আমেরিকার চোখে মুসলমানদের পার্থক্য

আমেরিকার চোখে মুসলমানদের পার্থক্য – মুসলমানদের হাত ধরে আমেরিকা আবিষ্কারের পরে যখন কলম্বাস আমেরিকায় গিয়ে হত্যাকান্ড ঘটিয়ে ইউরোপে এসে নতুন মহাদেশ আবিষ্কারের ঘোষণা দিল, তখন থেকেই আমেরিকায় আস্তে আস্তে খৃস্টান-ইহুদিরা গিয়ে বসতি স্থাপন শুরু করে।

শিল্পবিল্পবের পর ও বিশ্বযুদ্ধের পর আমেরিকা পৃথিবীতে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে শুরু করলো।

একটা সময় তারা আবিষ্কার করলো, এশিয়া-আফ্রিকা-ইউরোপে স্ব-গৌরবে দাঁড়িয়ে আছে ইসলামী স্বাতন্ত্রবোধ।

মুসলিম সমাজ পশ্চিমাদের আদর্শ ধারণ করে না। তাদেরকে সভ্য বলেও বিশ্বাস করে না। আমেরিকা নাইন এলিভেনের পর বিশ্বব্যাপী জঙ্গীবাদ নিধনের মহাকল্পে হাজির হলো।

২০০৩ সালে অ্যামেরিকান গ্লোবাল পলিসি থিংকট্যাঙ্ক RAND Corporation একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে।

এ রিপোর্টের বিষয় হল – কীভাবে এবং কাদের সহায়তায় অ্যামেরিকার বৈশ্বিক পলিসির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এক নতুন “ইসলাম” বানানো যায়।

এই ইসলাম হবে মুসলমানদের মূল্যবোধের বিপরীত। যারা পশ্চিমা সভ্যতার দাস হবে, ধারক-বাহক হবে।

কিন্তু সমস্যাটা হলো, মুসলিম সমাজে কেউ পশ্চিমাদের গোলামী শুরু করলেই তাকে সমাজ বহির্ভূত মনে করা হয়।

তখন এই লক্ষ্যে তারা বিস্তর গবেষণা করে। শেষ পর্যন্ত তারা মুসলিম সমাজকে চারটি ভাগে ভাগ করতে সক্ষম হয়।

১. মৌলবাদী বা সঠিক ইসলামের উপর অবিচল থাকা মুসলিম

২. মুসলিম সমাজের জ্ঞানীরা তথা আলেমরা

৩. মর্ডান মুসলিম তথা যারা নিত্যনতুন তত্ত্বের পিছে ছুটে

৪. সেকুলার মুসলিম বা পশ্চিমা সভ্যতার ধারক-বাহক মুসলমানরা।

সঠিক ইসলামের উপর অবিচল থাকা মুসলিম

সে সকল ‍মুসলমানেরা, যারা ইসলামকে শুধু নিছক একটি ধর্ম মনে করে না। বরং এটিকে জীবনব্যবস্থা মনে করে। তারা সমাজের প্রতিটি কাজকে ইসলাম দিয়ে বিচার করে।

যারা জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহকে হক মনে করে এবং এটির প্রতি ভালোবাসা রাখে। যারা পশ্চিমা সভ্যতাকে মুসলমানদের জন্য হুমকি-স্বরুপ মনে করে।

আমেরিকানরা এই ধরণের মুসলমানদের খুব ভয় পায়। তারা মনে করে, পশ্চিমা সভ্যতার জন্য এরা হলো বড় ধরণের চ্যালেঞ্জ।

মুসলিম সমাজের আলেমরা

সাধারণত মুসলিম সমাজের আলেমরা মাদ্রাসা বা মসজিদ কেন্দ্রিক হয়। তারা কুরআন-হাদীস, ফিকহ, তাফসীরের পেছনে সময় ব্যয় করে।

এমনটা থাকলে তাদেরকে পশ্চিমারা সমস্যা মনে করে না। সমস্য তখনই মনে করে, যখন এই আলেমদের সাথে মৌলবাদী মুসলমানদের সাক্ষাৎ হয়।

বর্তমান সমাজে কোনো একটা সভা-সেমিনার কিংবা অনুষ্ঠানের আয়োজন করলে লোক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হয়ে যায়।

সেখানে ইসলামের উপর অবিচল থাকা মুসলমানরা প্রতি শুক্রবার স্বেচ্ছায় আলেমদের কথা শুনতে একত্রে জমায়েত হয়।

আলেমরা কুরআন-হাদীসের বিপ্লবী বাণী তাদের সামনে পেশ করে। এজন্য এমনভাবে কাজ করবে পশ্চিমারা, যাতে এই দুই গ্রুপকে পরষ্পর থেকে দূরে রাখা যায়।

সেটা করার জন্য তারা আলেমদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করবে। তাদেরকে অপবাদ দিয়ে সমাজে কোণঠাসা করে ফেলবে।

মর্ডান মুসলিমরা

এরা হল ঐসব লোক যারা ইসলামের নতুন নতুন ব্যাখ্যা করতে চায়।

আর এসব নতুন ব্যাখ্যার পেছনে উদ্দেশ্য থাকে ইসলামকে পশ্চিমা বিশ্বব্যবস্থা, পশ্চিমা সভ্যতার সাথে কম্প্যাটিবল, সামঞ্জস্যপূর্ণ বানানোর চেষ্টা।

র‍্যান্ডের পলিসি সাজেশান হল – এদের সাহায্য করতে হবে, এদের জন্য ফান্ডের ব্যবস্থা করতে হবে।

আর বিশেষভাবে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে এদের প্রচারণার ব্যবস্থা করতে হবে।

কারণ সাধারণ মুসলিমদের কাছে এদের তেমন একটা গ্রহনযোগ্যতা নেই। তাই তাদের পন্থাকেই ইসলামের মূল পন্থা ধরে পশ্চিমাদের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে।

সেকুলার মুসলিম

এরা প্রথম থেকেই পশ্চিমের। এরা কাফিরদের পকেটেই আছে। পশ্চিমের শিক্ষা এরা আত্মস্থ করে ফেলেছে, হজম করে ফেলেছে।

এরা মনস্থির করে ফেলেছে, শাসনের সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই।

ইসলাম হল ধর্ম, আর ধর্ম হল বিশ্বাস, ইবাদাত আর আচার-অনুষ্ঠানের সমষ্টি। এরা তো ওদেরই লোক।

ইসলামের বিরুদ্ধে জেতার জন্য পশ্চিমা বিশ্বের প্রতি র‍্যান্ডের পরামর্শ হলো, মর্ডানিস্ট আর সেক্যুলারিস্ট, এই দুটো শ্রেণীকে সবধরনের সাহায্য করো।

আর মৌলবাদী ও আলেম, এই দুটো দলকে দমন করো। এদেরকে পরস্পরের কাছ থেকে দূরে রাখো। আর আলেমদের ব্যস্ত রাখো নিজেদের মধ্যেকার ইখতেলাফে, মতপার্থক্যে।

এই হল মুসলিমদের ওপর বিজয়ী হবার সুক্ষ্ম কৌশল। এটাই হলো আমেরিকার চোখে মুসলমানদের পার্থক্য

তথ্যসুত্র

অ্যামেরিকার চোখে মুসলিমদের শ্রেনীবিভাগ

র‍্যান্ড, মডারেট ইসলাম, মডার্নিস্ট মুভমেন্ট

গাজ্জার জন্য অনুদান

৭ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে তুফানুল আকসা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জায় অসংখ্য মানুষ আহত ও শহীদ হয়েছে। বহু মানুষ নিজেদের ঘর-বাড়ী হারিয়েছে। এছাড়াও বর্তমানে গাজ্জার ৯৮% মানুষ অনাহারে জীবন-যাপন করছে। গাজ্জার মানুষের এই দুঃসময়ে আমরা যদি তাদের পাশে না দাঁড়াই তাহলে কে দাঁড়াবে?

আর-রিহলাহ ফাউন্ডেশন তুফানুল আকসা যুদ্ধের শুরু থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জার জন্য ডোনেশন সংগ্রহ করে আসছে। এই মহান কাজে আপনিও আমাদের সাথে যুক্ত হতে পারেন।

অনুদান দিন

Scroll to Top