নীলনদের চিঠি

নীলনদের চিঠি – সবেমাত্র ভূখন্ড জয় করে মুসলমানরা দেশ পরিচালনায় মনোযোগ দিয়েছেন। দেশের অর্থনীতি, সামরিক ও অন্যান্য খাদকে আরো সমৃদ্ধ করার আপ্রান চেষ্টা করছেন আমর বিন আস রাঃ।

কোনো সমস্যা হলে তৎক্ষণাত ওমর রাঃ কে চিঠি লিখে সমস্যার প্রতিকার জানতে চান। ওমর রাঃ অভিজ্ঞদের সাথে পরামর্শ করে তার সমাধান দেন।

মিসরবাসীর অভিযোগ

হঠাৎ একদিন মিসরের কৃষকরা আমর রাঃ এর নিকট উপস্থিত হলো। সকলের চোখে-মুখে হতাশার ছাপ। এ বছর ফসল বেশি হয় নি।

এমনভাবে চলতে থাকলে বছরখানেক পর দুর্ভিক্ষ লেগে যাবে। মরু অঞ্চল হওয়ায় বৃষ্টি খুব কম হয় মিসরে। কিন্তু মিসরের জমিগুলো নীলনদের উপর নির্ভরশীল।

যেভাবে বিজয় হলো মিশর ভূখন্ড, পড়ুন

নীলনদের পানি দ্বারা জমি চাষ করা করে কৃষকরা। গবাদি পশু এবং নিজেরা খাওয়ার জন্যও এই নীলনদের পানি ব্যবহার করে থাকে মিসরের জনগণ।

হযরত আমর বিন আস রাঃ তাদের নিকট উপস্থিত হলেন। জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাদের অভিযোগ কি?

লোকেরা বললো, প্রাচীনকাল থেকেই এই নীলনদের একটি নিয়ম বা রেওয়াজ আছে। প্রতি বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে একজন কুমারী নারীকে নববধুর মতো উত্তম কাপড় পরিধান করিয়ে ও সজ্জিত করে নীলনদে ফেলে দেয়া হতো।

এরপরই নীলনদের পানি নদীর কানায় কানায় ভরপুর হয়ে যেত। এই কাজ না করলে নদীর পানি শুকিয়ে নিচে নেমে যায়।

তাই উক্ত প্রথা পালনের অনুমতি না দেয়া হলে দেশে দুর্ভিক্ষ লেগে যাবে। হযরত আমর রাঃ সব শুনে কঠোরভাবে নিষেধ করলেন।

তিনি বললেন, ইসলামে এমন কুসংষ্কারের কানো স্থান নেই। তারপর হযরত আমর রাঃ তৎক্ষণাত ওমর রাঃ কে ঘটনা লিখে জানালেন।

ওমর রাঃ এর চিঠি

হযরত ওমর রাঃ সব জেনে আমর রাঃ এর নিকট চিঠি লিখলেন। সেখানে তিনি বললেন,

তুমি যা করেছ তা সম্পূর্ণ ঠিক আছে।

আমি তোমাকে একটি ছোট চিরকুট দিচ্ছি। এটি তুমি নীলনদে ফেলে দিবে।

যেভাবে বাইতুল মুকাদ্দাস বিজয় হলো, পড়ুন

হযরত আমর রাঃ যখন উক্ত চিরকুটটি খুললেন তখন তাতে লেখা দেখতে পেলেন,

আমিরুল মুমিনীনের পক্ষ থেকে মিসরবাসীদের নীলনদের নামে। হে নীল! যদি তুমি তোমার খেয়াল খুশির ন্যায় প্রবাহিত হয়ে থাক তাহলে তোমার কোনো প্রয়োজন নেই।

আর যদি তুমি পরাক্রমশালী আল্লাহর নির্দেশে প্রবাহিত হয়ে থাক তাহলে আমরা আল্লাহর নিকট আবেদন করছি যেন তিনি তোমার পানি প্রবাহিত করে দেন।

নীলনদের প্রতি চিঠি নিক্ষেপ

এরপর হযরত আমর বিন আস রাঃ উক্ত কাগজটি রাতের বেলা নীনদের মধ্যে ফেলে দিয়ে আসেন।

স্থানীয় লোকেরা মিসরে পানি না থাকায় মিসর ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল।

সকালবেলঅ তারা দেখতে পায়, নদীতে পানি থৈ থৈ করছে। এরপর থেকে আর কখনো নীলনদের পানি শুকায়নি।

তথ্যসুত্র

মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস। খন্ড ৩। পৃষ্ঠা ২১৮-২১৯

ফাতহুল বুলদান ২১০-২১৩

তারিখুত তাবারী ১০৪-১১২

আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া। খন্ড ১০। পৃষ্ঠা ১০০

ফাতহে মিশর ১৪-৩৪

নীলনদের অপর নাম কি

মিশরবাসীর স্থানীদের ভাষায় এটির নাম আব্ব নদ বা আব্বে ।

নীলনদের দৈর্ঘ্য কত কিলোমিটার

নীলনদের দৈর্ঘ্য ৬ হাজার ৬৯৩ কিলোমিটার

আমি একজন ইসলামিক আলোচক, লেখক। ছোটবেলায় পড়ালেখা করেছি কওমী মাদ্রাসায়। পরবর্তীতে সাইন্স বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে কৃতিত্বের সাথে পাশ করি। বর্তমানে আমি ডিপ্লোমা ইন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ অধ্যায়নরত। অবসরে আমি বই পড়তে পছন্দ করি। নতুন কিছু শিখতে, নতুন কিছু জানতে ভালোবাসি। আমার ইচ্ছা, ভালো মানুষ হয়ে সমাজকে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে বিরত রাখার চেষ্টা করা।

https://www.arhasan.com