আল্লাহ কেন মানুষ সৃষ্টি করলেন

আল্লাহ কেন মানুষ সৃষ্টি করলেন – সৃষ্টির আদিতে আল্লাহ ব্যতিত কারো অস্তিত্ব ছিল না। এরপর আল্লাহ মহাবিস্ফোরণের মাধ্যমে মহাবিশ্ব সৃষ্টি করলেন। এই মহাবিশ্ব সৃষ্টির পর আল্লাহ আসমান-যমীনকে সাজালেন।

আলো দান করলেন। গ্রহ নক্ষত্র, গ্যালাক্সি, ব্লাকহোল সৃষ্টি করলেন। তিনি প্রতিটি স্থানকে তার কুদরতী বাক্যের মাধ্যমে সৃষ্টি করেছেন।

কুরআনে এই সম্পর্কে বলা হচ্ছে, আল্লাহ বলেন হও। আর তা হয়ে যায়। এটাই আল্লাহর ক্ষমতা। আল্লাহর মহান বার্তা।

এরপর আল্লাহ তা’আলা তার আনুগত্যের জন্য ফেরেশতাদেরকে সৃষ্টি করলেন। ফেরেশতাদেরকে সৃষ্টি সম্পর্কে কুরআনে উল্লেখ আছে,

ফেরেশতারা অহংকারবশত ইবাদত করা থেকে বিরত হয় না এবং ক্লান্তি অনুভব করে না। তারা দিন-রাত আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে। তাতে শৈথিল্য করে না। (সূরা আম্বিয়া, ১৯-২০)

এই ফেরেশতাদেরকে যখন আল্লাহ বললেন, আমি যমীনে আমার খলিফা তথা মানুষ পাঠাতে চাই। তখন ফেরেশতারা তাদের পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে বললো,

তারা তো রক্তপাত করবে। মারামারি-হানাহানি করবে। ফেরেশতাদের পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল জ্বীন জাতি থেকে। আল্লাহ জ্বীন জাতিকে মানুষের আগে সৃষ্টি করেছেন।

কিন্তু তারা যমীনে অনেক ফাসাদ সৃষ্টি করতো। ফলে আল্লাহ কয়েকবার ফেরেশতাদের মাধ্যমে জ্বীনদের অনেক জাতি ধ্বংস করেছেন।

সূরা বাকারার ৩০ নং আয়াতে বলা হচ্ছে,

وَ اِذۡ قَالَ رَبُّکَ لِلۡمَلٰٓئِکَۃِ اِنِّیۡ جَاعِلٌ فِی الۡاَرۡضِ خَلِیۡفَۃً ؕ قَالُوۡۤا اَتَجۡعَلُ فِیۡهَا مَنۡ یُّفۡسِدُ فِیۡهَا وَ یَسۡفِکُ الدِّمَآءَ ۚ وَ نَحۡنُ نُسَبِّحُ بِحَمۡدِکَ وَ نُقَدِّسُ لَکَ ؕ قَالَ اِنِّیۡۤ اَعۡلَمُ مَا لَا تَعۡلَمُوۡنَ

স্মরণ কর, যখন তোমার রব ফেরেশতাদেরকে বললেন, ‘নিশ্চয় আমি যমীনে একজন খলীফা সৃষ্টি করছি’, তারা বলল, ‘আপনি কি সেখানে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন, যে তাতে ফাসাদ করবে এবং রক্ত প্রবাহিত করবে? আর আমরা তো আপনার প্রশংসায় তাসবীহ পাঠ করছি এবং আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি। তিনি বললেন, নিশ্চয় আমি জানি যা তোমরা জান না।

এরপর আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করলেন। ফেরেশতারা মানুষের সম্মানার্থে সেজদা করলো। তাকে উচ্চ মর্যাদা দিল। হঠকারিতা করে ইবলিশ মানুষের শত্রু হলো।

এখন একটা বিষয় লক্ষ্যণীয় যে, কেন মানুষকে সৃষ্টি করা হলো? উত্তর হলো ইবাদাতের জন্য আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন।

সূরা যারিয়াতের ৫৬ নং আয়াতে বলা হচ্ছে,

وَ مَا خَلَقۡتُ الۡجِنَّ وَ الۡاِنۡسَ اِلَّا لِیَعۡبُدُوۡنِ

আর আমি জিন ও মানুষকে কেবল এজন্যই সৃষ্টি করেছি যে কেবল তারা আমার ইবাদাত করবে।

আল্লাহ কেন মানুষ সৃষ্টি করলেন? আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তার আনুগত্য ও ইবাদাতের জন্য। এটা শুনে অনেকে বলতে পারে, তাহলে কি মানুষ তার নিজের কাজ করবে না?

উত্তর হলো, অবশ্যই করবে। মানুষের উপর আল্লাহর ইবাদাতের জন্য কিছু ট্রিকস আল্লাহ বলে দিয়েছেন। বর্নিত আছে,

যদি কেউ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময়মতো পড়ে এবং হালালভাবে উপার্জন করে, তাহলে তার সমূদয় কাজ-কারবার ইবাদাত হিসেবে গণ্য হবে। সুবহানাল্লাহ!

সূরা জুমআর ১০ নং আয়াতে বলা হচ্ছে,

فَاِذَا قُضِیَتِ الصَّلٰوۃُ فَانۡتَشِرُوۡا فِی الۡاَرۡضِ وَ ابۡتَغُوۡا مِنۡ فَضۡلِ اللّٰهِ وَ اذۡکُرُوا اللّٰهَ کَثِیۡرًا لَّعَلَّکُمۡ تُفۡلِحُوۡنَ

আর যখন নামায সমাপ্ত হয়, তখন তোমরা যমীনে ছড়িয়ে পড়। আর যমীনে আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান কর এবং আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করতে থাক- যাতে তোমরা সাফল্য লাভ করতে পার।

এই আয়াতের তাফসীরে রয়েছে, এর অর্থ বৈষয়িক কাজ-কর্ম ও ব্যবসা-বাণিজ্য। অর্থাৎ, জুমআর নামায শেষ করার পর তোমরা পুনরায় নিজ নিজ কাজে-কামে এবং দুনিয়ার ব্যস্ততায় লেগে যাও।

এ থেকে উদ্দেশ্য হল এই ব্যাপারটা পরিষ্কার করে দেওয়া যে, জুমআর দিন কাজ-কর্ম বন্ধ রাখা জরুরী নয়। কেবল নামাযের জন্য তা বন্ধ রাখা জরুরী।

আর বিষয়টা শুধুমাত্র জুমআর নামাজের জন্যই খাছ নয়। প্রত্যেক নামাজের ক্ষেত্রেই এই মাসআলা প্রযোজ্য। নামাজের সময় দোকান খোলা রাখা, অফিসে কাজ করা, ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকা কোনোটাই কাম্য নয়। এতে আল্লাহ উক্ত ব্যক্তির উপর হতে বরকত উঠিয়ে নিয়ে যাবেন। মাআযাল্লাহ!

গাজ্জার জন্য অনুদান

৭ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে তুফানুল আকসা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জায় অসংখ্য মানুষ আহত ও শহীদ হয়েছে। বহু মানুষ নিজেদের ঘর-বাড়ী হারিয়েছে। এছাড়াও বর্তমানে গাজ্জার ৯৮% মানুষ অনাহারে জীবন-যাপন করছে। গাজ্জার মানুষের এই দুঃসময়ে আমরা যদি তাদের পাশে না দাঁড়াই তাহলে কে দাঁড়াবে?

আর-রিহলাহ ফাউন্ডেশন তুফানুল আকসা যুদ্ধের শুরু থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জার জন্য ডোনেশন সংগ্রহ করে আসছে। এই মহান কাজে আপনিও আমাদের সাথে যুক্ত হতে পারেন।

অনুদান দিন

Scroll to Top