দুই মৃত্যুতে দুই মনোভাব

দুই মৃত্যুতে দুই মনোভাব – ১২ রমাদান চলছে। রমাদান যদিও আমাদের জন্য মহান একটি মাস, তাই এই রমাদানে যাদের মৃত্যু হয় আমরা তাদেরকে অত্যন্ত শ্রদ্ধার চোখে দেখি।

তারা হয়তো তাদের কোনো আমলের কারণে এই মহান মাসে রবের সাথে সাক্ষাৎ করছেন। পবিত্র এই রমাদানে আল্লাহ তাদেরকে ডেকে নিচ্ছেন।

কত মানুষ রয়েছে, যারা গত রোজায় বেঁচে ছিলেন কিন্তু এই রমাদানে নেই। তারা হারিয়ে গিয়েছে।

আজ তাদেরকে কেউ মনে রাখে না। তাদের খবরও কেউ জানে না।

সকালেই আজ দুইজনের মৃত্যুর খবর পাই। তাদের একজনের মৃত্যুর খবর শুনে মনের অজান্তেই খারাপ লাগলো। দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসলো। আহ্, তিনি চলে গেলেন!

কিন্তু অপরজনের মৃত্যুর সংবাদ শুনে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া আমার মধ্যে আসলো না।

তবে পরিচিত অনেকেই দেখলাম, খুশী হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ লিখে পোস্টও দিয়েছে।

আমি মনে মনে ভাবলাম, এই উভয়জনই পবিত্র রমজান মাসে মৃত্যুবরণ করলেও উভয়জনের বিয়োগে জনমনে আবেগ কিন্তু দুই রকম হচ্ছে।

তাহলে এই পবিত্র রমজান মাসে মৃত্যুর সাথে কি আদৌ ভালো মানুষের সম্পর্ক আছে? পরক্ষণেই মনে পড়লো, কত কাফেরও তো এই রমজানে মারা যায়? তাই বলে কি তারা জান্নাতি হয়?

মৃত্যু কখন আসে, তা অজানা। স্থান-কাল-পাত্রের সাথে মৃত্যুর পরবর্তী জিন্দেগীর সাথে কোনো সম্পর্ক নেই।

তবে আমল ও দুনিয়ার কাজকর্মই মানুষকে মৃত্যুর পরে অমর করে রাখে ও আল্লাহর নিকট প্রিয় বান্দা বানায়।

আমার এখনো মনে আছে, ২০১৩ সালে বা ১৪ সালে PHP কুরআনের আলো প্রতিযোগিতা ছিল আমাদের হেফজখানা জীবনের একটি উচ্ছ্বাসের নাম।

২ – দুই মৃত্যুতে দুই মনোভাব

আমাদের অনেক সাথীদের স্বপ্ন ছিল উক্ত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করা। জীবনে আমি নিজে কোনো হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় অংশ না নিলেও আমাদের অনেক সাথীরা নিয়েছিল।

সেই সময়ের এনটিভি কর্তৃক আয়োজিত সেই প্রতিযোগিতার বিচারক ও চেয়ারম্যান ছিলেন হাফেজ মাওলানা আবু ইউসুফ সাহেব।

আজ তিনি রহ. হয়ে গেলেন। আজ ২৩ মার্চ ২০২৪ তারিখ সকাল ৭:৩০ মিনিটে তিনি ইন্তিকাল করেন। সম্ভবত মৃত্যুর আগে তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন।

একজন উম্মাহ দরদী মানুষ বিদায় হলেন। বহু মানুষ শোক জানিয়েছেন। কেউ দোয়া করছেন।

আজকের ইফতারের আগের দোয়াতে তিনি অবশ্যই শরীক থাকবেন লাখো ভক্তের মুনাজাতে।

আজ আরো একজন মারা গেছে। সে হলো ইসলামবিদ্বেষী এক ব্যক্তি। তিনি হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক জিয়া রহমান।

বহু আগ থেকেই এই লোক ইসলামবিদ্বেষী।

একবার ডিবিসি নিউজের একটি টকশোতে সে বলেছিল, আসসালামু আলাইকুম বলা ও আল্লাহ হাফেজ বলা নাকি গর্হিত কাজ।

এটা নাকি শুনলে তার চুলকানি উঠে। ২০২০ সালে এটি নিয়ে তার নামে মামলাও হয়। জানি না পরবর্তীতে তার সেই মামলার রায় কি হয়েছিল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন আরো অসংখ্য ইসলামবিদ্বেষী আছে। এই বছর ইফতার মাহফিলের নামে তারা কত কিছু করলো।

ইফতার মাহফিল নিষিদ্ধ করলো। তাদের দেখাদেখি একটি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের তারাবীহ পড়া নিষিদ্ধ করলো। আরো অনেকরকম ভেজাল তারা করেছে।

নিরীহ ছাত্রদেরকে পিটিয়ে মসজিদ থেকে বের করেছে কয়েকদিন আগে। এই ঢাবি শিক্ষা দেয় কিভাবে ইসলামবিদ্বেষ লালন করতে হয়!

অথচ স্যার সলিমুল্লাহ খান এই ঢাবির জন্য জমি দান করেছিলেন। তিনি ছিলেন মুসলিম।

সেই রবিদ্রনাথ এই ঢাবি বন্ধ করার জন্য আন্দোলন করেছিল, সেই রবিদ্রনাথ এখন ঢাবির গুরুজি।

একটি কথা পরিষ্কার, যারা ইসলামের জন্য কাজ করবে, তার কাজ যত ছোট হোক না কেন, মানুষ মনে রাখবে। আর সে ইসলামবিদ্বেষ ছড়াবে, তাকেও মানুষ ঘৃণাভরে মনে রাখবে।

উভয়জনের নাম শুনলে মানুষ কিন্তু একইরকম রিয়েক্ট করবে না। কারো নাম শুনলে শ্রদ্ধাভরে দোয়া করবে আর কারো নাম শুনলে গালি দিবে। এটাই প্রকৃতির নিয়ম।

গাজ্জার জন্য অনুদান

৭ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে তুফানুল আকসা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জায় অসংখ্য মানুষ আহত ও শহীদ হয়েছে। বহু মানুষ নিজেদের ঘর-বাড়ী হারিয়েছে। এছাড়াও বর্তমানে গাজ্জার ৯৮% মানুষ অনাহারে জীবন-যাপন করছে। গাজ্জার মানুষের এই দুঃসময়ে আমরা যদি তাদের পাশে না দাঁড়াই তাহলে কে দাঁড়াবে?

আর-রিহলাহ ফাউন্ডেশন তুফানুল আকসা যুদ্ধের শুরু থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জার জন্য ডোনেশন সংগ্রহ করে আসছে। এই মহান কাজে আপনিও আমাদের সাথে যুক্ত হতে পারেন।

অনুদান দিন

Scroll to Top