মিশর বিজয়

মিশর বিজয় – প্রাচীনকাল থেকেই মিশর ছিল উৎকৃষ্ট ভূমি। এখানে বহুকাল যাবৎ বসবাস করে আসছে বিভিন্ন জাতি-উপজাতি।

পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মের ব্যক্তিরা মুসা আ. এর পূর্ব থেকেই তাদের প্রভাব বিস্তার করে আসছে।

মুসলমানদের বাইতুল মাকদিস বিজয়ের পর হযরত আমর বিন আস রা. এর অন্তরে ইসলামী বাহিনীর মিসরের প্রতি অগ্রসর হওয়ার ইচ্ছা জন্মায়।

হযরত আমর রাঃ ব্যবসায়ী হওয়ার কারণে ইসলামের পূর্বেও এই মিশরে সফর করেছিলেন।

তিনি তখন খুব কাছ থেকে মিশরের সামরিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে অবগত হয়েছেন।

মিশর দেশটি কেমন

মিশর অঞ্চলের অধিকাংশ এলাকাই হলো গ্রামীণ। শুধু নীলনদ  এবং রোম সাগরের উপকূলে গড়ে উঠা দুই তিনটি শহরের উপর কর্তৃত্ব করেই গোটা মিশর কবজায় আনা সম্ভব।

মিশরে তখন চলছিল খৃষ্টান ধর্মের জয়-জয়কার। কিন্তু তারা তখন খৃষ্টান জগতের মধ্যমনি রোমানদের সাথে ভিন্নমত পোষণ করতো।

এ ছাড়াও তারা রোমান সম্রাটের প্রতি বেজায় অসন্তুষ্ট ছিল। এর কারণ ছিল,

মিশরের শাসক মুকাওকিস সম্রাটকে খুশী করার জন্য মিশরীয়দের উপর নির্যাতন করতো।

এ সকল বিষয়গুলো সামনে রেখে হযরত আমর বিন আস রাঃ খলিফা উমর রাঃ এর নিকট মিশর জয়ের আহবান জানান ও অনুমতি প্রদান করতে বলেন।

হযরত ওমর রাঃ তখন খানিকটা দ্বিধায় ছিলেন। কারণ প্লেগ ও মহামারির কারণে অনেক মুসলমান মৃত্যুবরণ করেছেন।

এ ছাড়াও তখন ইরানের সাথে মুসলমানদের যুদ্ধ হচ্ছিল। তাই এই পরিস্থিতিতে নতুন কোনো অভিযান চালানো যুক্তিযুক্ত ছিল না।

হযরত ওমর রাঃ তখন আমর রাঃ কে চিঠি লিখেন, তোমার বাহিনী নিয়ে অগ্রসর হও।

কিন্তু মিশরের সীমানায় প্রবেশের পূর্বে আমার চিঠি আসলে ফিলে আসবে।

মিশর বিজয়

আমর রাঃ এর মিশর যাত্রা

হযরত আমর রাঃ অনুমতি পাওয়ার সাথে সাথেই মাত্র ৪ হাজার মুজাহিদ বাহিনী নিয়ে শাম থেকে মিসরের দিকে রওয়ানা হন।

কিছুদিন অগ্রসর হওয়ার পর হঠাৎ একদিন ওমর রাঃ এর চিঠি আসে যে, তোমরা ফিরে আস।

কিন্তু ততক্ষণে আমর রাঃ মিসরের সীমান্ত অতিক্রম করে আরিশ অঞ্চলে পৌঁছে গিয়েছেন।

তিনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতেন যে, মিশর অভিযানে তিনি সফর হবেন। এটি ১৯ হিজরী ঘটনা।

আমর রাঃ এর মহানুভবতা

হযরত আমর বিন আস রাঃ জানতেন যে, মিশরের বাদশাহ মুকাওকিস নবীজির দাওয়াতি চিঠিকে সম্মান করেছিলেন।

তাই তিনি স্থানীয়দের সাথে উত্তম আচরণ করে তাদের মন জয় করে নেন। মিসরের বড় পাদরী মুসলমানদের মোকাবেলায় সৈন্য নিয়ে আমর রাঃ এর নিকট উপস্থিত হন।

কিন্তু সে আমর রাঃ এর সাথে মিসরবাসীর উত্তম আচরণ দেখে বলে উঠলো, এত দূরবর্তী আত্মীয়তার সম্পর্ক কেবল নবীরাই বহাল রাখেন।

পরিশেষে আমর রাঃ সীমান্তবর্তী আরিশ ও বিলবিস দুর্গ জরে নীলনদের তীরবর্তী মিসরের রাজধানী পর্যন্ত অর্থাৎ ব্যবিলন শহর পর্যন্ত পৌঁছে যান।

মিসরের বাদশাহ মুকাওকিস এখানেই অবস্থান করছিলেন। তিনি মুসলমানদের সাথে সন্ধি করতে চাচ্ছিলেন। কিন্তু ইউরোপ থেকে রোমান সম্রাটের নির্দেশ আসে যে, তোমরা যুদ্ধ চালিয়ে যাও।

শেষ পর্যন্ত মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য মুকাওকিস প্রস্তুত হয়।

আমর রাঃ এর শহর অবরোধ

হযরত আমর বিন আস রাঃ শহব অবরোধ করে মুকাওকিসকে আত্মসমর্পনের জন্য বলেন। প্রায় সাত মাস এই শহর অবরোধ হয়ে থাকে।

অবশেষে উমর রাঃ ১৯ হিজরীর জুমাদাল উখরা মাসে ১২ হাজার মুজাহিদদের একটি বাহিনী পাঠান। যার নেতৃত্বে ছিলেন হযরত যুবাইর ইবনুল আওয়াম, উবাদা বিন সামেত, মিকদাদ বিন আসওয়াদ রাঃ প্রমুখ।

একদিন যুবাইর রাঃ কিছু জানবাজ সাথি নিয়ে সিঁড়ি লাগিয়ে একা একা দেয়ারের প্রাচীরে উঠে যান। লড়াই করতে করতে তারা ভেতরে নেমে দরজা খুলে দেন।

এইভাবে ২০ হিজরীর রবিউস সানিতে এই দুর্গ মুসলমানদের করায়ত্ব হয়। মুসলিম সিপাহসালার ও সেনাপতি আমর রাঃ মুকাওকিসসহ স্থানীয় কিবতি ও রোমানদের নিরাপত্তা দেন।

মুকাওকিসের পলায়ন ও মিশর বিজয়

মুকাওকিস এই পরাজয় মেনে নিতে পারে নি। তাই সে রোম উপসাগরের তীরে অবস্থিত আলেকজান্দ্রিয়া শহরে গিয়ে দুর্গবন্দি হয়ে যায়।

আমর রাঃ উক্ত শহরটি জয়ের ইচ্ছা করলেন। রোমান সম্রাট মুসলমানদের পরিকল্পনা বুঝতে পেরে অত্যন্ত শক্তিশালী একটি বাহিনী পাঠিয়ে দেয়।

আলেকজান্দ্রিয়া অবরোধকালেই সম্রাট হিরাক্লিয়াস মারা যায়। এরপর সম্রাট হয় তার ছেলে কনস্টান্টিন। সে ছিল অল্প বয়স্ক ও অনভিজ্ঞ।

তাই সে মুকাওকিসের ইচ্ছার বিরুদ্ধে মুসলমানদের সাথে সন্ধিচুক্তি করে। এর ফলে মিশর বিজয় লাভ করে এবং এশিয়া মাইনর ব্যতিত অবশিষ্ট অঞ্চল রোমানদের নিকট হতে হাতছাড়া হয়ে যায়।

আমি একজন ইসলামিক আলোচক, লেখক। ছোটবেলায় পড়ালেখা করেছি কওমী মাদ্রাসায়। পরবর্তীতে সাইন্স বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে কৃতিত্বের সাথে পাশ করি। বর্তমানে আমি ডিপ্লোমা ইন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ অধ্যায়নরত। অবসরে আমি বই পড়তে পছন্দ করি। নতুন কিছু শিখতে, নতুন কিছু জানতে ভালোবাসি। আমার ইচ্ছা, ভালো মানুষ হয়ে সমাজকে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে বিরত রাখার চেষ্টা করা।

https://www.arhasan.com