ইসলাম পূর্ব আরবের অবস্থা

গাজ্জার জন্য অনুদান

৭ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে তুফানুল আকসা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জায় অসংখ্য মানুষ আহত ও শহীদ হয়েছে। বহু মানুষ নিজেদের ঘর-বাড়ী হারিয়েছে। এছাড়াও বর্তমানে গাজ্জার ৯৮% মানুষ অনাহারে জীবন-যাপন করছে। গাজ্জার মানুষের এই দুঃসময়ে আমরা যদি তাদের পাশে না দাঁড়াই তাহলে কে দাঁড়াবে?

আর-রিহলাহ ফাউন্ডেশন তুফানুল আকসা যুদ্ধের শুরু থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জার জন্য ডোনেশন সংগ্রহ করে আসছে। এই মহান কাজে আপনিও আমাদের সাথে যুক্ত হতে পারেন।

অনুদান দিন

ইসলাম পূর্ব আরবের অবস্থা – প্রাচীনকাল থেকেই আরবরা ছিল কয়েকটি ভাগে বিভক্ত।

ঐতিহাসিকরা বর্ণনা করেন, সেগুলো ছিল, ১. আরব বারেবা ২. আরব আবেরা ৩. আরব মোস্তারেবা।

আরব বারেবা হলো প্রাচীন কিছু গোত্র। যা পরবর্তীতে বিলীন হয়ে যায়। যাদের তথ্যাবলী এখন আর জানা যায় না।

যেমন: কওমে আদ, ছামুদ, তাছাম, ও আমালেকা প্রভৃতি সম্প্রদায়।

আর আরব আবেরা হলো ইয়াশজুব ইবনে কাহতানের বংশধন। এরা এসেছিল ইয়ামেন থেকে। এদেরকে কাহতানী ও বলা হয়।

আরব মোস্তারেবা হলো হযরত ইসমাইল আ. এর বংশধর। এরা আদদানী আরব নামেও পরিচিত।

আরবের গোত্রীয় ধারা

আরবে আবেরা বা কাহতানী আরবরা ছিল দুইটি গোত্রে বিভক্ত। ১. হেমইয়ার ২. কাহতান ।

হেমইয়ার গোত্রের কিছু বিখ্যাত শাখাসমূহ হলো যায়দুন, জমহুর, কোজায়াহ।

আর কাহতান গোত্রের শাখাসমূহ হলো বনু তাঈ, বনু জাযাম, বনু খাজরায, বনু আওস প্রভৃতি। 

এরা পূর্বে সিরিয়ার নিকটে শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করেছিল।

এই শাসনব্যবস্থাকে গাসসানী শাসনব্যবস্থা নামে ডাকা হয়। পরবর্তীতে কবিলাগুলো ইয়ামান থেকে আগমন করে আবরের বিভিন্ন এলাকায় বসবাস শুরু করে।

আরবে মোস্তারেবা বা আদদানী আরব হলো মূলত নবী ইব্রাহিম আ. এর বংশধর। তিনি ছিলেন ইরাকের উয শহরের অধিবাসী।

এই শহরটি ছিল ফোরাত নদীর উপকূলস্থ কুফার অদূরে অবস্থিত। ইব্রাহিম আ. দ্বীন প্রচারের জন্য বিভিন্ন স্থানে গমন করেন।

তেমনি যখন ইব্রাহিম আ. মিসরে গেলেন তখন সাথে তার স্ত্রী সারাও ছিলেন। সারাকে দেখে সেখানকার শাসনকর্তার  অন্তরে কু-বাসনা উদয় হয়।

সে অসৎ উদ্দেশ্যে তাকে স্বীয় দরবারে ডেকে নেয়। বিবি সারা আল্লাহর নিকট দোয়া করার পর আল্লাহ উক্ত শাসনকর্তাকে এমনভাবে পাকড়াও করেন যে, সমস্ত দেহে এক অব্যক্ত যন্ত্রণায় সে চটপট করতে থাকে।

অবশেষে শাসনকর্তা নিজের ভুল বুঝতে পেরে সারার নিকট ক্ষমা চায়।

শেষে উক্ত শাসনকর্তা নিজর কন্যা হাজেরাকে খাদেমা হিসেবে তাকে সারার হাতে তুলে দেন।

সারা হাজেরাকে ইব্রাহিম আ. এর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করিয়ে দেন।

হাজেরার গর্ভে হযরত ইসমাইল আ. এর জন্ম হয়। পরবর্তীতে ইসমাইল আ. এর এর বারোজন পুত্র সন্তান হয়।

তার দ্বারা ১২ টি গোত্রের জন্ম হলো।

সারা সকলেই মক্কায় বসবাস করতো এবং সিরিয়া ও মিসরে ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করতো।

ইসমাইল আ. এর বংশধর ও পরবর্তী প্রজন্ম

হযরত ইসমাইল আ. এর অন্যতম পুত্র কাইদারের বংশধররা মক্কায় বসবাস করতে থাকে। পরবর্তীতে তাদের ব্যপক বংশ বিস্তার হয়।

এখান থেকে রাসূলের পূর্বপুরুষ আদনান আসে। আদনানী আরবদের বংশাবলী এ পর্যন্ত সঠিকভাবে বহাল আছে।

প্রাচীকালে আরবের শাসন পদ্ধতি ছিল গোত্রীয় আকারে। এদের ক্ষমতা ছিল রাজা বাদশাহদের মতো।

সে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে তারা ছিল রাজাদের ন্যায় স্বাধীন।

সে সময় ইয়ামেন, সিরিয়া ও ইরাকে রাজা বাদশাহের প্রচলন ছিল। এ ছাড়া আরবে অন্য কোনো মুকুটধারী রাজা ছিল না।

হযরত ইসমাইল আ. এর দাওয়াত ও তাবলীগের ফলে আরবরা ইব্রাহিম আ. এর ধর্মে বিশ্বাসী ছিল।

কিন্তু দিন যতই যেতে লাগলো ততই তারা দ্বীনের শিক্ষা থেকে দূরে সরে যেতে লাগলো।

একটা সময় বনু খোজায়া গোত্রের সর্দার আমর ইবনে লুহাই এর শাসনব্যবস্থা আসলো।

সে একবার সিরিয়া ভ্রমনে গেল। তখন সেখানে মূর্তিপূজা দেখে ভাবলো নিশ্চয় এটা উত্তম কাজ।

কারণ এই সিরিয়াতে তো বহু নবী আগমন করেছেন।

তাই সে সিরিয়া থেকে ফিরে আসার সময় হোবল নামে একটা মূর্তি এনে কাবা গৃহের মধ্যে স্থাপন করলো। এভাবেই আরবে শিরকের সূচনা শুরু।

আরবে মূর্তিপূজার সূচনা

আমর ইবনে লুহাই মানুষকে মূর্তিপূজার দিকে আহবান করলো। মক্কার জনগণ উৎসাহের সাথে এই আহবানে সাড়া দিল।

মক্কার লোকজনকে মূর্তিপূজা করতে দেখে আরবের অন্যান্য অঞ্চলের লোকেরাও তাদের অনুসরণ শুরু করলো।

কারণ, তারা কাবার রক্ষণাবেক্ষণে থাকা মক্কার লোকদেরকে নিজেদের ধর্মগুরু মনে করতো।

এভাবে আরবে ব্যপকভাবে মূর্তিপূজার প্রচলন ঘটলো।

হোবল ছাড়াও আরবে আরো একটি প্রাচীন মূর্তি ছিল। যার নামা মানাত।

এই স্থাপন করা হয়েছিল লোহিত সাগরের উপকূলে কোদাইদ অঞ্চলের মুসাল্লাল নামক স্থানে।

তায়েফে স্থাপন করা হয় লাত নামক আরেকটি মূর্তি। এরপর ওযযা নামক আরেকটি মূর্তি নাখলা নামক স্থানে স্থাপন করা হয়।

ইসলামের আবির্ভাবকালে আরব ছিল মূর্তিপূজায় জয় জয়কার। তখন সবগুলো বিশ্বাসী ধর্মই ছিল বিলুপ্তির পথে।

মূর্তিপূজকরা নিজেদেরকে ইব্রাহিম আ. এর অনুসারী মনে করলেও তারা ছিল তা থেকে অনেক দূরে।

ইব্রাহিম আ. এর শিক্ষায় মূর্তিপূজার বিন্দুমাত্র দূরতম সম্পর্ক ছিল না।

খৃস্টান ধর্মও তখন ছিল আরেকটি পৌত্তলিক ধর্ম। তারা আল্লাহ ও মানুষকে আশ্চর্যজনকভাবে একত্রিত করে ফেলেছিল।

ইহুদীরা ছিল তখন অহংকারী একটি জাতি। ইহুদী পুরোহিতরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে নিজেরাই প্রভু হয়ে বসেছিল। তারা অসৎ উপায়ে সম্পদ অর্জনকে হালাল মনে করতো।

আর তারা আল্লাহর বিধান পরিবর্তন করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করতো না। এটাই ছিল ইসলাম পূর্ব আরবের অবস্থা

গাজ্জার জন্য অনুদান

৭ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে তুফানুল আকসা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জায় অসংখ্য মানুষ আহত ও শহীদ হয়েছে। বহু মানুষ নিজেদের ঘর-বাড়ী হারিয়েছে। এছাড়াও বর্তমানে গাজ্জার ৯৮% মানুষ অনাহারে জীবন-যাপন করছে। গাজ্জার মানুষের এই দুঃসময়ে আমরা যদি তাদের পাশে না দাঁড়াই তাহলে কে দাঁড়াবে?

আর-রিহলাহ ফাউন্ডেশন তুফানুল আকসা যুদ্ধের শুরু থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জার জন্য ডোনেশন সংগ্রহ করে আসছে। এই মহান কাজে আপনিও আমাদের সাথে যুক্ত হতে পারেন।

অনুদান দিন

Scroll to Top