ফিলিস্তিন ইস্যুতে জাতীয় সেমিনার ও আমাদের করণীয়

ফিলিস্তিন ইস্যুতে জাতীয় সেমিনার – ২৩ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে বাংলাদেশের সকল ওলামায়ে কেরামকে একত্রিত করে হুরমতে আকসা কনফারেন্সের আয়োজন করে বাংলাদেশের জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ।

আলহামদুলিল্লাহ এই কনফারেন্সে একজন তালিবুল ইলম হিসেবে উপস্থিত হওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে। সকাল নয়টা থেকে উক্ত সেমিনার শুরু হওয়ার কথা ছিল।

আমি পৌঁছেছিলাম সাড়ে আটটায় হয়তো। তখনই দেখি কনফারেন্স হল লোকে লোকারণ্য। একেবারে শেষে একটা সীট পাই। তাতেই বসে পড়ি।

উক্ত সেমিনারটি আয়োজিত হয়েছিল কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ভবনে। বেশ কিছুদিন আগেই পাকিস্তানে হুরমতে আকসা সেমিনার হয়েছিল।

তখন মাওলানা তাকী উসমানী হাফিঃ এর বক্তব্য আমাদের সকলের হৃদয়কে উপশম করেছিল এবং তিনি প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা প্রদান করেছিলেন।

বাংলাদেশের আজকের কনফারেন্সে যদিও উক্ত কথাগুলো আবার পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে, তারপরও এটি বাংলাভাষী মুসলমানদের পক্ষ হতে একটি গণজাগরণ হিসেবে উল্লেখ থাকবে ইনআল্লাহ।

সকাল নয়টার পর থেকে শুরু হওয়া এই সেমিনার চলমান থাকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত। আল্লাহর রহমতে উক্ত কনফারেন্সে দেশের বিজ্ঞ, প্রাজ্ঞ ও অভিজ্ঞ আলেমরা আগমন করেছিলেন।

এছাড়াও দাঈ ভাইয়েরাও এসেছিলেন। অনুষ্ঠানের যদিও সিরিয়াল এখন মনে নেই। তারপরও যেসব উলামায়ে কেরাম কথা বলেছিলেন, তারা হলেন,

শাইখুল হাদীস মাহফুজুল হক হাফিঃ, শায়েখ আহমাদুল্লাহ হাফিঃ, মধুপুরের পীর সাহেব, আবু তহা আদনান হাফিঃসহ আরো অনেক অনেক ওলামায়ে কেরাম।

এছাড়াও উক্ত কনফারেন্সে দারুল উলূম দেওবন্দের মুহতামিম, ফিলিস্তিনের উলামা পরিষদের প্রধান ও ইলিয়াছ গুম্মান হাফি. অনলাইনে যুক্ত হয়েছিলেন।

বিশিষ্ট লেখক ও আলেম মুসা আল হাফিজ হাফিঃ এর একটি বড় প্রবন্ধ পড়া হয়েছিল। যেটিতে ইসরাইলের দখলদারিত্বের ইতিহাস, তাদের বিরুদ্ধে মুজাহিদদের জিহাদ ও করণীয় সম্পর্কে বলা ছিল।

এছাড়াও উক্ত অনুষ্ঠানটিতে আমাদের করণীয় সম্পর্কে বলা হয়। তা হলো,

১, ইসরাইলি পণ্য পূরিপূর্ণ বয়কট এবং অন্যকেও বয়কট করতে উৎসাহ দেওয়া।

২, ফিলিস্তিনের পাশে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া।

৩, স্বাধীন ফিলিস্তিন প্রতিষ্ঠা ও মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল নামক কোনো রাষ্ট্র না থাকা।

৪, আমেরিকার বিষদাঁত ভেঙ্গে দেওয়া এবং তেল অবরোধ করা।

৫, দেশে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলা।

৬, দেশে চলমান ট্রান্সজেন্ডার অন্যান্য ফিতনা সম্পর্কে আমাদের সচেতন থাকা।

গাজ্জার জন্য অনুদান

৭ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে তুফানুল আকসা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জায় অসংখ্য মানুষ আহত ও শহীদ হয়েছে। বহু মানুষ নিজেদের ঘর-বাড়ী হারিয়েছে। এছাড়াও বর্তমানে গাজ্জার ৯৮% মানুষ অনাহারে জীবন-যাপন করছে। গাজ্জার মানুষের এই দুঃসময়ে আমরা যদি তাদের পাশে না দাঁড়াই তাহলে কে দাঁড়াবে?

আর-রিহলাহ ফাউন্ডেশন তুফানুল আকসা যুদ্ধের শুরু থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জার জন্য ডোনেশন সংগ্রহ করে আসছে। এই মহান কাজে আপনিও আমাদের সাথে যুক্ত হতে পারেন।

অনুদান দিন

Scroll to Top