ধৈর্যধারণের গুরুত্ব

গাজ্জার জন্য অনুদান

৭ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে তুফানুল আকসা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জায় অসংখ্য মানুষ আহত ও শহীদ হয়েছে। বহু মানুষ নিজেদের ঘর-বাড়ী হারিয়েছে। এছাড়াও বর্তমানে গাজ্জার ৯৮% মানুষ অনাহারে জীবন-যাপন করছে। গাজ্জার মানুষের এই দুঃসময়ে আমরা যদি তাদের পাশে না দাঁড়াই তাহলে কে দাঁড়াবে?

আর-রিহলাহ ফাউন্ডেশন তুফানুল আকসা যুদ্ধের শুরু থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জার জন্য ডোনেশন সংগ্রহ করে আসছে। এই মহান কাজে আপনিও আমাদের সাথে যুক্ত হতে পারেন।

অনুদান দিন

ধৈর্যধারণের গুরুত্ব – লিখেছেন রাসিখ আওয়াব

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ। আজকে আমি আপনাদের সামনে যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা পেশ করবো

তা হলো, সবর তথা ধৈর্যধারণের গুরুত্ব, কারণ মানুষের জীবনে সফলতা অর্জনের জন্য এবং সকল প্রকার সমস্যা মোকাবেলা করার জন্য যে সকল গুণ আবশ্যক ধৈর্য তথা সবর তাদের মধ্যে অন্যতম৷ 

সবর তথা ধৈর্যের যে পয়েন্টগুলো নিয়ে আমি আজকে আলোচনা করবো সেগুলো হলো –   

১. ধৈর্য কাকে বলে?  

২. ধৈর্য কী কী ধরণের হয়ে থাকে?

৩. ধৈর্য ধারণকারীদের মধ্যে কোন কোন গুণাবলী লক্ষ্য করা যায়?

৪. ধৈর্য ধারণের উপকারিতাগুলো কী কী?

৫. ধৈর্য ধারণ সম্পর্কে কুরআন এবং হাদিসে কী বলা হয়েছে?

৬. নবী এবং সাহাবীদের জীবনে ধৈর্যের দৃষ্টান্ত

৭.আমরা কেন ধৈর্য ধারণ করতে পারি না?

৮. ধৈর্য ধারণকারীদের প্রতি শয়তানের কতিপয় কুমন্ত্রণা

৯. কিভাবে আমরা সহজে ধৈর্য ধারণ করবো? এবং

১০. ধৈর্য ধারণ না করার পরিণতি

আল্লাহ আমাকে উক্ত বিষয়গুলো সহজভাবে আলোচনা করার এবং সকলকে আলোচনা অনুধাবন করার তাওফিক দান করুক। আমিন৷     

তাহলে প্রথমেই আসি ধৈর্য কাকে বলে এই আলোচনায় 

ধৈর্য ধারণের অর্থ হলো, সকল পরিস্থিতিতে আল্লাহর উপর ভরসা করে সকল প্রকার অন্যায় ও অনর্থক কাজ থেকে বিরত থাকা এবং আল্লাহর ইবাদাতে কার্পণ্য প্রদর্শন না করা।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায় ধরুন, আপনি রাস্তায় গাড়ি চালাচ্ছেন হঠাৎ একটি বালক আপনার গাড়ির সামনে এসে পড়লো এবং আপনি গাড়ি থামাতে বাধ্য হলেন।

আপনি চাইলে এর জন্য তাকে ধমক দিতে পারতেন, বিরক্তি প্রকাশ করতে পারতেন বা গালিও দিতে পারতেন কিন্তু আপনি তার কোনোটিই করলেন না।

বরং তাকে আদর করে তার ভুলটি শুধরে দিলেন৷ অর্থাৎ, আপনি এর মাধ্যমে ধৈর্যের পরিচয় দিলেন।      

অথবা ধরুন, আপনি একজন সরকারি চাকুরীজীবি। হঠাৎ জরুরী কোনো কারণে আপনার বেশ কিছু টাকার প্রয়োজন হলো৷

আপনি চাইলেই ঘুষ নিয়ে সেই টাকাটা জোগাড় করতে পারতেন কিন্তু আপনি তা না করে কেবল আল্লাহর উপর ভরসা করে হালাল উপার্জন চালিয়ে গেলেন তাহলে এটিও একটি চমৎকার ধৈর্য ধারণের দৃষ্টান্ত হয়ে গেলো।                   

এবার আসি ধৈর্য কী কী ধরণের হয়ে থাকে এই প্রসঙ্গে

ধৈর্য সাধারণত দুই ধরণের হয়ে থাকে।

১. সবর এবং

২. হিলম

সবর (صبر) বলা হয় নিরুপায় হয়ে কোনো কিছু সহ্য করাকে । আর শক্তি থাকা সত্ত্বেও কোনো কিছু সহ্য করাকে বলা হয় হিলম (حلم) ।

তবে অনেকসময় এ শব্দ দুটির একটি আরেকটির অর্থও প্রকাশ করতে পারে।

অর্থাৎ, সবরও হিলমের অর্থ প্রকাশ করতে পারে আবার হিলমও সবরের অর্থ দিতে পারে। একজন মুমিনের জীবনে দুই ধরণের ধৈর্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ধৈর্য ধারণকারীদের মধ্যে কোন কোন গুণাবলী দেখতে পাওয়া যায় এবার এই আলোচনায় আসা যাক

ধৈর্যধারণকারীদের মধ্যে যে সকল গুণ লক্ষ্য করা যায় সেগুলো হলো,

১. খারাপ অবস্থাতেও তাদের মধ্যে হতাশা, অস্থিরতা এবং অসন্তোষ কাজ করে না।

২. সমস্যার সমাধানে তাদের সামনে শত অন্যায় বা অনর্থক কাজের পথ খোলা থাকলেও তারা সেগুলো গ্রহণ করেন না বরং সেগুলোর লোভ থেকে বেঁচে থাকার জন্য তারা সবোর্চ্চ সতর্ক থাকার চেষ্টা করেন।

৩. খারাপ অবস্থায় তারা নিজেদের সমস্যা এবং তার সমাধানের পথ নিয়ে সতর্কতার সাথে চিন্তা করেন।

৪. সমাধানের জন্য যত বৈধ পন্থা তাদের চিন্তায় আসে তার সবগুলোই তারা প্রয়োগ করে সমস্যা সমাধানের জন্য উদ্যোগী হন এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।

৫. সমস্যাটি গুরুতর হয়ে থাকলে তা নিয়ে চিন্তা বা গবেষণার জন্য এবং গবেষণাকে বাস্তবায়নের জন্য তারা পৃথক একটি সময় নির্ধারণ করে থাকেন।

যাতে করে বিষয়টি নিয়ে তারা ভালোভাবে চিন্তা করতে পারেন এবং অন্য কাজের সময় উক্ত সমস্যা তাদের চিন্তার কারণ হয়ে না দাঁড়ায়।

এবার আসি ধৈর্য ধারণের উপকারিতা প্রসঙ্গে

মানুষের জন্য আল্লাহর সবচেয়ে বড় নিয়ামত হলো তার চিন্তা বা গবেষণা শক্তি ।

কারণ এই শক্তি দিয়েই আপনি আল্লাহর উপর ঈমান আনতে পারেন, ভালো-মন্দের বিচার করতে পারেন,

বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে নতুন নতুন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটন করতে পারেন।

আর এই চিন্তাশক্তি কেবল তখনই সঠিকভাবে কাজ করবে যখন আপনি সকল কাজে ধৈর্যের পরিচয় দিতে পারবেন।

এবার আমরা দেখবো  ধৈর্য ধারণ সম্পর্কে কুরআন এবং হাদিসে কী বলা হয়েছে? 

আল্লাহর কাছে কিভাবে সাহায্য চাইতে হবে সে সম্পর্কে বলতে গিয়ে সুরা বাকারার ১৫৩ নং আয়াতে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন,

 يا ايها الذين امنوا استعينوا بالصبر والصلاة ان الله مع الصابرين

“হে ঈমানদারগণ, তোমরা ধৈর্য এবং সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথেই আছেন।”

ধৈর্য কখন ধরতে হবে সে ব্যাপারে কুরআন মাজিদের সুরা লুকমানের ১৭ নং আয়াতে লুকমান নামক একজন জ্ঞানী ব্যক্তির কথাকে হুবহু উদ্ধৃত করে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন,

يَا بُنَيَّ أَقِمِ الصَّلَاةَ وَأْمُرْ بِالْمَعْرُوفِ وَانْهَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَاصْبِرْ عَلَى مَا أَصَابَكَ إِنَّ ذَلِكَ مِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ

‘‘হে আমার প্রিয় বৎস! সালাত কায়েম করো, সৎ কাজের নির্দেশ দাও, অসৎ কাজে নিষেধ করো আর তোমার উপর যাই আপতিত হোক তাতে ধৈর্য ধারণ করো। নিশ্চয় এটি অন্যতম দৃঢ় সংকল্পের কাজ।’’

কুরআন মাজিদে সুরা আয-যুমারের ১০ নং আয়াতে মহান আল্লাহ ধৈর্যধারণকারীদের প্রতিদান সম্পর্কে বলেন,

قُلْ يَا عِبَادِ الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا رَبَّكُمْ ۚ لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا فِي هَٰذِهِ الدُّنْيَا حَسَنَةٌ ۗ وَأَرْضُ اللَّهِ وَاسِعَةٌ ۗ إِنَّمَا يُوَفَّى الصَّابِرُونَ أَجْرَهُم بِغَيْرِ حِسَابٍ

‘‘বল, ‘হে আমার মুমিন বান্দারা যারা ঈমান এনেছ, তোমরা তোমাদের রবকে ভয় কর। যারা এ দুনিয়ায় ভালো কাজ করে তাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ। আর আল্লাহর যমীন প্রশস্ত, নিশ্চয়ই ধৈর্যশীলদেরকেই তাদের প্রতিদান পূর্ণরূপে দেয়া হবে কোন হিসাব ছাড়াই।’’

হাদিসে আছে,

عَنْ صُهَيْبٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ” عَجَبًا لأَمْرِ الْمُؤْمِنِ إِنَّ أَمْرَهُ كُلَّهُ خَيْرٌ وَلَيْسَ ذَاكَ لأَحَدٍ إِلاَّ لِلْمُؤْمِنِ إِنْ أَصَابَتْهُ سَرَّاءُ شَكَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ وَإِنْ أَصَابَتْهُ ضَرَّاءُ صَبَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ ‏‏”

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “মুমিনের বিষয়টি সত্যিই আশ্চর্যজনক৷ নিশ্চয়ই তার প্রতিটি অবস্থাই তার জন্য কল্যাণকর৷ আর এটা মুমিন ছাড়া আর কারো জন্যই নয়৷ যদি সে ভালো অবস্থায় থাকে তাহলে  (আল্লাহর প্রতি) কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে ফলে সে অবস্থা তার জন্য কল্যাণকর হয়ে যায়৷ আর যদি সে কোনো বিপদে পতিত হয় তখন সে ধৈর্য ধারণ করে ৷ ফলে সে বিপদও তার জন্য কল্যাণকর হয়ে যায়।”

সহীহ মুসলিম

এগুলো ছাড়াও কুরআন এবং হাদিসে ধৈর্য সম্পর্কে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কথা বলা হয়েছে

যা আপনারা নিয়মিত কুরআন এবং হাদিস পড়লেই জানতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।

এবার প্রশ্ন হচ্ছে আমরা কেন  ধৈর্য ধারণ করতে পারি না?

যে সকল কারণে আমরা ধৈর্য ধারণ করতে পারি না তার মধ্যে অন্যতম কারণসমূহ হলো,

১.  অজ্ঞতা: কুরআন এবং হাদিসের প্রয়োজনীয় জ্ঞান না থাকার কারণেই মুলত আমরা  ধৈর্য ধারণ করতে পারি না।

২. দ্রুত কাজ করার প্রবণতা: আমরা অধিকাংশ সময় সব কাজ অযথাই দ্রুত সম্পন্ন করার চেষ্টা করি ফলে প্রায়ই আমাদের ধৈর্যচ্যুতি ঘটে থাকে।

৩. শয়তানের কুমন্ত্রণা:

যেহেতু ধৈর্য মানুষকে কেবল উন্নতির পথেই ধাবিত করে তাই শয়তান সব সময় মানুষকে ধৈর্যহীন তথা অস্থির ব্যক্তিতে পরিণত করার চেষ্টা করে থাকে।

আপনি যখন ধৈর্য ধারণ করেন তখন শয়তান আপনাকে প্রথমেই যে কুমন্ত্রণাটি দেয় তার সারমর্ম  অনেকটা এরকম যে,

এভাবে ধৈর্য ধারণের মাধ্যমে সবার সামনে তুমি নিজেকে কেবল দূর্বল আর বোকাই প্রমাণ করে যাচ্ছো। তুমি এখন মাজলুম।

সুতরাং, তোমার উচিত কিছু শক্ত কথা শুনিয়ে দেয়া এবং শক্তি প্রদর্শনের যে সুযোগ আছে তা কাজে লাগানো।

যখনই আপনি শয়তানের এ কুমন্ত্রণায় কান দেন, ওঁৎ পেতে থাকা শয়তান তখনই আপনাকে আটকিয়ে ফেলে,

আপনার নিয়ন্ত্রণ কিছুক্ষণের জন্য নিয়ে নেয় এবং আপনাকে দিয়ে নানা রকম অপকর্ম করাতে থাকে।

এরপর যখন আপনি বুঝতে পারেন যে, শয়তানের ধোঁকায় পড়েই আপনি এমন খারাপ কাজ করেছেন শয়তান তখন তার দ্বিতীয় কুমন্ত্রণাটি নিয়ে হাজির হয়।

তখন সে বলতে থাকে, যা হবার তাতো হয়েই গেলো। সকলেই জেনে গেলো যে তুমি একজন চরিত্রহীন ব্যক্তি ।

সুতরাং, তোমার জন্য সফল হওয়া অত্যন্ত কঠিন কাজ।

তোমার উচিত, সফলতার কঠিন চিন্তা বাদ দিয়ে জীবনটাকে কিছুদিন  সহজভাবে উপভোগ করা।

শয়তানের এই কথা শুনে তখন অনেক মানুষই নেশা করাসহ নানা রকম অন্যায় এবং অশ্লীলকাজে জড়িয়ে পড়ে।

কারণ, এসব কাজের মাধ্যমে খুব সহজেই দুনিয়াবী জীবনকে ক্ষণিকের জন্য হলেও বেশ ভালোভাবে উপভোগ করা যায়।

আর  এভাবেই শয়তান মানুষকে ধৈর্যহীন এবং হতাশ করার মিশন সমাপ্ত করে।

ধৈর্য ধারণকে  কিভাবে আমরা সহজ করবো এই প্রসঙ্গে এবার আসা যাক

সহজে ধৈর্য ধারণ করতে হলে আমরা যে সকল কাজ করতে পারি সেগুলো হলো,

১. নিয়মিত কুরআন, হাদিস এবং বিভিন্ন ইসলামী বই পড়া।

কারণ, কুরআন এবং হাদিস হলো সেই গ্রন্থ যা আপনাকে সব সময় উদ্দীপ্ত রাখতে পারে এবং আপনার হতাশাকে দূর করতে পারে।

২. নিয়মিত সালাত আদায় করা।

সালাত হলো এমন ইবাদাত যার মাধ্যমে একজন মানুষ নিজেকে অস্থিরতাসহ সকল প্রকার অশ্লীলতা ও পাপাচার থেকে বিরত রাখতে পারে।

কুরআন মাজিদে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, “নিশ্চয়ই সালাত পাপাচার ও অশ্লীলতা থেকে বিরত রাখে।”

৩. সৎ এবং ধৈর্যশীল মানুষের সাথে চলাফেরা করা, অস্থির এবং অসৎ লোকদের সঙ্গ ত্যাগ করা।

আপনি যদি সৎ মানুষের সাথে চলাফেরা করেন তাহলে তারা আপনাকে ভালো কাজে সহযোগিতা করবেন, পাপ কাজে বাধা প্রদান করবেন

এবং এ কাজগুলো করার সময় তারা কিভাবে এবং কী পরিমাণ ধৈর্য ধারণ করেন তাও দেখিয়ে দেবেন ফলে আপনার জন্য সৎ এবং ধৈর্যশীল হওয়া অনেক সহজ হয়ে যাবে।

৪. কিভাবে ধৈর্যকে সহজ করা যায় তা নিয়ে নিয়মিত চিন্তা বা গবেষণা করা।

গবেষণা এমন একটি বিষয় যা কখনও শেষ হয় না। সুতরাং, ধৈর্য ধারণের ক্ষমতা কিভাবে বৃদ্ধি করা যায় তা নিয়ে যদি আপনি গবেষণা চালিয়ে যান

তবে আপনার ধৈর্য ধারণের শক্তি দিন দিন বৃদ্ধি পেতেই থাকবে ইনশাআল্লাহ।

নবী এবং সাহাবীদের জীবনে ধৈর্যের দৃষ্টান্ত

আপনারা যদি কুরআন, হাদিস এবং ইতিহাস নিয়মিত পড়ে থাকেন তাহলে দেখতে পাবেন নবী, রাসুল এবং তার সাহাবাদের জীবন ধৈর্য ধারণের ঘটনায় পরিপূর্ণ । এখানে আমি তার দু একটি দৃষ্টান্ত তুলে ধরছি।

বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে যখন তপ্ত মরুর বুকে শুইয়ে ইসলাম ত্যাগ করার জন্য জোর জবরদস্তি করা হচ্ছিল

আপনারা সকলেই আশা করি জানেন তিনি কী বলছিলেন তখন। তিনি শুধু বলছিলেন, আহাদ, আহাদ। অর্থাৎ, আল্লাহ এক, আল্লাহ এক।

আর আমাদের সকলের নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে কতটা ধৈর্যশীল ছিলেন তাতো আশা করি সকলেই জানেন। তায়েফের ঘটনা আশা করি কারোরই অজানা নয়।

আজকে আপনাদের তার ধৈর্য সম্পর্কে  আরেকটি হাদিস উল্লেখ করছি ,

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ كُنْتُ أَمْشِيْ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَعَلَيْهِ بُرْدٌ نَجْرَانِيٌّ غَلِيْظُ الْحَاشِيَةِ فَأَدْرَكَهُ أَعْرَابِيٌّ فَجَذَبَهُ جَذْبَةً شَدِيْدَةً حَتَّى نَظَرْتُ إِلَى صَفْحَةِ عَاتِقِ النَّبِيِّ قَدْ أَثَّرَتْ بِهِ حَاشِيَةُ الرِّدَاءِ مِنْ شِدَّةِ جَذْبَتِهِ ثُمَّ قَالَ مُرْ لِيْ مِنْ مَالِ اللهِ الَّذِيْ عِنْدَكَ فَالْتَفَتَ إِلَيْهِ فَضَحِكَ ثُمَّ أَمَرَ لَهُ بِعَطَاءٍ

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে পথে চলছিলাম। তখন তিনি নাজরানে প্রস্তুত মোটা পাড়ের চাদর পরিহিত অবস্থায় ছিলেন। এক বেদুঈন তাঁকে পেয়ে (তাঁর চাদর ধরে) খুব জোরে টান দিল। অবশেষে আমি দেখলাম, জোরে টানার কারণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্কন্ধে চাদরের পাড়ের দাগ বসে গেছে। অতঃপর বেদুঈন বলল, ‘আল্লাহর যে সম্পদ আপনার নিকট আছে তা হতে আমাকে কিছু দেয়ার আদেশ দিন।’ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দিলেন, আর তাকে কিছু দেয়ার আদেশ দিলেন।

(সূত্র: হাদিসবিডি )

যদি তিনি ধৈর্যশীল না হতেন তবে কি তিনি তার দিকে চেয়ে মুচকি হাসি দিতে পারতেন? কখনই না বরং তখন তিনি ওই বেদুঈনকে শাস্তি দিয়ে এর প্রতিশোধ নিতেন।   

ইয়াকুব আলাইহিস সালামের ঘটনাও আশা করি সকলেই জানেন,

তার কিছু সন্তানের ষড়যন্ত্রের কারণে তিনি তার প্রিয় পুত্র ইউসুফ আলাইহিস সালামকে হারিয়ে প্রায় ২৫ বছর কাটিয়ে দিয়েছিলেন।

কিন্তু তিনি কখনও তার সন্তানদের সাথে এর জন্য খারাপ আচরণ করেননি বরং তাদের সাথে সবরে জামিল তথা উত্তম ধৈর্য ধারণের সংকল্প করেছিলেন।

অবশেষে ২৫ বছর পর তিনি ইউসুফ আলাইহিস সালামকে ফিরে পেয়েছিলেন এবং আল্লাহ তাআলা তার পুত্রের মাধ্যমে তার হারিয়ে যাওয়া দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন  । সুবহানাল্লাহ।

ধৈর্য ধারণ যে মুমিনদের জন্য কতটা কল্যাণকর হতে পারে তা এই ঘটনা থেকে আমরা আবারও বুঝতে পারি।

ধৈর্যহীনতার পরিণতি

ধৈর্য ধারণ না করার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। এটি আমাদের দুনিয়া এবং আখিরাত দুটোকেই ধ্বংস করে দিতে পারে।

কারণ, ধৈর্য ছাড়া কোনো কাজই কেউ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করতে পারেন না। বিশেষ করে ভালো কাজ করার জন্য ধৈর্য ধারণের কোনো বিকল্প নেই।

সুতরাং, কেউ যদি ধৈর্য ধারণের চর্চা না করেন তাহলে পরকালে তো তিনি ব্যর্থ হবেনই উপরন্তু দুনিয়াতেও তাকে লাঞ্চনাময় জীবন যাপন করতে হবে।

ধৈর্যহীনতা মানুষকে শুধু যে ব্যর্থ করে দেয় তাই নয় বরং এটা মানুষকে চরিত্রহীন ব্যক্তিতেও পরিণত করে।

ফলে সে নিজের জন্য তো বটেই উপরন্তু গোটা সমাজের জন্যও বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।

শেষকথা

তাহলে উপরোক্ত আলোচনা থেকে বোঝা গেল দুনিয়াবী এবং পরকালীন যে কোনো কাজে আল্লাহর রহমত লাভ করে সফল হতে হলে এবং সকল প্রকার সমস্যার সমাধান পেতে চাইলে কুরআন এবং হাদিসের দেখানো পন্থায় ধৈর্য ধারণ করা আমাদের জন্য আবশ্যক।

আল্লাহ আমাদের সকলকে সবরে জামিল করার মাধ্যমে দুনিয়া এবং আখিরাতে চুড়ান্ত সফলতা অর্জন করার তাওফিক দান করুক। আমিন।

গাজ্জার জন্য অনুদান

৭ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে তুফানুল আকসা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জায় অসংখ্য মানুষ আহত ও শহীদ হয়েছে। বহু মানুষ নিজেদের ঘর-বাড়ী হারিয়েছে। এছাড়াও বর্তমানে গাজ্জার ৯৮% মানুষ অনাহারে জীবন-যাপন করছে। গাজ্জার মানুষের এই দুঃসময়ে আমরা যদি তাদের পাশে না দাঁড়াই তাহলে কে দাঁড়াবে?

আর-রিহলাহ ফাউন্ডেশন তুফানুল আকসা যুদ্ধের শুরু থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জার জন্য ডোনেশন সংগ্রহ করে আসছে। এই মহান কাজে আপনিও আমাদের সাথে যুক্ত হতে পারেন।

অনুদান দিন

Scroll to Top