছাড়াও বর্তমানে গাজ্জার ৯৮% মানুষ অনাহারে জীবন-যাপন করছে। গাজ্জার মানুষের এই দুঃসময়ে আমরা যদি তাদের পাশে না দাঁড়াই তাহলে কে দাঁড়াবে?

আর-রিহলাহ ফাউন্ডেশন তুফানুল আকসা যুদ্ধের শুরু থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জার জন্য ডোনেশন সংগ্রহ করে আসছে। এই মহান কাজে আপনিও আমাদের সাথে যুক্ত হতে পারেন।

অনুদান দিন

Scroll to Top