গাজ্জার জন্য অনুদান

৭ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে তুফানুল আকসা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জায় অসংখ্য মানুষ আহত ও শহীদ হয়েছে। বহু মানুষ নিজেদের ঘর-বাড়ী হারিয়েছে। এছাড়াও বর্তমানে গাজ্জার ৯৮% মানুষ অনাহারে জীবন-যাপন করছে। গাজ্জার মানুষের এই দুঃসময়ে আমরা যদি তাদের পাশে না দাঁড়াই তাহলে কে দাঁড়াবে?

আর-রিহলাহ ফাউন্ডেশন তুফানুল আকসা যুদ্ধের শুরু থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জার জন্য ডোনেশন সংগ্রহ করে আসছে। এই মহান কাজে আপনিও আমাদের সাথে যুক্ত হতে পারেন।

অনুদান দিন

যখন রাসূল সা. ২০ বছর বয়সের যুবক তখন মক্কায় ঐতিহাসিক ফিজার যুদ্ধ সংগঠিত হয়। এই ফিজার যুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিল কিনানা এবং আয়লানের কায়স গোত্রদ্বয় নিষিদ্ধ মাসে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার কারণে এই ফিজার যুদ্ধ সংগঠিত হয়।

দিনের প্রথম ভাগে কায়স গোত্র কিনানা গোত্রের উপর জয়লাভ করছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের বিজয় কিনানা গোত্রের নিকট চলে আসে।

ফিজার যুদ্ধ এর পটভূমি

উরওয়া আর রিহাল [1] নুমান ইবনে মুনযিরকে ব্যবসা করার অনুমতি দেয়। এই খবর শুনে বনু যামুরা গোত্রের বারায ইবনে কায়স বলে,

কিনানার স্বার্থ নষ্ট করে তুমি নুমানকে ব্যবসা করার অনুমতি দিলে? উরওয়া তখন তাকে অবজ্ঞা করে বলে, হ্যা দিয়েছি আমি।

উরওয়া বারাযকে এই জবাব দিয়ে চলে যায়। বারায তখন প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য ফুসতে থাকে।

মক্কার উঁচু অঞ্চলের যি-তিলাল নামক স্থানে আসার পর উরওয়া অসতর্ক হয়ে পড়ে।

বারাযও তক্কে তক্কে ছিল। সুযোগ বুঝে সে উরওয়ার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং তাকে হত্যা করে। এই ঘটনাটি ঘটে নিষিদ্ধ মাসে। [2]

পরবর্তীতে বারায এই হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে গর্ব করে কিছু পংক্তি আওড়ায়।

মানুষও এটি সম্পর্কে জানতে পারে। আস্তে আস্তে পুরো মক্কায় ছড়িয়ে যায়।

কুরাইশরা যখন জানতে পারে, নিষিদ্ধ মাসে উরওয়াকে খুন করা হয়েছে। তখন তারা হাওয়াযিন গোত্রের চোখ এড়িয়ে গা-ঢাকা দিতে চায়।

এই ঘটনা আবার হাওয়াযিনরাও জেনে ফেলে। ফলে তারা কুরাইশদেরকে ধাওয়া করে।

কুরাইশরা হারামের সীমানায় [3] প্রবেশের পূর্বেই হাওয়াযিনরা তাদেরকে ধরে ফেলে।

তখন সংঘর্ষ শুরু হলে কুরাইশরা যেভাবেই হোক হারাম এলাকায় প্রবেশ করে। ফলে সেদিন আর যুদ্ধ হয় নি। পরদিন আবার যুদ্ধ শুরু হয়।

এই ফিজার যুদ্ধ অনেকদিন যাবৎ চলমান থাকে। ইতিহাসবিদ ‍সুহায়লি বলেন, ফিজার যুদ্ধ হয়েছিল চারটি অথবা চারদিন।

১. শামতা ২. আবলা ৩. শুরব ৪. হারীরা

শেষ পর্যন্ত উতবা উবনে রবীয়ার মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধে দুই পক্ষ সন্ধি করে।

শেষ পর্যন্ত হিজবুল ফুজুল নামে একটি চুক্তি হয়। যা সকলেই মান্য করেছিল।

তথ্যসুত্র

আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৫৭৫-৫৭৬

আর রাহিকুল মাখতুম, পৃষ্ঠা ৬৬

[1] বংশ পরিক্রমা: উরওয়া ইবনে উতবা ইবনে জাফর ইবনে কিলাব ইবনে রবীয়া ইবনে আমির  ইবনে মুআবিয়া ইবনে বকর ইবনে হওয়াযিন।

[2] নিষিদ্ধ মাস হলো চারটি। ১. জিলক্বদ ২. জিলহজ্জ ৩. মহরম ৪. রজব

[3] হারামের সীমানা বলা হয়, মসজিদে হারামের সীমানাকে। কা’বা শরীফের চারপাশকে।

গাজ্জার জন্য অনুদান

৭ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে তুফানুল আকসা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জায় অসংখ্য মানুষ আহত ও শহীদ হয়েছে। বহু মানুষ নিজেদের ঘর-বাড়ী হারিয়েছে। এছাড়াও বর্তমানে গাজ্জার ৯৮% মানুষ অনাহারে জীবন-যাপন করছে। গাজ্জার মানুষের এই দুঃসময়ে আমরা যদি তাদের পাশে না দাঁড়াই তাহলে কে দাঁড়াবে?

আর-রিহলাহ ফাউন্ডেশন তুফানুল আকসা যুদ্ধের শুরু থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জার জন্য ডোনেশন সংগ্রহ করে আসছে। এই মহান কাজে আপনিও আমাদের সাথে যুক্ত হতে পারেন।

অনুদান দিন

Scroll to Top