তীব্র গরমে অস্থিরতা

তীব্র গরমে অস্থিরতা ক্রমশ বাড়ছে। একটু পর পর ঠান্ডা পানি পান করেও যেন রক্ষা নেই। কিছুক্ষণ স্বস্তির পর আবার গরম! পূর্বে থেকেও ক্ষেত্রবিশেষে গরম বেড়ে যায়।

অন্যান্য সময়ে গরম পড়লেও বাতাস থাকতো। এখন বাতাসও নাই। তীব্র গরমে অস্থিরতা আরো বাড়ছে। আবার যদি একটু বাতাস পাওয়া যায়, তা যেন লু হাওয়ার ন্যায় মুখ ঝলসিয়ে দেয়।

তবে এখানে একটা জিনিষ মজাদার যে, আল্লাহ কিন্তু সর্বদা একইরকম পরিস্থিতি রাখেন না।

একটা সময় বৃষ্টির মাধ্যমে ভূখণ্ডকে ঠান্ডা করে দেন।

তখন আবার এতটাই স্বস্তি দেয় আমাদেরকে, যেন কখনোই গরম ছিল না। এমনটাই অনুভূত হয় মনে।

এ বিষয়ে বিস্তর উদাহরণ দেয়া যায়।

এত বেশি দিন তো চলে যায় নি, ২০২০ সালের কথা চিন্তা করি একটু। করোনা ভাইরাসের প্রকোপে সকলেরই ঘরবন্দী হতে হয়েছে।

প্রতিদিন আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। মানুষের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। শ্রমিকদের ঘরে অভাবের আগুন ধরে গেছে।

মধ্যবিত্ত ফ্যামিলিরা কি করবে, তার কোনো দিশা করতে পারছে না। এমন কঠিন পরিস্থিতি থেকেও আল্লাহ একটা সময় আমাদেরকে মুক্তি দিয়েছেন।

আমাদেরকে উদ্ধার করেছেন। আমাদের থেকে মহামারি আযাব উঠিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু এরপর কি ঘটলো? মানুষ একটা সময় ভুলে যেতে লাগলো যে, আদৌ ভাইরাস কি এতটা প্রকোপ ছিল?

আদৌ কি আমরা এতটা কষ্টে দিন পার করেছি? আমাদের তো মনে হতে লাগলো যে, কখনো হয়তো এমন মহামারি আসে নি।

আমাদেরও এতটা কষ্ট পেতে হয় নি। অথচ তা কিন্তু সত্যিই ঘটেছিল। আল্লাহ পরিস্থিতি বদলে দিয়েছেন। আর আমরা তার অবদানকে পাশ কাটিয়ে নিজ নিজ ইচ্ছায় কাজ করছি।

এটা কি আদৌ মুমিনের কাজ হতে পারে? একজন মুমিন ব্যক্তির ‍উচিৎ, সর্বাবস্থায় আল্লাহকে স্বরণ করা। আল্লাহর দিকে মুতাওয়াজ্জুহ হওয়া।

কুরআনে একটা কথা বারবার বলা হয়েছে, اتقوا الله و توكلت على الله এর বাংলা অর্থ হলো, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আল্লাহর উপরই ভরসা করো।

আমরা কখনো কখনো ভেবে অস্থির হই যে, আল্লাহর উপর ভরসা করে বসে থাকলে তো কিছুই পাওয়া যাবে না। কিছুই আমার অর্জন হবে না।

কিছুই আমার হস্তগত হবে না। আমরা মূলত বোকার রাজ্যে বাস করছি।  

আপনাকে যদি আমি জিজ্ঞাসা করি, সাহাবারা কি আল্লাহর প্রতি ভরসা করতেন?

উত্তর কি হবে? আপনি যদি বলেন, হ্যাঁ। তাহলে আমি বলবো, তারা ইসলামের শুরুর দিকে কিভাবে দিন অতিবাহিত করতেন?

উত্তর দিবেন যে, অনেকটা কষ্টে। এরপর আমি বলবো, পরবর্তীতে হযরত আবু বকর, উমর, উসমান, আলী, মুয়াবিয়া রা. এর শাসনামলে তারা কিভাবে দিন অতিবাহিত করতেন?

আপনার উত্তর তখন অজান্তেই হবে যে, তারা রাজার হালে জীবন-যাপন করতেন।

কিন্তু তারা সম্পদ পেয়ে কখনো আল্লাহকে ভুলে যান নি। তারা আল্লাহকে আরো বেশি করে স্বরণ করেছেন।

আরো বেশি করে আঁকড়ে ধরেছেন।

আরো বেশি করে আল্লাহকে ভয় করেছেন। এ জন্যই তারা বড় হতে পেরেছেন।

আমাদের জন্য আদর্শ হতে পেরেছেন। আমরা কি তা পারবো?

গাজ্জার জন্য অনুদান

৭ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে তুফানুল আকসা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জায় অসংখ্য মানুষ আহত ও শহীদ হয়েছে। বহু মানুষ নিজেদের ঘর-বাড়ী হারিয়েছে। এছাড়াও বর্তমানে গাজ্জার ৯৮% মানুষ অনাহারে জীবন-যাপন করছে। গাজ্জার মানুষের এই দুঃসময়ে আমরা যদি তাদের পাশে না দাঁড়াই তাহলে কে দাঁড়াবে?

আর-রিহলাহ ফাউন্ডেশন তুফানুল আকসা যুদ্ধের শুরু থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জার জন্য ডোনেশন সংগ্রহ করে আসছে। এই মহান কাজে আপনিও আমাদের সাথে যুক্ত হতে পারেন।

অনুদান দিন

Scroll to Top