জান্নাতি মানুষ এর বিদায়

জান্নাতি মানুষ এর বিদায় – গত মঙ্গলবার তথা সেপ্টেম্বরের ২৭ তারিখে আমার হারুন চাচা অসুস্থ হয়ে বাসায় আসেন। তার অসুস্থতা অনেক বেশি।

বেশ কিছুদিন ধরেই তার পেট ব্যাথা ও আরো কিছু রোগ ধরেছে তার। আমরা ভেবেছি, তিনি অচিরেই সুস্থ হয়ে যাবেন।

আমাদের বাসায় হারুন চাচা শনিবার পর্যন্ত অর্থাৎ ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত থাকেন। সাথে চাচী ও তাদের ছোট ছেলে ইসমাইলও ছিল।

ইসমাইলের বয়স মাত্র ৫/৬ বছর। দুনিয়ার কোনো কিছু্ই সে বুঝে না। জানেও না এত প্যাঁচগোঁচ। আব্বু আর অন্যান্য চাচারা আমার হারুন চাচাকে দি বারাকাহ হাসপাতালে ভর্তি করালেন।

বাসায় থাকা অবস্থায়

তিনি আমাদের বাসায় থাকা অবস্থায় তেমন খেদমত করতে পারি নি। তারপরও যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। উনার পেটে প্রচন্ড ব্যাথা উঠতো।

রাতে তিনি ব্যাথায় ঘুমাতে পারতেন না। আমাকে দুইবার বলেছিলেন যে, পেটে মেসেজ করে দিতে। এতটা পেট ব্যাথা তিনি সহ্য করতে পারতেন না।

কয়েকবার তিনি মৃত্যু কামনা করছেন। আল্লাহ সকলের দোয়া কবুল করেন। আজ নয় কাল আপনার দোয়া কবুল হবেই।

হাসপাতালে থাকা অবস্থায়

হাসপাতালে তার অনেক পরীক্ষা-নিরিক্ষা করা হলো। সর্বশেষ যতুটুকু জেনেছি, তার পেটে নাড়িভুরি পেচিয়ে গেছে। তাই এতটা পেট ব্যাথা করতো তার।

গতকাল আসরের আগে মোবাইল ক্রল করছিলাম। এমন সময় আমার চাচাতো বোন মেসেজ দিয়ে বললো, হারুন চাচা মারা গেছে।

আমার মাথার উপর যেন বজ্রপাত হলো। পুরো দুনিয়া আমার উপর যেন ভেঙ্গে পড়লো। এতটা অসহায়বোধ করি নি আগে কখনো।

আল্লাহর ডাকে সাড়া

আমার তখন চাচার ছোট ছোট সন্তান ও চাচীর কথা ভেবে মন খারাপ হচ্ছিল। এই সন্তানরা এখনো কত ছোট। তাদের বাবা মারা গেল।

আমার হারুন চাচা মারা গেলেন ৬ অক্টোবর ২০২২ তারিখ। আরবী তারিখ অনুযায়ী ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরী তারিখ।

চলে গেল আল্লাহর নিকট। যার বাবা নেই, সে বুঝে দুনিয়া কিভাবে অতিবাহিত হয়। অন্য কেউ এটা বুঝতে না। বুঝতে পারবেও না।

আমরা মাগরিবের পর দি বারাকাহ হাসপাতালে গেলাম। চাচা শান্তিতে শুয়ে আছেন। তার পেটে কোনো ব্যাথা নেই। নিশ্চিন্তে-নির্বিঘ্নে ঘুমিয়ে আছেন।

একজন জান্নাতি মানুষ তিনি। তার মৃত্যুতে অনেক কষ্ট লাগলো। তিনি আমাদেরকে ছেড়ে চলে গেলেন। আমাদেরকে একা করে দিলেন।

আমরা গ্রামে গেলে তিনি আমাদেরকে ভালো কিছু উপহার দেয়ার চেষ্টা করতেন। তিনি আমার চাচা। আমার সম্মানিত চাচা। আমার শ্রদ্ধেয় চাচা।

আল্লাহ তাকে জান্নাতের উঁচু মাকাম দান করুন। আমীন।

আরো পড়ুন

ওমর রাঃ এর সময়ে রাষ্ট্রের সীমানা

খলিফা হিসেবে ওমর রাঃ কেমন ছিলেন

হুদাইবিয়ার দিন ওমর রাঃ

স্রষ্টার প্রজ্ঞার অনন্য নিদর্শন

ইহরাম অবস্থায় বিয়ে করলে কোনো সমস্যা আছে

আমি একজন ইসলামিক আলোচক, লেখক। ছোটবেলায় পড়ালেখা করেছি কওমী মাদ্রাসায়। পরবর্তীতে সাইন্স বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে কৃতিত্বের সাথে পাশ করি। বর্তমানে আমি ডিপ্লোমা ইন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ অধ্যায়নরত। অবসরে আমি বই পড়তে পছন্দ করি। নতুন কিছু শিখতে, নতুন কিছু জানতে ভালোবাসি। আমার ইচ্ছা, ভালো মানুষ হয়ে সমাজকে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে বিরত রাখার চেষ্টা করা।

https://www.arhasan.com