ডুবন্ত ঢাকা শহর – প্রতিবছরই বর্ষা আসলে ঝুম বৃষ্টি নামে। কখনো কখনো ঝড়-তুফানও হয়। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠে।

ঢাকাতে টানা ১/২ ঘন্টা বৃষ্টি হলেই রাস্তাঘাটে হাটু সমান পানি উঠে যায়। কোথাও কোথাও কোমর পরিমাণ পানিও থাকে।

এবারও তার ব্যতিক্রম হয় নি। গতকাল (৯ আগষ্ট ২০২৩) দুপুরে হঠাৎ করেই বৃষ্টি শুরু হয়।

যদিও গত তিনদিন ধরেই ঢাকায় হালকা বৃষ্টি হচ্ছে।

এরইমধ্যে খবর পেয়েছিলাম, চট্টগ্রামসহ দেশের আরো বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা হয়েছে। মানুষের ঘর-বাড়িতে পানি প্রবেশ করে পরিস্থিতি খুবই খারাপ।

মূল কথায় ফিরে আসি। দুপুরে বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর শেষ হয়েছে মাগরিবের আগে। আমি মাগরিবের পর একটি কাজে মালিবাগ যাই।

তখন রাস্তার অবস্থা দেখে পুরোই অবাক হয়েছি। এ যেন এক ডুবন্ত ঢাকা শহর । প্রধান সড়কগুলোতেই অর্ধেক হাটুসমান পানি। আর গলিপথগুলোতে হাটুর উপরে পানি।

ঢাকার শহরে এমন ঘটনা আজ নতুন নয়। বছরের পর বছর এই অবস্থা চলে আসছে। সেই শৈশব থেকেই দেখে আসছি।

এমন খারাপ পরিস্থিতিগুলো থেকে বেঁচে থাকার অনেক উপায় প্রতিবছর বিল হিসেবে পাশ হয়। কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয় আর কয়টা?

এলাকার ছোট নেতা থেকে শুরু করে মন্ত্রী কিংবা মেয়র, সবাই টাকার পেছনে ছুটে। যেন টাকা ছাড়া তাদের জীবন অচল।

প্রতিটা প্রকল্পে তারা বহু টাকা সরকার থেকে নেয়। কিন্তু এরপর তা জনগণকে না দিয়ে নিজেদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করতে থাকে।

জনগণের টাকায় তারা বিলাশবহুল গাড়ি, বিলাশবহুল বাড়ি কিনে।

জনগণের টাকা খরচ করে তারা দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করে নিজেদের সন্তানদের বিদেশে পড়াশোনা করায়।

এমনটাই হলো আমাদের দেশের অবস্থা। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল রয়েছে, যাদের জিডিপি আমাদের চেয়েও কম। তারপরও তাদের পরিবেশ ভালো আছে।

2

আমাদের দেশের জিডিপি প্রতিবছর বাড়ার পরও মুদ্রাস্ফীতি, কালোবাজারি, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের উর্ধ্বগতি দেখে নিজের জীবনের প্রতিই নিরাশ হতে হয়।

আমরা উন্নয়নের বুলি না জপে যদি দেশবাসীর জন্য প্রয়োজনীয় উন্নয়ন সাধন করতাম, তাহলে তা হতো আমাদের জন্য উপকারী।

এত এত টাকা খরচ করে স্যাটেলাইট বানানো হয়, যা তেমন কোনো কাজে আসে নাকি, জানা নেই।

অথচ দেশের সাইবার সিকিউরিটি দুর্বল, তা নিয়ে কারো মাথা ব্যাথা নেই।

এত টাকা খরচ করে মেট্রোরেল বানানো হয় এবং বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কাজ করা হয়,

অথচ রাস্তাঘাটগুলো উন্নতি করার কোনো চিন্তা কারো নেই।

কি লাভ হবে, যদি না আমরা জনগণের মূল প্রয়োজনগুলো পূর্ণ না করতে পারি। শত ধিক তাদের প্রতি, যারা চাটুকারিতা করে অন্ধ সেজে আছে।

গাজ্জার জন্য অনুদান

৭ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে তুফানুল আকসা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জায় অসংখ্য মানুষ আহত ও শহীদ হয়েছে। বহু মানুষ নিজেদের ঘর-বাড়ী হারিয়েছে। এছাড়াও বর্তমানে গাজ্জার ৯৮% মানুষ অনাহারে জীবন-যাপন করছে। গাজ্জার মানুষের এই দুঃসময়ে আমরা যদি তাদের পাশে না দাঁড়াই তাহলে কে দাঁড়াবে?

আর-রিহলাহ ফাউন্ডেশন তুফানুল আকসা যুদ্ধের শুরু থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জার জন্য ডোনেশন সংগ্রহ করে আসছে। এই মহান কাজে আপনিও আমাদের সাথে যুক্ত হতে পারেন।

অনুদান দিন

Scroll to Top