যাকাত আদায়ের কারণেও বন্দী – সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড উইঘুর কংগ্রেস, ১৪টি এনজিওর সাথে, একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছে ২৯শে আগস্ট ২০২৪ তারিখে।
তারা চীনের জিনজিয়াং এ ক্রমাগত মুসলমানদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে বিশ্ববাসীকে জানানোর চেষ্টা করছে।
জাতিসঙ্ঘ এই বিষয়ে নিশ্চুপ। ফিলিস্তিন, আরাকান, উইঘুর, সোমালিয়া, আফ্রিকাতে যখন প্রেতাত্মারা মানুষের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে তখন এই সংস্থা চুপ থাকে।
তারা তখন শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠায় না। কিংবা ন্যাটোকেও অভিযান চালানোর জন্য বলে না।
কারণ, এই জাতিসংঘ হলো সভ্য পৃথিবীতে অসভ্যদের আগ্রাসনের মুখোশ মাত্র।
পূর্বে তুর্কিস্তানে চীন শত শত মুসলিম উইঘুর বিজ্ঞানীকে বন্দী করে রেখেছে কন্সট্রাকশন ক্যাম্পে এবং রি-এডুকেশন সেন্টারে।
নরওয়ে ভিত্তিক অধিকার সংস্থা উইঘুর হেজেল্পের মতে, ২০০টিরও বেশি নথিভুক্ত মামলা সহ শত শত উইঘুর বিজ্ঞানীকে চীনা কর্তৃপক্ষ বন্দী করেছে।
এর মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হল “তুরসুঞ্জন নুরমামত” এর কাহিনী।
তিনি একজন আণবিক জীববিজ্ঞানী। পড়ালেখা করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। এছাড়াও বিজ্ঞান সম্পাদক হিসাবে কাজ করেছেন একাডেমিক জীবনে।
পড়ুন: পূর্ব তুর্কিস্তানে কাজাখদের উপর চীনের নিপীড়নের কাহিনী
উইঘুর ভাষায় বৈজ্ঞানিক সাহিত্যের অনুবাদের জন্য পরিচিত জনাব নুরমামতকে ২০২১ সালে পূর্ব তুর্কিস্তানের পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তিনি এখন পর্যন্ত নিখোঁজ।
আরো আছে তাশপোলাত তিয়িপ, মিঃ নুরমামত। তারা বিদেশে পড়াশোনা করেছেন এবং উইঘুর শিক্ষাব্যবস্থায় অবদান রেখেছেন।
চীন ক্রমাগত মুসলিমদের উপর অত্যাচারের মাত্রা অতিক্রম করে ফেলেছে।
তারা উইঘুর ভাষা রোধ করার জন্য চীনা ভাষা তাদের উপর চাপিয়ে দিয়েছে। এমনকি তা উইঘুর স্কুলগুলোর সিলেবাসের অন্তর্ভূক্ত করেছে চীন।
যাকাতের অর্থ সংগ্রহের কারণে গ্রেপ্তার
এলিজান ইসমাইল। একজন বিশিষ্ট উইঘুর উদ্যোক্তা। তার দাতব্য কার্যকলাপের জন্য ১৮ বছরের কারাদণ্ড দেয় চীনের আদালত।
তিনি জিনজিয়াং সাদাকেট বায়ো-টেকনোলজি কোং লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা।
স্থানীয় পর্যায়ে তিনি জনহিতকর কাজের জন্য পরিচিত ছিলেন এবং অন্যান্য উদ্যোক্তাদের সাথে দরিদ্রদের আর্থিক সহায়তা প্রদান ও রাজনৈতিক বন্দীদের স্ত্রী ও সন্তানদের দেখভাল করতেন।
২০১৭ সালে তাকে পূর্ব তুর্কিস্তানের রাজধানী উরুমচিতে গ্রেফতার করা হয়।
চীনা কর্তৃপক্ষ তাকে সমাজসেবায় অনুদান সংগ্রহ ও ব্যয়ের কারণে “বিচ্ছিন্নতাবাদ উসকে দেওয়ার” অভিযোগে অভিযুক্ত করে।
চীনে যাকাতের উপর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এটি দাতব্য দানের একটি ঐতিহ্যবাহী মুসলিম রীতি।
ইসমাইল এবং তার সহকর্মীরা জাকাতের সম্পদ সংগ্রহ ও বিতরণের কারণে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
চীনা সরকার উইঘুরদের মধ্যে সাবলম্বীকরণ কার্যক্রমের কারণে তাদেরকে “বিচ্ছিন্নতাবাদ এবং সন্ত্রাসবাদে সহায়তার অভিযোগ” করে।
তাদের দাতব্য কার্যক্রমকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে। যাকাত আদায়ের কারণেও বন্দী হচ্ছে তারা।
উগ্রবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আড়ালে উইঘুর মুসলমানদের প্রতিনিয়্যত নিপীড়ন করে যাচ্ছে ইসলামবিদ্বেষী নাস্তিক চীন।
অসহায় উইঘুর জাতি
২২ আগষ্ট ২০২৪ তারিখে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। তাতে দেখানো হয়েছে, পূর্ব তুর্কিস্তান তথা উইঘুরে মুসলমানদের উপর চীন যেই পরিমাণ জুলুম-নির্যাতন করছে, তা বিস্ময়কর।
চীনে ছোট থেকে ছোট কাজের জন্যও কারাগারে আটক করা হয়। হঠাৎ করে যে কাউকে গুম করে কিছুদিন পর আদালতে তুলে কয়েক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
হিসাব অনুযায়ী, যদি সকল উইঘুরদের কারাদণ্ডের মেয়াদ একত্র করা হয় তাহলে বিস্ময়করভাবে তা ৪.৪ মিলিয়ন বছর অতিক্রম করে।
এতে গড়ে প্রতি ব্যক্তিকে ৫ বছরের কাছাকাছি কারাদণ্ড দেওয়া হয়। উপরোক্ত প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে, চীন কীভাবে গণ কারাদণ্ড, নির্বিচারে আটক, অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে কঠোর শাস্তি এবং উইঘুরদের নিয়মতান্ত্রিক নিপীড়ন বজায় রাখতে কর্তৃত্ববাদী আইনি কৌশল ব্যবহার করে।
এছাড়াও প্রতিবেদনে উইঘুরদের বিদেশে অধ্যয়নরত সন্তানদের জন্য আংটি কেনা বা টিউশন ফি পাঠানোর মতো ছোটখাটো কাজের জন্যও কারাবন্দী হওয়ার উদাহরণ দেওয়া হয়েছে।
চীন সরকার সীমা অতিক্রম করে ফেলেছে। তারা উইঘুর সংস্কৃতি মুছে ফেলা কিংবা তাদের ধর্মীয় কার্যকলাপকে দমন করার জন্য গণহারে যে কাউকে রি-এডুকেশন সেন্টারে পাঠাচ্ছে।
এই ভূমি প্রাচীনকাল থেকেই উইঘুরদের
গত ২৫ আগষ্ট ২০২৪ তারিখে প্রত্নতাত্ত্বিকরা রেডিও ফ্রি এশিয়ায় উত্তর মঙ্গোলিয়ায় ১৪০০ বছরের পুরোনো একটি প্রাচীন শহর আবিষ্কারের ঘোষণা দেয়।
এই শহরটি নির্মাণ করেছে উইঘুররা। তুউল নদী উপত্যকায় তুর্কি এবং মঙ্গোলিয়ান প্রত্নতাত্ত্বিকদের একটি সহযোগী দল দ্বারা আবিষ্কৃত হয় এটি।
এটি উইঘুর সভ্যতার নতুন তথ্য প্রদান করে এবং ঐতিহাসিকভাবেই উইঘুরদের স্বপক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলীল হিসেবে সামনে আসে।
খননকার্য থেকে জানা যায় যে ৬৩০ থেকে ৬৮০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে নির্মিত টোগু বালিক ছিল উইঘুর খাগানাতের প্রথম দিকের শহরগুলোর মধ্যে একটি।
পরবর্তীতে তারা পূর্ব তুর্কিস্তানে স্থানান্তরিত হয় এবং স্থায়ীভাবে বসবাস করে।
উত্তর মঙ্গোলিয়ায় উইঘুরদের এই প্রাচীন সভ্যতার দ্বারা এটি স্পষ্ট যে, তারা এই ভূমির আদি বাসিন্দা।
বর্তমানে চীনা ঐতিহাসিকরা এই প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে, উইঘুররা এই অঞ্চলের অধিবাসী নয়। বরং তারা ৯ম শতাব্দীতে এসেছে। এটি সুস্পষ্ট মিথ্যাচার।
মিথ্যায় ভরপুর চীনের ইতিহাসে রয়েছে অনেক ফাঁক-ফোকর। হান চাইনিযরা আজও দখল করে রেখেছে পূর্ব তুর্কিস্তান, ইনার মঙ্গোলিয়া ও তিব্বত অঞ্চল।
একদিন সবকিছুর বিচার হবে। মুসলমানদের পুনরুত্থান ব্যতিত ইসলামের বিজয় হওয়া সম্ভব নয়।
পূর্ব তুর্কিস্তান থেকে ফিলিস্তিন, আফ্রিকা থেকে বসনিয়া আবার স্বাধীন হবে ইনশাআল্লাহ।
তথ্যসুত্র
Weekly Brief, 30 August 2024 – World Uyghur Congress
Remains of Togu Balık, the “Lost City” of the Turks in the Ancestral Land has been found