বোরকা কি ফ্যাশন নাকি শরীয়াহ নির্দেশিত পোশাক?

বোরকা কি ফ্যাশন নাকি শরীয়াহ নির্দেশিত পোশাক? নারীদেরকে বলা হয়েছিল, তোমরা নিজেদের শরীর গায়রে মাহরামের নিকট হতে ঢেকে রাখ। এছাড়াও নারীদের পুরো শরীর সতরের অন্তর্ভূক্ত।

তাই এখন তাদের শরীরের কতটুকু ঢাকা ওয়াজিব, এটি নিয়ে ফুকাহায়ে কেরামের মধ্যে মূলগত তেমন কোনো ইখতিলাফ নেই। কাজের সুবিধার্থে হাতের কব্জি পর্যন্ত ও চোখ খোলা রাখাকে জায়েজ বলেছেন আলেমরা।

ইসলামী ইতিহাস থেকে জানা যায়, নারী সাহাবীরা ও তাবেয়ীরা এত বড় কাপড় পরিধান করতেন যে, তাদের শরীরের উচ্চতা ও পার্শ্ব বুঝা যেত না।

আর তারা রাস্তা দেখার সুবিধার্থে এক চোখ খোলা রাখতেন। প্রয়োজন না হলে দুই চোখই ঢেকে রাখতেন।

বর্তমান সময়ে অনেক নারীই বোরকা পরিধান করে। যা পর্দার পরিপূরক। বোরকার মাধ্যমে অনেকটাই পর্দা রক্ষা করা সম্ভব হয়।

১৫/২০ বছর আগেও নারীদের দ্বীনদারিতা পরিমাপ করা হতো বোরকা পরিধান করা নিয়ে।

যে যত ঢোলা বোরকা পরিধান করতো ও পুরো শরীর ঢেকে রাখতো তাকে মানুষ বুযুর্গ নারী মনে করতো।

যুগ পাল্টেছে। আমি যখন হেফজখানায় পড়তাম তখন আমার এক সহপাঠী একদিন বললো, তার স্কুল পড়ুয়া বোন বাসায় বায়না ধরেছে তাকে বোরকা কিনে দিতে হবে।

আমি তখন বললাম, মাশাআল্লাহ কত দ্বীনদার মেয়ে তোমার বোন।

সে তখন হেসে বললো, আরে না। আমার বোন বোরকা চাচ্ছে এজন্য যে, তার শরীরে রোদ লাগে।

রোদ থেকে বাঁচতে সে বোরকা কিনতে চায়। ঘটনাটা সম্ভবত ২০১৩ সালের।

আমি এই কথা শুনে বড় একটি শক খেয়েছিলাম। ছোটবেলা থেকে দাদী-নানী, মাকে দেখে আসছি যে তারা বোরকা পরিধান করে। তাহলে তারা কেন পড়ে?

পরে আর উত্তর খোঁজার কথা মনে ছিল না। হাল আমলে নারীদের বোরকা পরিধান করে বিকৃত কার্যকলাপে লিপ্ত থাকা দেখে বিষয়টা আবার মনে পড়লো। কেন নারীরা বোরকা পরিধান করে? উদ্দেশ্য কি?

যারা ঈমানী কারণে ও ধর্মীয় কারণে পর্দা করে তাদের পর্দার জন্য বোরকা থাকে একেবারে কালো।

ক্ষেত্রবিশেষে তারা চোখ ঢেকে রাখে। তবে বর্তমানে চোখ ঢেকে পর্দা করে এমন নারী অনেক অনেক কম! আমার পেয়ারে দ্বীনী ভাইয়েরা প্রথমে এই চোখের ফাঁদে পড়ে।

2

আর যারা ফ্যাশনের জন্য বোরকা পড়ে বা সৌন্দর্য প্রদর্শনের জন্য বোরকা পরিধান করে, তারা আবার ভিন্নভাবে এই কাজটা করে।

তারা কালো-সাদা মিক্স করা বোরকা পরিধান করে। আরো বিভিন্ন রকম বোরকা পরিধান করে।

তাদের জন্য দোকানে হরেক রকম ও হরেক ডিজাইনের বোরকা সাজানো আছে।

তারা কখনো মুখ খোলা রাখবে আবার কখনো মুখ ঢেকে রাখবে। তারা টাইটফিট বোরকা পরিধান করে।

আর ঢিলেঢালা পরলেও চোখ এত বেশি খোলা রাখে যে, চেহারার খানিকটা দৃষ্টিগোচর হয়। বর্তমানে আরেকটা নব্য ফেতনা শুরু হয়েছে।

তা হলো, বোরকার উপরে কপালের অংশে আরবিতে “মাশাআল্লাহ”, “আলহামদুলিল্লাহ”, “সুবহানাল্লাহ” স্টিকার ব্যবহার করা।

আবার কেউ কেউ আছে মাস্ক পরিধান করে ভাবে, এটাই বোধহয় পর্দা।

আমি যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তাম ইন্সটিটিউটে তখন সেখানে কিছু আশ্চর্যজনক ‍দৃশ্য দেখেছিলাম।

আমাদের এক ম্যাম ছিল। ম্যাথ পড়াতেন। তিনি রাস্তাঘাটে, অফিস-আদালতে সর্বদা পরিপূর্ণ বোরকা পরিধান করতেন। কিন্তু ক্লাসরুমে এসে তিনি মুখ থেকে নিকাব খুলে ফেলতেন। চেহারা খুলে ক্লাস করাতেন। আরেকজন ম্যাম ছিল আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং ড্রয়িং করাতেন। তাকে ক্লাসে দেখেছিলাম পরিপূর্ণ বোরকা পরিধান করতে। কঠিন গরমে হিট ওয়েবের সময়েও তিনি বোরকা ধরে রেখেছিলেন। আমি ভেবেছিলাম এত বড় দ্বীনদার নারী এই ইন্সটিটিউটে কিভাবে আছে। পরীক্ষার আগে আমার ড্রয়িং পেজগুলো সাক্ষর করার জন্য একদিন আমাদের সকলকে একটি ক্লাসরুমে ডাকলেন। একজন নারী মুখ খুলে প্রবেশ করলো। আমি ভেবেছিলাম হয়তো অন্য কোনো ম্যাম। কিন্তু ছেলেরা দেখি তার থেকেই সাক্ষর নিচ্ছে। আমি একপাশে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে একজন বললো উনিই ম্যাম। আকাশ থেকে পড়লাম! এটাও কি সম্ভব? পরে আমার এক ক্লাসমেট বললো, তারা পারিবারিক উত্তসূরি হিসেবে বোরকা পরিধান করে। দ্বীনদারিতার কারণে নয়। কথাটা মন্দ বলে নি। আবার ডিপার্টমেন্টসহ ইন্সটিটিউটে আরো কিছু ম্যাম ছিল। তারা পুরো শরীরে কালো বা অন্য রঙয়ের বোরকা পরিধান করতেন। কিন্তু হয় মুখ খুলে রাখতেন অথবা মাস্ক ব্যবহার করতেন! এটাকেই তারা মনে করে পর্দা।

3

একটা জিনিস খেয়াল করেছেন? এখন পর্যন্ত যতগুলা ভিডিও ভাইরাল হলো মেয়েদের ইফতার ফ্রী মিক্সিং রঙ মাখামাখি নিয়ে সবগুলাতে একটাও দাঁড়িওয়ালা টুপিওয়ালা ছেলে না থাকলেও একদম খাস পর্দানশীল মেয়ে ঠিকই ছিলো।

কিন্তু কেনো? এটা প্রশ্নটা সত্যিই ভাবনার বিষয়। নারীদের একটা কমন চিন্তা আছে।

তাদের নিকট দ্বীনদারীতার সীমানা হলো বোরকা পরিধান করে বা চেহারা ঢেকে দুনিয়ার সব করা যায়।

সঠিক দ্বীনদারিতা না থাকার কারণে এমন উদ্ঘট চিন্তাধারা তারা লালন করে।

আমাদের বাঙালীদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, আমরা ইসলামের বেসিক জ্ঞানগুলোও ঠিকঠাক মতো রাখি না। আমরা নামাজ-রোজা, হজ্জ, যাকাতকেই ইসলাম মনে করি।

ইসলাম যে একটি সমাজব্যবস্থা, একটি ব্যক্তিজীবনের সকল সমস্যার সমাধান – তা মানতে চাই না।

তাই তো আমরা সংখ্যায় এত বেশি হয়েও মাইর খাই। উগ্র হিন্দুদের ব্লাকমেইলের শিকার হই।

এখন পর্যন্ত ভাগওয়া লাভ ট্রাপের যতগুলো কেস দেখেছি, সব জায়গায় একই সমস্যা। প্রেমের ফাঁদ।

প্রিয় বোন! প্রেম কি ইসলামে হালাল? তাহলে তুমি কিভাবে তাদের ফাঁদে পা দাও?

বিয়ের জন্য মেয়ে ঠিক করার পর কবুল করার আগে উক্ত মেয়ের সাথে পরিচিত হওয়ার নামে আলাদা কথা বলা পর্যন্ত জায়েজ নেই।

আর তুমি তাদের নরম কথার ফাঁদে পড়ে প্রেম করতে চাও? তোমার এত চুলকানি কেন?

সর্ট লিংক কপি করুন

গাজ্জার জন্য অনুদান

৭ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে তুফানুল আকসা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জায় অসংখ্য মানুষ আহত ও শহীদ হয়েছে। বহু মানুষ নিজেদের ঘর-বাড়ী হারিয়েছে। এছাড়াও বর্তমানে গাজ্জার ৯৮% মানুষ অনাহারে জীবন-যাপন করছে। গাজ্জার মানুষের এই দুঃসময়ে আমরা যদি তাদের পাশে না দাঁড়াই তাহলে কে দাঁড়াবে?

আর-রিহলাহ ফাউন্ডেশন তুফানুল আকসা যুদ্ধের শুরু থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জার জন্য ডোনেশন সংগ্রহ করে আসছে। এই মহান কাজে আপনিও আমাদের সাথে যুক্ত হতে পারেন।

অনুদান দিন

Scroll to Top